কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিবির কর্মীর স্বীকারোক্তি, জামায়াতের উপজেলা আমিরসহ আটক ৭

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫
  • কুমিল্লায় নৈশকোচে পেট্রোলবোমা হামলা ॥ ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ৪ জুন ॥ পবিত্র শব-ই-বরাতের রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় নৈশকোচে দুর্বৃত্তদের হঠাৎ পেট্রোলবোমা হামলায় সাত যাত্রী দগ্ধের ঘটনায় কুমিল্লাসহ সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে জামায়াত-শিবির এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার। নৃশংস এ ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে এএসআই প্রবীর কুমার রায় বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে জামায়াতের চান্দিনা উপজেলা আমিরসহ সাতজনকে আটক করে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করেছে। এদের মধ্যে চান্দিনার বাগুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার উত্তর শোলাদিয়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে শিবিরকর্মী আবদুর রাজ্জাক হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় লোকজন, গোয়েন্দা ও তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ের বিষয়, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধকরণ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিতকরণ, নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়াসহ একাধিক কারণে জামায়াত-শিবিরসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। স্থানীয়রা জানান, হরতাল-অবরোধ কিংবা আন্দোলনের কোন ঘোষণা না থাকা সত্ত্বেও পবিত্র শব-ই-বরাতের রাতে মুসলমানরা যখন আল্লাহর দরবারে এবাদত-বন্দেগীতে মগ্ন ছিল, ঠিক তখনই নরপিশাচদের এ ধরনের ঘটনা দেশ-জাতিকে হতবাক করেছে।

সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬ জুন বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তাঁর এ সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে জাতীয় মহাসড়কে পূর্বের ধারাবাহিকতায় জামায়াত-শিবির নৈশকোচে পেট্রোলবোমা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ের বিষয়টি সামনে চলে আসায় এবং জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধকরণের বিষয়টিও আলোচনায় থাকায় জামায়াত-শিবিরের হাইকমান্ডের নির্দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়। অপর একটি সূত্র জানায়, দেশব্যাপী অরাজকতা-অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএস কিংবা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এমন অপকর্ম ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধতন একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত নরেন্দ্র মোদির সফর, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল-নিষিদ্ধকরণ, জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ের বিষয়টি এগিয়ে আসায় জামায়াত-শিবির তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এদিকে নৈশকোচে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী চান্দিনাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বুধবার রাতভর চিরুনি অভিযান চালিয়ে চান্দিনা উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল বাশারসহ জামায়াত-শিবিরের সাত নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটকতরা হলোÑ জামায়াতের চান্দিনা উপজেলা আমির সাতগাঁও গ্রামের মাওলানা আবুল বাসার (৬০), চান্দিনার করতলা গ্রামের মহিব উল্লাহ (৫২), তার ভাই ওবায়েদ উল্লাহ (৪৭), বাকশার গ্রামের জামালের ছেলে ফারুক হোসেন (২৫), জামিরাপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে নয়ন (৩৫), পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার বাগমারা গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে ও বরকামতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম (৪৩) ও নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার উত্তর শোলাদিয়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে আবদুর রাজ্জাক (৩৫)।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেন জানান, জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শিবিরকর্মী রাজ্জাক ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারার বিধানমতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ জানান, আবদুর রাজ্জাক ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ৭-৮ জনের নাম প্রকাশ করেছে। পত্রিকায় জামায়াত নিষিদ্ধের সংবাদ দেখে সে ও তার সহযোগীরা ওই রাতে ২-৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে এ পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনা ঘটায়। শিবিরকর্মী আবদুর রাজ্জাক চান্দিনার বাগুর এলাকায় বসবাস করে এবং একটি ডিটারজেন্ট পাউডার কোম্পানির সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত বলে জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ গোলামুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার থেকে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৭ জুন রবিবার ঘটনাস্থলে প্রকাশ্য তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে চান্দিনা উপজেলা গেট ও পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্রের সামনে কাঠেরপুল এলাকায় যাত্রীবাহী ইউনিক পরিবহনের নৈশকোচে পেট্রোলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সাতজন দগ্ধ হন।

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: