মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তারুণ্যের জীবনযাপন

প্রকাশিত : ২ জুন ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

গরমটা একটু বেশিই পড়েছে আজকাল। অতিরিক্ত গরমে জনজীবন একেবারেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যারা প্রতিদিন কাজের জন্য বাইরে যান তাদের এবং শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই খারাপ। শীতকালের চেয়ে গরমকালটা মনোরম হলেও অনেক সময়েই প্রচণ্ড গা-জ্বালানো গরম পড়ে। বিশেষ করে আমাদের দেশের গরমকালটা একটু কষ্টকরই। তাই গরমকালে কীভাবে সুস্থ সবল ও ভাল থাকা যায় সেই উপায়গুলো জেনে রাখা আমাদের উচিত। এই সময়ে জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, বাইরে ঘোরাফেরা, স্বাস্থ্য আর ঘরের পরিবেশ করে নিন নিজের অনুকূলে। তাহলে এই গরমেও আপনি পাবেন শান্তি। গরমকালের ক্রমবর্ধমান গরমের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রাকে মানিয়ে নিতে হয়, আর শরীর যদি সেটা মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় তবেই আমরা অসুস্থ হয়ে পরি। তাই গরমের সময় যদি কোন কাজে অথবা বেড়ানোর জন্য কোথাও ভ্রমণ করতে হয়, তবে অবশ্যই কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চলা উচিত। আর এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যে পরিবারের সবাই এই অতিরিক্ত গরম মোকাবেলা করার ক্ষমতা আছে কিনা। যখন অসহ্য গরম থাকে তখন খুব প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে না ঘোরাই উচিত। যদিও শরীরের বেশ শক্তিশালী নিজস্ব ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও সবকিছুরই তো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ শরীর অত্যাধিক গরম হয়ে গেলে হিটস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে যার, ফলে অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এখানে গরমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কিছু উপায় জানাচ্ছিÑ

আরামদায়ক পোশাক পরিধান

গরমকালে আরামদায়ক সুতি পোশাক এবং মোজা পরলে তা তাপমাত্রা ও ঘাম প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কারণ এই সময় অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক পরলে অস্বস্তির সৃষ্টি হবে। যাঁরা বাইরে কাজ করেন, তাঁদের জন্য সুতি ও ভয়েল কাপড় বেশি উপযোগী। মেয়েরা ফতুয়া বা সালোয়ার-কামিজ বেছে নিতে পারেন। ব্লক প্রিন্টের নক্সা করা পোশাক পরতে পারেন গরমে। ঘরে পাতলা কাপড়ের টপ পরতে পারেন। ছেলেরা ফতুয়া বা টি-শার্ট পরতে পারেন। যেসব অফিসে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আছে, সেখানে ফুলহাতা শার্ট পরা গেলেও বাড়ি ফেরার সময় গরম লাগতে পারে। তাই বেছে নিতে পারেন হাফহাতা শার্ট। পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা রং বেছে নিন। হালকা রঙের কাপড় শরীরে তাপ ধরে রাখে না। আর এতে মনেও আসে প্রশান্তি।

বেশি বেশি পানি পান

একমাত্র পানিই অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে দেহকে রক্ষা করতে পারে। তাই গরমে বাইরের কোন কাজ বা ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই বার বার পানি বা অন্য কোন তরল পানীয় পান করে দেহকে আর্দ্র রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পানি পান বিষয়টি শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়ে যাওয়ার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত এই গরমে পানি খাওয়া বাড়াতে হবে সবার জন্য। সাধারণত দিনে সাত-আট গ্লাস পানি খাওয়ার কথা থাকলেও, এ সময় ১০-১২ গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

গরমে চাই সুস্থতা

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অনুপকুমার সাহা বলেন, ‘গরমের সময় জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, পেটের পীড়া ও ত্বকের কিছু সমস্যা হতে পারে। শ্বাসকষ্টের কোন কোন রোগীর দুর্ভোগ বাড়তে পারে তাপমাত্রার এ পরিবর্তনে।

তবে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এড়াতে পারলে পেটের পীড়া থেকে বাঁচা যায়। ’যদি দেখা যায় অতিরিক্ত ঘাম, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

তপ্ত সূর্যে সানগ্লাসের ব্যবহার

দিনের মধ্যভাগে সূর্যের তাপ অনেক বেশি থাকে। তাই খুব ভাল হয় যদি এই সময় এর থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়। তাপমাত্রা যখন বেশি থাকে বাইরে, তখন ভেতরে থাকাই উত্তম। যদি সম্ভব হয় ভাল মানের একটি সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। যার ফলে চোখকে সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। বাইরে বেরোলে সঙ্গে রাখুন ছাতা, সানগ্লাস, সানব্লক, ক্রিম, বিশুদ্ধ পানি। আর প্রয়োজন ছাড়া প্রচণ্ড রোদে বাইরে না যাওয়াই ভাল।

অন্দরে-আরাম

রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের প্রধান ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরীন চৌধুরী বলেন, ‘গরমের এই সময়ে অন্দরসাজে একটু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এতে ঘরে থাকবে প্রশান্তি।’ এই সময়কার অন্দরসজ্জার ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ঘরে কার্পেট রাখলে তা এখন সরিয়ে ফেলুন। এর চেয়ে বরং বসার ঘরের মেঝের একপাশে রাখতে পারেন শীতলপাটি। শীতলপাটিতে রাখতে পারেন ছোট-বড় নানান আকারের কুশন। ঘরে হালকা রঙ্গের পর্দা ব্যবহার করুন। পর্দার কাপড়ে সাদার মধ্যে ব্লকপ্রিন্ট বা এমব্রয়ডারি করা থাকতে পারে অথবা সেটিতে বর্ডার থাকতে পারে। আর পর্দা অবশ্যই হতে হবে সুতি কাপড়ে তৈরি। ঘরে খুব বেশি রোদ এলে পর্দার পেছনদিকটা ভারি কাপড়ে তৈরি করুন আর সামনেরটায় থাকবে সাদা কাপড়। বাসায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র না থাকলেও পেতে পারেন ঠা-া আমেজ। এক বোতল হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ গোলাপজল মিশিয়ে নিয়ে তা স্প্রে করে দিন ঘরের পর্দায়। এতে ঘর ঠা-া থাকার পাশাপাশি ঘরে পাবেন সুগন্ধি।

আপনার বাসাটি উঁচুতলায় হলে ঘরের জানালা সারা দিনই খোলা রাখতে পারেন। তবে আপনি যদি হন প্রথম থেকে তৃতীয় তলার বাসিন্দা, সে ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ঘরের জানালা খোলা রাখতে পারেন। সকাল ১০টার পর, বিশেষ করে যে সময়টায় মানুষের ব্যস্ততা বেশি থাকে, সেই সময়ে যতটা পারা যায়, ঘরের জানালা কম খুলুন। তাতে ঘরে ধুলাবালি ঢুকবে কম। ঘরে কম আসবাব থাকলে ধুলা জমবে কম। শোবার ঘরে বিছানার চাদরের ওপর বিছিয়ে দিন শীতলপাটি। ভেজা কাপড় দিয়ে পাটি ভিজিয়ে নিয়ে ঘরের ফ্যান ছেড়ে রাখুন। যে কোন ঘরের কোণে খানিকটা জায়গা পেলে সেখানে মাটির বড় চাড়িতে পানি রেখে সেটিতে ভাসমান মোমবাতি, গোলাপ, গাঁদা ফুলের পাপড়ি, কচুরিপানা বা অন্য জলজ উদ্ভিদ রাখুন। তবে ঘরে শিশু থাকলে বা ঘর ছোট হলে এটি রাখতে পারবেন না। ঘরের যেখানেই জায়গা পাবেন, সেখানেই গাছ রাখুন। বনসাইও রাখতে পারেন। এতে ঘর সবুজ ও ঠা-া থাকে।

আরও কিছু করণীয় বিষয়

১. যদি খুব বেশি গরম লাগে তাহলে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে কল ছেড়ে ঠাণ্ডা পানিতে হাত ভিজিয়ে রাখুন মিনিটখানেক। এতে করে পুরো দেহের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাবে।

২. বাসায় ফিরে গোসল করার পরও যদি একেবারেই গরম কমতে না থাকে তাহলে একটি গামলা বা বালতিতে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পা চুবিয়ে রাখুন বেশখানিকক্ষণ। এতে করেও গরম অনেকটা কম লাগবে।

৩. সঙ্গে রাখুন পানি। যেখানেই যান না কেন সঙ্গে এক বোতল পানি রাখার চেষ্টা করুন। আপনার দেহ যত পানিশূন্য হবে ততোই আপনার বেশি গরম লাগবে। তাই একটু পরপরই পানি পান করার অভ্যাস রাখুন। দেহকে পানিশূন্য হতে দেবেন না।

৪. গরম অতিরিক্ত লাগে এমন কাপড়ের পোশাক পড়বেন না একেবারেই। গরম কম লাগে এমন পোশাক থাকুন ঘরে ও বাইরে। এ ছাড়াও টাইট পোশাকে গরম বেশি লাগে তাই এই গরমে স্বস্তি পেতে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরাই ভাল।

৫. কিছু কিছু খাবার দেহের তাপমাত্রা বাড়ায়, যেমন অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ঝাল মসলাযুক্ত খাবার, গরুর মাংস ইত্যাদি। গরমে সুস্থ থাকতে এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন। কম মসলা ও তেল সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকবে।

৬. এই গরমে অযথা এমন খাবারের পেছনে অর্থ ব্যয় করবেন না যা আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়ায় ও অসুস্থ করে তোলে। এমন খাবার খান যা আপনার শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে। তরমুজ, শসা, ক্ষিরা ইত্যাদি ধরনের পানিযুক্ত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন গরমে।

প্রকাশিত : ২ জুন ২০১৫

০২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: