কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীকে ফেরত আনতে সহায়তা চাইবেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫
  • নরেন্দ্র মোদি আসছেন কাল ॥ একান্ত বৈঠক হবে

তৌহিদুর রহমান ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হবে। ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীকে ফিরিয়ে আনতে মোদির সহায়তা চাইবেন শেখ হাসিনা। এদিকে ১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ভাষণের রেকর্ড শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন নরেন্দ্র মোদি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই খুনী ভারতে পালিয়ে আছে বলে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। এই দুই খুনী হলেন রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ও ক্যাপ্টেন (অব) আবদুল মাজেদ। বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই এই দুই খুনীর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাসও দেয়া হয়েছে। তবে ওই দুই খুনীর অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ভারত। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় আসছেন। ঢাকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একান্ত বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই খুনীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মোদির সহযোগিতা চাইবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এদিকে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা সফরে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে সম্মাননা দেন। সেদিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের তৎকালীন ইতিহাসের বৃহত্তম জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য ভারতবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন কবি গুরুর ভাষায়। কবি গুরুর কবিতার অংশ উদ্ধৃত করে তিনি বলেছিলেন, ‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি/দেবার কিছু নাই/আছে শুধু ভালোবাসা/দিয়ে গেলাম তাই’। কলকাতায় শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সে ভাষণের একটি রেকর্ড ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে এসে শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন। আগামী শনিবার বিকেলে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার হাতে ঐতিহাসিক সেই ভাষণের রেকর্ড হস্তান্তর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অপরদিকে শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক ছবি উপহার দেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত বৈঠকে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। কেননা বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে। মোদির এবারের সফরে তিস্তা চুক্তি না হলেও এ বিষয়ে অগ্রগতি চায় বাংলাদেশ। সে কারণে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে তিস্তা ইস্যুটি প্রাধান্য পাচ্ছে। একই সঙ্গে ফেনী নদীর পানি বণ্টন নিয়েও দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হবে।

সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে দুই দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১১টি বিষয় আলোচনায় স্থান পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন, ৩৮তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক, গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, টিপাইমুখ বাঁধ, দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সুরমা-কুশিয়ারা নদী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

মোদির ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে ১৪টি বিষয় আলোচনার এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ভূখ-ে ভারতের ছিটমহলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা জোরদারে জাল মুদ্রা ও নোট নিয়ন্ত্রণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুইটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

ঢাকায় মোদির সফরের সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় আলোচনায় রাখা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল নিয়ে আলোচনা হবে। এই দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কলকাতায় যাওয়া-আসা করবে। এছাড়া ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। অপরদিকে বর্তমান মৈত্রী এক্সপ্রেসের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন আরও সহজ করার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পাবে।

দুই দেশের মধ্যে সড়ক পথে আরও যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সেবা, ঢাকা-শিলং বাস সেবা চালুর জন্য দুটি চুক্তি সই হবে। এছাড়া রাজশাহী-মালদহ-মুর্শিদাবাদ, খুলনা-কলকাতা বাস সেবা চালুর জন্য আলোচনা হবে। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিকাশে তিনটি সমঝোতা চুক্তি সই হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতের জামিয়া মিল্লা ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হবে। এছাড়া সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতের জাতীয় সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মধ্যে একটি চুক্তির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জামিয়া মিল্লা ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের সময় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত থাকবেন।

আগামীকাল শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসছেন। দুই দিনের এই সফরে তিনি আগামীকাল সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছবেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে মোদির। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে তিনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সফরের দ্বিতীয় দিন রবিবার তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন করবেন।

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: