মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্লাটার বহাল থাকছেন সভাপতি হিসেবে!

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

বিশেষ কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তিনি, অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া ও কাতার,

ঘুষের কথা স্বীকার সাবেক ফিফা কর্মকর্তার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্ব ফুটবল থেকে সেপ ব্লাটার যুগের অবসান হয়েছে। মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে ফিফা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু সত্যিই কি ব্লাটারের শাসনামল শেষ হয়েছে? এমন প্রশ্ন এখন সবার কাছে। তবে বাস্তবিক দিক দিয়ে এখনও ফিফা প্রধান পদে বহাল আছেন সুইস এই ফুটবল বোদ্ধা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃতিতে জানা গেছে, নতুন সভাপতি না হওয়া পর্যন্ত ফিফা প্রধানের দায়িত্ব পালন করে যাবেন ব্লাটার। আর সেটা হতে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কেননা এর আগে বিশেষ কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন সভাপতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। যে কারণে এখনও ফিফা প্রধান হিসেবে বহাল আছেন ব্লাটার।

ব্লাটার মসনদ ছাড়লেও ফিফার নিয়মানুযায়ী নতুন কংগ্রেস না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। আর পরের ফিফার সাধারণ কংগ্রেস হবে মেক্সিকো সিটিতে ২০১৬ সালের ১৩ মে। এ কারণে ফিফার নির্বাহী কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষ কংগ্রেস ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন ব্লাটার। বিশেষ এই কংগ্রেস বসতে পারে আগামী ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে। আর এই সময় পর্যন্ত মসনদে থাকছেন ব্লাটারই। যে কারণে পদত্যাগের ঘোষণার পরও বুধবার অফিস করেছেন ব্লাটার। নিজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী সভাপতি না হওয়া পর্যন্ত ব্লাটারই ফিফার সভাপতি থাকছেন। ফিফার ওই মুখপাত্র বলেছেন, সবকিছু আগের মতোই চলছে। যতক্ষণ নির্বাচনের মাধ্যমে তার (ব্লাটার) উত্তরসূরি না আসেন, ততদিন তিনিই ফিফা প্রেসিডেন্ট।

রেকর্ড টানা পঞ্চমবার ফিফা সভাপতি হওয়ার মাত্র চারদিনের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্লাটার। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সবাই সমর্থন না করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে ব্লাটারের উত্তরসূরি পেতে হলে আরও অন্তত ৬ থেকে ৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

ফিফার সীমাহীন দুর্নীতি নিয়ে যে তোলপাড় হচ্ছে তার শীর্ষে আছে ভেন্যু নির্বাচন। এ নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার। এই বিতর্কে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। তবে এবার বেরিয়ে আসছে ভেন্যু নির্ধারণে দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স ও ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভেন্যু নির্ধারণেও হয়েছে দুর্নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এ কথা স্বীকার করেছেন ফিফার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা চাক ব্ল্যাজার। ফিফার এই কর্মকর্তার জবানবন্দীর তথ্যকে সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। ব্ল্যাজারের দেয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই তদন্তের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন ৭০ বছর বয়সী ব্ল্যাজার। সেই সুবাদে ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন, যিনি এখন দুর্নীতির দায়ে সাজার অপেক্ষায় আছেন। সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদ-ে দ-িত হতে পারেন তিনি। ব্ল্যাজারের আদালতে দেয়া তথ্য বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। তার সঙ্গে এই কাজে আর কে জড়িত ছিলেন এ বিষয়ে কোন তথ্য সে নথিপত্রে নেই। জবানবন্দীতে ব্ল্যাজার বলেছেন, আমি ১৯৯২ সালে অন্যদের সঙ্গে মিলে ঘুষের বিনিময়ে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছি।

তিনি একই রকমের তথ্য দিয়েছেন ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও। ওইবার স্বাগতিক নির্ধারণে ১০ মিলিয়ন ডলার ঘুষের লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা এমন তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। ঘুষের বিনিময়ে স্বাগিতক নির্বাচন নিয়ে তোলপাড় হওয়ায় এখন ২০১৮ সালে রাশিয়া ও ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ হওয়া নিয়ে সংশয় আছে। অবশ্য দুটি দেশই ঘুষের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, রাশিয়ায় বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে হয় তো কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু কাতারে বিশ্বকাপ নাও হতে পারে। তবে ব্লাটারের পদত্যাগের ঘোষণায় পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টটি আয়োজনের স্বত্ব সহজে ছাড়বে না তারা।

ব্লাটার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পরপরই ইংলিশ ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান গ্রেগ ডাইক কাতারকে বিশ্বকাপের আয়োজক করার ভোট প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়েছিল দাবি করে সেটা নতুন করে আয়োজনের সম্ভাবনার কথা বলেন। ডাইক এই মন্তব্য করার পরপরই মুখ খোলেন কাতার ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ হামাদ বিন খালিফি বিন আহমেদ আল-থানি। ডাইকের তীব্র সমালোচনা করে কাতারের ফুটবল প্রধান জানান, প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই এই ইংলিশ কর্মকর্তা এমন মন্তব্য করেছেন।

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: