মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

করের আওতা বাড়ছে যেসব খাতে

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করদাতা ও করের হার বাড়ানোসহ নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশের রাজস্ব আহরণকারী এই সংস্থাটি। রাজস্ব আহরণে করের হার না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী নিজেও করের আওতা বাড়ানোর পক্ষে। তাই রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে করের আওতা বাড়ানোর ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপজেলায় কর অফিস স্থাপন ও বাড়িওয়ালাদের করের আওতায় আনাসহ নানান উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস স্থাপন ॥ নতুন কর অফিস স্থাপনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কর প্রদানে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে করের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রত্যেক উপজেলায় আয়কর অফিস স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ৬২টি উপজেলায় এ অফিস রয়েছে। খুব শীঘ্রই সব উপজেলা তথা ৪৮৮টি উপজেলাতেই কর অফিস স্থাপন করা হবে।

সরকারী চাকরিজীবীদের ভাতার ওপর কর আরোপ ॥ আগামী অর্থবছর থেকে সরকারী চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরপর থেকেই তাদের ভাতাও করের আওতায় আসতে পারে। বর্তমানে সরকারী চাকরিজীবীরা মূল বেতন বাবদ যে টাকা পান, তার ওপরই মূলত কর দেন। মূল বেতনের বাইরে ভাতা থেকে যে আয় হয় তা ছিল করমুক্ত। তবে এবার নতুন বাজেটে মূল বেতনের সঙ্গে ভাতাও করের আওতায় আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রস্তবনাও দিয়েছে এনবিআর।

ন্যূনতম করের পরিমাণ বৃদ্ধি ॥ বর্তমানে জেলা সদরের পৌরসভা ও অন্যান্য এলাকার করদাতাদের জন্য পৃথক ন্যূনতম করহার রয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত সামর্থ্যবান করদাতাদের জন্য বছরে সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা, জেলা শহরে বসবাসকারীদের ২ হাজার টাকা ও অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে করের এ তিন স্তর ও সর্বনিম্ন করের হার পরিবর্তন করেছে এনবিআর। আগামী অর্থবছর থেকে সব করদাতাকে সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

রফতানি আয়ে উৎসে কর বৃদ্ধি ॥ করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের উৎসে কর দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দশমিক ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে এই প্রস্তবনা থেকে আরও বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, যা বাজেট প্রস্তাবনায় ঘোষণায় আসতে পারে বলে। আর এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্য রফতানি আয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে।

করে বাড়তে পারে আরও যে খাতে ॥ মোবাইল ফোনসেট আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়। এবারের বাজেটের পর এ খাতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর বসতে পারে। আমদানিতে অগ্রিম আয়কর বসতে পারে চাল, গম, ভুট্টা বীজ, সানফ্লাওয়ার অয়েল, চিনি, ন্যাপথলিন, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ঝুট, এমএস রড, কম্পিউটার এক্সেসরিস, মোবাইল সেট, মডেম, রাউটারসহ আরও বেশকিছু পণ্যে। এছাড়া সব ধরনের ব্র্যান্ডের বিড়ি-সিগারেটের ওপর শুল্ক করহার বাড়তে পারে।

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫

০৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: