কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লাস্যময়ী দীপিকা

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫

সন্ধ্যার আলো ঝলমল বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির স্টেজে উঠেই বললেন, অনেক ভাল লাগছে বাংলাদেশে আসতে পেরে। এটি আমার বাংলাদেশে প্রথম সফর। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন। তারপর বাংলাদেশী লাক্স তারকাদের নিয়ে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আলো ছড়ালেন দর্শকদের উদ্দেশ্যে। যেখানে প্রতি মুহূর্ত দর্শকরা তাঁর কথা উপভোগ করেছেন এবং বাংলাদেশী শিল্পীরা বাংলা ও হিন্দী গানের সঙ্গে নেচে তাঁকে বিমোহিত করেছেন। তারপর দর্শকদের সঙ্গে নানান আলাপচারিতায় বলেন ‘বাংলাদেশে আমার প্রথম সফর হওয়ায় আমি দারুণ খুশি এবং নিজেকে ধন্য মনে করছি।’ এবার বাংলাদেশ ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছি না বলে মন খারাপ লাগছে তবে আশা করছি আবারও আসব সবুজ এই দেশে এবং উপভোগ করে যাবো এর সৌন্দর্য এবং বুক ভরে গ্রহণ করব এখানকার মানুষের আতিথেয়তা।

দীপিকা পাডুকোনের বাদামি চোখ জোড়ায় নাকি জাদু আছে। ক্যারিয়ারের সেই শুরু থেকেই শাহরুখ, ফারাহ ও মনীষ মালহোতারা বলতেন সেই কথা। হয়ত সেই টানা টানা চোখের মায়াবী চাহনি দেখে ওম শান্তি ওম ছবির সেটে বসেই জাভেদ আখতার লিখেছিলেন ‘আখো মে তেরি আজব সি আজব সি’ গানটি। কিন্তু দীপিকা তো ছিল দুর্দান্ত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। বাবার মতোই ব্যাডমিন্টনে খ্যািত ছিল সেই স্কুলে পড়াকালীন সময়ে। তবে ব্যাডমিন্টন দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন কখনই ছিল না তাঁর। শখ ছিল মডেলিংয়ে। তাই ব্যাডমিন্টন ছেড়ে মডেলিংয়ে নাম লেখান তিনি এবং সেই সুবাদে ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের হাত ধরে বিটাউনে তাঁর পদচারণা শুরু হয়। ওম শান্তি ওম ছবি দিয়ে প্রথম চলচ্চিত্র অভিষেক হয় দীপিকার। যেখানে তিনি শাহরুখের বিপরীতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শক মন জয় করে নেন এবং সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি বলিউডকে কাঁপিয়ে তোলার জন্যই এসেছেন। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা রীতিমতো তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন এবং প্রথম ছবি দিয়ে দীপিকাও অর্জন করে নেন ফিল্ম ফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। তারপর তিনি বেশকিছু ছবিতে কাজ করেন। তবে কিছু ছবি বক্স অফিসে ঝড় তুলতে না পারলেও অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তিনি কুড়িয়ে নিয়েছেন দর্শক ভালবাসা ও সমালোচকদের প্রশংসা। বক্স অফিসে তাঁর ছবি সফলতা না পাওয়ায় দীপিকা কিছুটা আশাহত হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁর সেই আশাহত বেশিদিন থাকেনি। কারণ দীপিকা নতুন উদ্যমে নিজেকে তৈরি করেন এবং বেশকিছু ছবিতে কাজ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ককটেল, রেস ২, দেশী বয়েজ, চেন্নাই এক্সপ্রেস, ইয়ে জাওয়ানি হে দিওয়ানিসহ বেশকিছু ছবি। যেগুলো ব্যবসা সফল ছবি হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে এবং বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল। যার জন্য ২০১৩ ও ২০১৪ সারা বছরজুড়েই দীপিকা আলোচনায় ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর মুক্তি পাওয়া পিকু ছবিটিও বক্স অফিসে এখন পর্যন্ত এ বছরের সেরা ছবির খেতাব পেয়েছে। এই নিয়ে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলেন, দীপিকা প্রতিনিয়তই ভাল অভিনয় করে সবাইকে মুগ্ধ করছে কিন্তু তাঁর মতো শিল্পীর ঝুড়িতে ছবির সংখ্যা খুব বেশি না। যা বিটাউনে কদাচিৎ ঘটনা। বোদ্ধাদের এই যুক্তিকে দীপিকা সাদরে গ্রহণ করে বলেন, ‘এত সাফল্যের পরও আমি নিজেকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতে চাই না।’ কারণ আমি জানি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতি শুক্রবার ভাগ্য পাল্টে যায়। তাই আমি বোধ করি মাটির কাছাকাছি থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫

০৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: