রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ট্রেন্ডি ফ্যাশনে ঈদ প্রস্তুতি পান্থ আফজাল

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

আবহমান বাংলার প্রকৃতি ও নর-নারীর সাজবৈচিত্র্যের ভিন্নতা একেক ঋতু ও উৎসবভেদে একেক রকম। ষড়ঋতুর এই সুবর্ণ বাংলায় মানুষের রুচি ও সাজে ফ্যাশন সচেতনতা অনেক পূর্ব থেকেই লক্ষ্য করা যায়। আর বিভিন্ন উৎসবে নিজেকে আগেভাগেই প্রস্তুত করতে বাঙালীর জুড়ি মেলা ভার। কি সাজে, কি পোশাক নির্বাচনে আর কি আপাদ-মস্তকে পরিপাটি- সব বিষয়েই সৌন্দর্যসচেতন নারী-পুরুষের পরিপূর্ণতা হওয়া চাই শতভাগ। প্রকৃতিতে চলছে রূপ বদল আর কয়েকদিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। গরমের অস্তিরতার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে রয়েছে রঙের ছড়াছড়ি আর সেই রঙে নিজেকে রাঙাবেন না তাই কি কখনও হয়? তাই আপনার সাজ পোশাকে থাকুক একটু ভিন্নতা। তবে নিশ্চয় চিন্তায় আছেন এই ঈদে সালোয়ার-কামিজ, সুন্দর পোশাক, জুতা, গয়না অথবা শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে কিভাবে সাজবেন? তবে ঈদ উৎসবে নর-নারী সব সময় বাঙালীয়ানা ধাঁচে পালন করতেই বেশি পছন্দ করে থাকে আর আজকাল তরুণীরা সব ধরনের পোশাক ট্রাই করতেই ভালবাসে। এই ঈদে তরুণ-তরুণীরা পশ্চিমা ধাঁচ ও পূর্ব-পশ্চিমের সম্মিলনে যেসব ফিউশন ড্রেস আছে, সেগুলোও পরতে পারে। ঈদের দিনটি তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আর ঈদসহ পর পর তিনটি দিন বাঙালী তথা সব মুসলমান মনের মতো করে উদ্যাপন ও উপভোগ করে। হাতে আর বেশি সময় নেই। ঈদ-উল-ফিতর দোরগোড়ায়। আপনি অবশ্যই চাইবেন এই বিশেষ দিনে আপনাকে আকর্ষণীয় এবং পারফেক্ট লাগুক। তাই ঈদের জন্য আজই নিজেকে প্রস্তুুত করে ফেলুন।

ঈদে পোশাক নির্বাচন

ঈদের জন্য দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলোতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে পোশাক কেনাবেচা। রাজধানীর ধানমণ্ডি, গুলশান, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বনানী, বারিধারা, ওয়ারি, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট কিম্বা গাউছিয়ায় চলেছে ঈদের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি। ফ্যাশন ডিজাইনার ইমদাদ হক বলেন, পোশাক বাছাই করার সময় অবশ্যই মাথায় রাখুন আপনার সারাদিনের প্ল্যানগুলো। যদি সারাদিনের জন্য বেরনোর পরিকল্পনা থাকে তাহলে অবশ্যই ক্যাজুয়াল পোশাকেই প্রাধান্য দিন। তবে পোশাক বাছাই করতে হবে নিজের চেহারা, গঠন ও সেদিনের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। যেহেতু গরম রয়েছে প্রকৃতিতে সেহেতু যে কোন উজ্জ্বল রংও এই সময়ের জন্য এবং উৎসবের জন্য একদম পারফেক্ট। পছন্দ মতো নীল, হালকা গোলাপি, সাদা, হালকা বেগুনি উজ্জ্বল হলুদ পরতে পারেন। ঈদ উৎসবের কথা মাথায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো তৈরি করেছে নানা রঙের বাহারি পোশাক ও আবহাওয়া উপযোগী পোশাক। এতে রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, গাউন, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, পালাজ্জো, লেঙ্গিস, প্যান্ট ইত্যাদি। ট্রাডিশন লুক আর ঈদ উৎসবের আমেজের নতুনত্ব বা ট্রেন্ডি এসব পোশাকে রয়েছে ভিন্ন ছোঁয়া।

শাড়িতে ঈদ

বাঙালী নারীদের সবচাইতে প্রিয় পোশাক হচ্ছে শাড়ি। আসলে শাড়িই একমাত্র পোশাক যা হাজার মানুষের ভিড়েও আপনাকে আলাদাভাবে উপস্থাপিত করতে পারে। ঠিকভাবে পরতে না পারলেও শাড়ি পরতে ভালবাসে না এমন বাঙালী মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শাড়ি কিনতে যেতে পারেন বসুন্ধরা সিটি, গাউসিয়া, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, মৌচাক, মিরপুর বেনারসি পল্লীতে। তাছাড়া সম্পূর্ণ দেশীয় আমজের জন্য আমাদের বুটিক শপগুলো তো আছেই। আড়ং, কে ক্রাফট, নগর দোলা, বাংলার মেলা, অন্যমেলা, অঞ্জনস এ ট্র্যাডিশনালসহ সব রকম শাড়িই পাওয়া যায়। আর গজ কাপড় কিনতে হলে চলে যান চাঁদনী চক, ইসলামপুর বা আনারকলি সুপার মার্কেটে। শাড়ি বা ব্লাউজ সব রকম গজ কাপড়ই পেয়ে যাবেন এখানে।

সালোয়ার-কামিজ

সদ্য কিশোরী বা কিছু তরুণীরাও আছে যারা শাড়িতে তেমন একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। আর পরার অভ্যাস নেই বলে বেশিক্ষণ শাড়ি পরে থাকতেও পারে না। তাই তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সালোয়ার কামিজ। চিরাচরিত কাটের সালোয়ার কামিজ ছাড়াও এখন নানা ঢঙে ও স্টাইলে পাওয়া যায় এ সালোয়ার কামিজ। নরমাল কামিজের সঙ্গে সালোয়ারের পরিবর্তে চুরিদার, পালাজো,

চোস্ত,

ডিভাইডার

বা প্যান্ট

কাট

সালোয়ার নেয়া যেতে পারে। আজকাল ডিজাইনার পালাজো খুব চলছে। তাই চাইলে ঐ রকম একটা পালাজো কিনে তার সঙ্গে ম্যাচিং কামিজ ও ওড়না করে নিতে পারেন। রেডিমেড সালোয়ার কামিজ কিনতে যেতে পারেন বিপণিবিতানগুলোতে। কিংবা অনলাইনেও কিনতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি। আর নিজে ডিজাইন করতে চাইলে চলে যান চাঁদনী চকে। সেখানে সব ধরনের কাপড়, লেস ও অন্যান্য জিনিস পেয়ে যাবেন সহজেই।

পুরুষের পোশাক

ঈদে হরেক ডিজাইনের পাঞ্জাবি-পায়জামার পাশাপাশি পুরুষদের জন্য বাজারে এসেছে ফরম্যাল ও ক্যাজুয়াল সব স্টাইলিশ পোশাক। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদকে সামনে রেখে তাদের পোশাকের পসরা সাজিয়েছে। ফ্যাশনসচেতন মডেল ও কোরিওগ্রাফার ফিটন খান বলেন, ’ঈদে পোশাক হওয়া চাই ফ্যাশানেবল ও আরামদায়ক। সকালে নামাজের সময় রঙবেরঙ্গের পাঞ্জাবি সকলের প্রথম চাওয়া আর বাকি সময়ে পোশাক হওয়া চাই ট্রেন্ডি। রাজধানীর ধানমণ্ডি, গুলশান, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বনানী, বারিধারা, ওয়ারি, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট কিম্বা গাউছিয়ায় চলেছে ঈদের জন্য ব্যাপক পস্তুতি। আড়ং, কে ক্রাফট, নিত্য উপহার, ফানুস, বিসগ, লণ্ঠন, অতঃপর, নগর দোলা, বাংলার মেলা, অন্যমেলা, অঞ্জনস, বালুচর, মেঘ, বিহঙ্গে ট্র্যাডিশনালসহ সব রকম পোশাক পাওয়া যায়।

ঈদে চাই নতুন জুতা

এই ঈদে সবার অন্যতম চাওয়া নতুন জুতা। ভাল জুতা পাওয়া যাবে বে-এম্পোরিয়াম আউটলেট, বাটা, এপেক্স, ওরিয়ন ফুটওয়ারসহ বিভিন্ন নামকরা জুতা বিপণিবিতানে। সারা দিনের সাজের জন্য বেছে নিন সিøপার বা অল্প উচ্চতার হিল। আর আপনি যদি হাই হিলে অভ্যস্ত থাকেন তাহলে হাই হিলকেও আপনার সঙ্গী করতে পারেন। আর পুরুষরা পাঞ্জাবির সঙ্গে স্যান্ডেল আর ফরম্যাল প্যান্টের সঙ্গে সু পরতে পারেন। এছাড়াও ক্যাজুয়াল ড্রেসের সঙ্গে স্নিকার, সু, স্যান্ডেলও ভালভাবে মানিয়ে যাবে। সোজা কথা আপনি যেটায় আরামদায়ক মনে করেন।

গয়না বাছাই

পোশাকটা বাছাই হয়ে গেলে চিন্তা আসে গয়না নিয়ে। চিন্তার কোন কারণ নেই আছে সহজ সমাধান। এই ঈদে বিভিন্ন মার্কেটে পাবেন পোশাক ম্যাচিং গয়না ও তরুণদের ফ্যাশন অনুষঙ্গ। ফুলের গয়নাও পরতে পারেন ঈদে। কিন্তু ফুলের গয়না খুব বেশি পরতে যাবেন না। আপনি চাইলে মাটির কিংবা এন্টিক গয়না বেছে নিতে পারেন নিজের জন্য। ঈদে রাতের বেলার জন্য নিতে পারেন স্টোন বা পার্লের গয়না। হাতে পরতে পারেন নানা রঙের ও বাহারি ব্রেসলেট। কানে পরে নিতে পারেন স্টোন, পার্লের বা ডায়মন্ডের দুল, আর গলায় জন্য বেছে নিতে পারেন পুতি, স্টোন, পার্লসের গয়না বা একটু মডার্ন মালা গুলো। হাতে পরে নিতে পারেন স্টাইলিশ চুড়ি। সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবির সঙ্গে মাটি, কাঠ কিংবা মেটালের দুল পরুন। গলায় কিছু না পরাটাই ভাল। হাত ভর্তি চুড়ি পরুন। হাতের জন্য বেছে নিন কাঠ, মাটি, মেটাল বা কাঁচের রেশমি চুড়ি। শাড়ি পরলে গলায় পরতে পারেন লম্বা পুতির মালা। হাত ভর্তি পরুন কাঁচের রেশমি চুড়ি।

বাহারি চুলের সাজ

চুলে যদি কোন নতুন হেয়ার কাট করানোর ইচ্ছা থাকে তাহলে আজি করিয়ে ফেলুন, কারণ চুলটা সেট হতে সময় লাগে। বা যদি চুল বেশি কাটা হয়ে যায় তাহলেও এই কয়দিনে বড় হয়ে যাবে। আবার অনেকে চুলে কালার করার ইচ্ছাটাও মনে পুষে রেখেছেন। তাহলে আর দেরি কেন? নিজের পছন্দ অনুযায়ী কালার করে ফেলুন। আপনি যদি চুল খোলা রাখতে পছন্দ করেন তাহলে ব্লো ডাই , আয়রন বা স্পাইরাল রোল করে চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। চুলের এক পাশে ক্লিপ দিয়ে তাজা ফুল গুঁজে দিতে যেন না ভুলে যান। সামনে দুই পাশ থেকে চুল টুইস্ট করে টেনে পেছনে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিতে পারেন।

চোখের সাজ

চোখের সাজের জন্য প্রথমে একটু খানি আই প্রাইমার লাগিয়ে নিন (যদি থাকে) না দিলেও সমস্যা নেই। তাহলে আপনার আই মেকাপ দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হবে। চোখের সাজের জন্য ব্যবহার করুন উজ্জ্বল রংগুলো যেমন ব্রাউন, গোল্ডেন, কপার, সোনালি বাদামি, লালচে সোনালি ইত্যাদি রঙের আইশ্যাডো। এরপর চোখে মোটা করে কাজল লাগান এবং চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগান এক কোট। ব্যাস হয়ে গেল আপনার চোখের সাজ।

ঈদে সর্বদা সঙ্গে রাখুন

যেহেতু এই দু’দিন আউটডোর প্ল্যানটাই বেশি থাকে, তাই বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ব্যাগের ভেতর পানির বোতল রাখুন কারণ বাইরের রোদের তাপও প্রচুর। আর নিজেকে সব সময় পারফেক্ট রাখার জন্য কিছু টুকিটাকি নিজের সঙ্গে রাখুন। যেমন কমপ্যাক্ট পাউডার, কাজল, লিপস্টিক, চিরুনি, ছোট একটি আয়না, পাঞ্চ ক্লিপ, টিস্যু পেপার।

মডেল : অজন্তা, এ্যানি, অহনা ও সজিব

পোশাক : লারিভ, কিড্্স জোন

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: