মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নারী সৈনিক ॥ সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫
  • রীনা আকতার তুলি

বাংলাদেশের নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। নিজেদের শ্রম, মেধা এবং দক্ষতা দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরা এগিয়ে চলছে সর্বক্ষেত্রে। ইতোমধ্যে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জিং এবং দুঃসাহসিক কর্মকা-ে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন নারীরা।

বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর্মি মেডিক্যাল কোরের ৮৭৮ জন নারী সৈনিকের প্রথম ব্যাচের শপথগ্রহণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারীদের জন্য উন্মোচিত হলো সম্ভাবনার নতুন দ্বার।

২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আর্মি মেডিক্যাল কোর সেন্টার এ্যান্ড স্কুলকে ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল এ্যান্ড হেলথ টেকনোলজি’ পরিচালনার অনুমতি দেয়।

দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুঃসময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর্মি মেডিক্যাল কোর আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। যা আজ বাংলাদেশের গ-ি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে এ কোরের অফিসার ও সৈনিকরা নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কঙ্গো, লাইবেরিয়া, আইভরিকো¯ট, পশ্চিম সাহারা ও কুয়েতসহ মোট ৫টি দেশে এ কোরের সদস্যরা চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। মানবতার সেবায় এ কোরের ফিল্ড ইউনিটগুলো বহিরাঙ্গন অনুশীলনে বেসামরিক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ¦ল করেছেন।

এ প্রসঙ্গে নারী সৈনিক মেমোরী হাসান আঁখি বলেন, নাটোর জেলা থেকে ৫৭ জন আর্মি মেডিক্যাল কোরে চিকিৎসকদের সহযোগী পদে আবেদন করি। তাদের মধ্যে আমরা কয়েকজন বান্ধবীও ছিলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আমি পারব।

আমাদের সবার মেডিক্যাল টেস্ট দেয়ার জন্য রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে ডাক পড়ে। বাবা-মাকে না জানিয়েই রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে চলে যাই। মেডিক্যাল টেস্টের পর অনেকেই বাদ পড়ে। এরপর শারীরিক পরীক্ষায়ও কয়েকজন বাদ পড়ে। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পর ১২ জন টিকে যাই। এবার বাবা-মাকে সব খুলে বলি। তারা আমাকে বললেন, তোমার পছন্দ হলে করো। পরিবার থেকেও উৎসাহ পেলাম।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তিন বছরের ডিপ্লোমা প্যারামেডিক্যাল কোর্সের প্রথম বর্ষ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি। এখানে এক বছরের সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণ নিই। এই প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল ড্রিল, ফিজিক্যাল ফিটনেস, ফায়ারিং, বেসিক ম্যাপ রিডিং, গেমস। ডিপ্লোমা প্যারামেডিক্যালের প্রথম বর্ষে ডিপ্লোমা প্যারামেডিক্স কোর্স ওয়ান সম্পন্ন করি। এক বছরের ফলাফলে আমি প্রথম শ্রেষ্ঠ হই।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও এক নারী সৈনিক জেসমিন নাহার পুঠি জানান, সেনাবাহিনীতে যোগদান মানেই নিয়মÑশৃঙ্খলার মধ্যে থাকা, সে সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা তো রয়েছেই। পত্রিকায় যখন দেখলাম আর্মি মেডিক্যাল কোরে চিকিৎসকের সহযোগী পদে নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হবে সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইনি। আমি এবং আমার ভাগ্নি দু’জনেই আবেদন করলাম।

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে আমাদের ডাক পড়ল। মেডিক্যাল টেস্ট, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষার পর দু’জনই ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি নিয়োগ পাই। এক বছর আমাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল ড্রিল, প্যারেড, ফায়ারিং, ম্যাপ রিডিং, খেলাধুলা। এখন মেডিক্যালের ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। আমরা তিন বছরের প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসকদের সহযোগী হিসেবে কাজ করব। কথাটা ভাবতেই মন ভাল হয়ে যায়।

ইতোমধ্যেই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের অনেক নারী। এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজনীন, সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম মহিলা ছত্রীসেনা হওয়ার গৌরব অর্জন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাঈমা হক এবং ফ্লাইং অফিসার তামান্না-ই-লুৎফী প্রথম সামরিক বৈমানিক হওয়ার যোগ্যতা লাভ করেন।

১৯৭১-এর ২১ নবেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী গঠিত হয়। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোন নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা ছিল না। বাংলাদেশের এই প্রথম আর্মি মেডিক্যাল কোরের ৮৭৮ জন নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: