মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ধ্বংস হচ্ছে ভবিষ্যত

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫
  • ইমাদ বাপ্পী

মানুষের কর্মকাণ্ডের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে পরিবেশের ভারসাম্য। সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে মানুষই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আবার পরিবেশ দূষণের জন্যও দায়ী মানুষের কর্মকাণ্ড।

পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ৫ জুন পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সরকার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার পরিবেশ রক্ষার কথা বলা হলেও, মূলত তা আলোচনা-সমালোচনা, গোল টেবিল বৈঠক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তেমন কোন পর্যায়েই এর বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পৃথিবীর অন্যতম ম্যানগ্রোভ বন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী শ্যালা নদীর মৃগামারী এলাকায় ‘এমভি ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে দ্রুত তেল ছড়িয়ে পড়ে নদীতে। জোয়ারের পানিতে ভেসে সুন্দরবনের ভেতরেও ঢুকে যায় ওই তেল। এরপরই নদীর আশপাশে পাওয়া যায় মৃত মাছ ও নানা প্রকার জলজ প্রাণী; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বনাঞ্চল।

শ্যালা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের শরীরে নানা ধরনের চর্মরোগও দেখা গেছে। পরিবেশ বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন গাছের জন্ম নিতে বহু সময় ব্যয় হতে পারে।

এই ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও শুরু থেকেই অবহেলার চিত্র দেখা গেছে। তদন্ত কমিটির বদান্যতায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়নি। প্রথমাবস্থায় শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে রুটটি চালু করে দেয়া হয়। এতে আবারও হুমকির মুখে পড়ে শ্যালা নদী।

অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্র উপকূলে পাইপলাইন ফেটে সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৪ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তেল। এর মধ্যে কালো হয়ে গেছে ৬ কিলোমিটার এলাকার পানি। এই ঘটনায়ও জোয়ারের পানিতে ভেসে ভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে তেল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের এলাকা, হুমকির মুখে পড়ে এলাকার জীববৈচিত্র্য; ভাসতে দেখা গেছে বহু জলজপ্রাণীর মরদেহ।

পৃথিবীজুড়ে এমন আরও বহু ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, খাদ্য ও দৈনন্দিন চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে বাড়ছে শিল্পকারখানা। বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে এর কালো ধোঁয়া। জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব ফেলছে কারখানার কালো ধোঁয়া। আবার কৃষি জমিতে উৎপাদন বাড়াতে পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। এতে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়লেও হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে দ্রুত গলছে হিমালয়ের বরফ। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে অনেক নিচু ভূমি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ গ্রিন হাউস ইফেক্ট; যা ওজোন স্তরেরও ক্ষতি করছে। এর জন্যও দায়ী মানব জাতি; প্রযুক্তিতে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

ব্যবসার প্রয়োজনে গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করছে মানুষ। শূন্যস্থান পূরণে লাগানো হচ্ছে না নতুন কোন গাছ। এতে ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতির অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান; অক্সিজেনের পরিবর্তে বাড়ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ।

অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শহরের আয়তন বাড়াতে গ্রাস করা হচ্ছে গ্রামের খালি মাঠ ও কৃষি জমি; কেটে ফেলা হচ্ছে অসংখ্য গাছ; ধ্বংস হচ্ছে পাখির অভয়ারণ্য। বাসস্থান হারাচ্ছে বনের পশুরা। ফলে জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। প্রতিনিয়তই বিলুপ্ত হচ্ছে নানা প্রজাতির প্রাণী। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ; ধ্বংস হচ্ছে ভবিষ্যত।

প্রতিবছরই জাতিসংঘের শীর্ষ সম্মেলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয় ‘পরিবেশ রক্ষা’। প্রতিবারই আশার বাণী শোনান বিশ্বের শীর্ষ নেতারা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে বিভিন্ন সহায়তাদানের কথা বলা হয় উন্নত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে; নানা উন্নয়নমুখী কর্মসূচীও থাকে এই তালিকায়। তবে এসব কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতির কোনটাই বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না।

মূলত পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে সবচেয়ে বেশি দায়ী উন্নত দেশগুলোর তথাকথিত আধুনিকতা। প্রতিনিয়ত কলকারখানা বাড়াচ্ছে তারা। পরিবেশ রক্ষার নামে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের আবিষ্কৃত নানা প্রযুক্তি। উন্নত রাষ্ট্রের নানা গবেষণায় গিনিপিক হিসেবে ইঁদুরের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে অনুন্নত দেশের মানুষ।

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: