কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিদ্যুতখাতে চার সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫

রশিদ মামুন ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে দেশটির দুটি শিল্প গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুত খাতে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ভিত্তিতে ভারতীয় আদানী এবং রিলায়েন্স গ্রুপ বাংলাদেশে বড় বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণ করবে। বিদ্যুত বিভাগ সূত্র বলছে দুটি এমওইউ’র বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ এবং ভারতীয় পক্ষ একমত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অন্য দুটি এমওইউ’র বিষয়ে আবার আলোচনা হবে।

এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষ যে দুটি বিষয়ে একমত হয়েছে তা হলো আদানী গ্রুপ বাংলাদেশের মহেশখালীতে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবে। আর ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স বাংলাদেশে এলএনজিচালিত তিন হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, ভারতের সরকারী খাত অনেক আগে থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। এখন ভারতের জাতীয় কোম্পানি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে যৌথভাবে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটির দরপত্র আহ্বান করেছে ভারত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি। এছাড়া বাংলাদেশ এখন ভারত থেকে দৈনিক ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি করছে। এর মধ্যে ২৫০ মেগাওয়াট সরকারী খাত থেকে আর ২৫০ মেগাওয়াট বেসরকারী খাত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। দেশটির বেসরকারী খাত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানির আলোচনা চলছে। সরকারের গত মেয়াদে ভারত সরকারের সঙ্গে সমঝোতার আলোকে দুই দেশ বিদ্যুত জ্বালানির সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এর ভিত্তিতে গঠিত দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি সময়ে সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে। দুই দেশের সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে কাজগুলো বাস্তবায়ন হয়। তবে এবারই প্রথম ভারতীয় বড় কোন শিল্প উদ্যোক্তা দেশে সরাসরি বিনিয়োগ করছে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বুধবার জনকণ্ঠকে জানান, আমরা চারটি এমওইউ নিয়ে আদানী এবং রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করছি। এর মধ্যে দুটি এমওইউ’র বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। আলোচনা চলছে বৃহস্পতিবারের আলোচনায় অন্য দুটি এমওইউকে প্রাধান্য দেয়া হবে। আশা করা হচ্ছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে এমওইউগুলো স্বাক্ষর হবে। দুটি শিল্প গ্রুপের প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য ঢাকায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, আগামী ৬ জুন শনিবার এসব এমওইউ স্বাক্ষরের সময় নির্ধারণ করা রয়েছে। এজন্য বিদ্যুত বিভাগ, রিলায়েন্স এবং আদানী প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবকিছু ঠিকভাবে এগুলো একসঙ্গে এটিই হবে দেশের সব থেকে বড় বিদেশী বিনিয়োগ। প্রসঙ্গত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬ জুন বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার সঙ্গে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ আসবেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, রিলায়েন্স মহেশখালী পয়েন্টে এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে দেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিড থেকে গ্যাস নিয়ে মেঘনাঘাটে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেঘনাঘাটে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রর জন্য গ্যাস সরবরাহ করতে হলে গ্যাস খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। আশপাশের বিদ্যুত কেন্দ্র এবং শিল্প কারখানার কেউ আর গ্যাস পাবে না। এছাড়া এই এলাকায় এত বড় বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য গ্যাস সরবরাহ উপযোগী কোন পৃথক পাইপলাইনও নেই। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে রিলায়েন্সের এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়া হয়। তাদের অন্য সুবিধাজনক স্থানে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করে দেয়া না হলেও সরকারের পক্ষ থেকে মহেশখালীকে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে বলে রিলায়েন্সকে জানানো হচ্ছে। রিলায়েন্স এখন পর্যন্ত আলোচনায় বাংলাদেশে এই শর্তে কেন্দ্র নির্মাণে সম্মতি দিয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খসড়া চারটি এমওইউ নিয়ে আলোচান হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ আদানী গ্রুপের দুটি প্রস্তাব। এর একটি হলো ভারতের যে কোন স্থানে স্থাপিত আদানীর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুত আমদানির খসড়া চুক্তি। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছেÑ ভারতের যে কোন রাজ্যে আদানী প্রতিটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণ করবে, যা থেকে প্রায় পুরো বিদ্যুত বাংলাদেশে রফতানি করা হবে। তবে দুই কেন্দ্রর ১৮ শতাংশ বিদ্যুত ভারতের যে রাজ্যে কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে তাদের দিতে হবে। এছাড়া আদানী গ্রুপ কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রতিটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এছাড়া ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ বাংলাদেশে এলএনজিভিত্তিক তিন হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত কেন্দ্র এবং দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) ক্ষমতার ভাসমান পুনঃগ্যাসিকরণ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট-এফএসআরইউ) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি ভারতের পূর্বাঞ্চলে নিজেদের জলবিদ্যুত কেন্দ্র হতে বাংলাদেশে বিদ্যুত রফতানির আগ্রহ জানিয়েছে। আজ এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত তার এ এলাকায় উৎপাদিত বিদ্যুত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পরিবহন করতে চায়। এজন্য ভারতকে বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন নির্মাণে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫

০৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: