মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারতে বন্দী শিশুকে ফিরে পেতে চান বাবা-মা

প্রকাশিত : ২ জুন ২০১৫

রাজু মোস্তাফিজ,কুড়িগ্রাম ॥ শিশু রনি (৬) প্রায় দেড় মাস থেকে ভারতের অসম প্রদেশের ধুপড়ি জেলে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে। বাবা-মা জানেন না তাদের সন্তান কেমন আছে। তার বাবা জয়নাল আবেদীন,মা রুনা খাতুন সন্তানকে না পেয়ে পাগলের মতো ছোটাছুটি করছেন। বিভিন্ন জাগায় তদবির করছেন সন্তানকে ফেরত আনার জন্য । কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। শিশু রনির বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুরুসা ফেরুসা গ্রামে। গত ১৪ এপ্রিল অসম প্রদেশের টাকিমারী সীমান্ত পার হওয়ার সময় ঐ ক্যাম্পের বিএসএফের হাতে আটক হয় শিশু রনি।

জয়নাল আবেদীন জানান, প্রায় ৫ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ৩মাস বয়সী শিশুপুত্র রনিকে নিয়ে ভারতের দিল্লীতে ইটভাঁটিতে কাজ করতে যান জয়নাল আবেদীন ও রুনা খাতুন। সেখানে তাদের আরও দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। রনির বয়স ৬ বছর হলে তাকে বাংলাদেশে স্কুলে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। সে অনুযায়ী অসম প্রদেশের টাকিমারী সীমান্ত এলাকার দালাল মইনুদ্দিনের মাধ্যমে রনিকে বাংলাদেশে তার দাদা-দাদির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তারা।

কিন্তু গত ১৪ এপ্রিল সীমান্ত পার হওয়ার সময় টাকিমারী ক্যাম্পের বিএসএফের হাতে আটক হয় রনি। এ সময় দালাল মইনুদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রনির দাদা হজরত আলী কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি’র অধীন চৌদ্দকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে শিশু আটকের ঘটনা জানালে আটক রনিকে ফেরত চেয়ে টাকিমারী বিএসএফ ক্যাম্পে পত্র পাঠায় বিজিবি। পত্রের প্রেক্ষিতে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হলেও শিশু রনিকে ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

এদিকে রনির আটকের খবর পেয়ে দু’সপ্তাহ আগে তার বাবা-মা দালাল ধরে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। প্রায় এক মাস ধরে সন্তানকে ফিরে পেতে দৌড়ঝাপ করেও সুফল পাননি এই দম্পতি। সর্বশেষ ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে শিশুটিকে ফিরে পেতে আবেদন করেছেন রনির বাবা। জয়নাল বলেন, আমরা গরিব মানুষ কোথাই যাই কার কাছে যাই-কিছু জানি না। মা রুনা ছেলের জেলে বন্দী থাকার খবর শোনার পর থেকে খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। অসুস্থ এই মাও চান তার শিশুকে ফিরে পেতে বাংলাদেশের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।

প্রকাশিত : ২ জুন ২০১৫

০২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: