মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মনের টানে মিলে গেলেন আনা-বাস্তিয়ান

প্রকাশিত : ২ জুন ২০১৫
মনের টানে মিলে গেলেন আনা-বাস্তিয়ান
  • ইভানোভিচ-শোয়াইনস্টাইগারের আনুষ্ঠানিক বিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের পরই

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রীড়াজগতের দুই তারকা। একজন টেনিসে আরেকজন ফুটবলের। একজনের বাড়ি জার্মানি আর আরেকজনের সার্বিয়ায়। একজন ফুটবল মাঠের বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার আরেকজন টেনিস কোর্টের আনা ইভানোভিচ। দুই তারকা দুই দেশের হলেও মনের টানে মিলে গেছেন একই বিন্দুতে। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জনটা বাতাসে ভেসে ভেড়াচ্ছিল-প্রেমের ভেলায় ভেসে হাবুডুব খাচ্ছেন তারা। কিন্তু সঠিক কোন প্রমাণ মিলছিল না তার। অবশেষে ফ্রেঞ্চ ওপেনই খুলে দিল সব জটলা। টেনিস কোর্টে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সার্বিয়ান তারকা ইভানোভিচ যখন ঝড় তুলেন গ্যালারিতে বসে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার তখন হাততালি দিয়ে দারুণভাবে অনুপ্রেরণা যোগান। তাদের প্রেমের রসায়ন বুঝতে এই চিত্রটাই যথেষ্ট। তবে নতুন খবর হলো মৌসুমের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর বিয়ের পিঁড়িতেও বসতে যাচ্ছেন তারা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসা খবরের ভিত্তিতেই জানা যায় ফ্রেঞ্চ ওপেনের পরপরই একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন ইভানোভিচ আর শোয়াইনস্টাইগার।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। সেপ্টেম্বরে হাতে-হাত রেখে নিউইয়র্কের রাস্তায় আনা ইভানোভিচ আর বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারকে হাঁটতে দেখা যায়। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের ডালপালা মেলতে শুরু। এরপর বড় চমকটা উপহার দেন জার্মান ফুটবলার নিজেই। ইভানোভিচের ২৭তম জন্মদিনে হাজির হয়ে যান তিনি। ফেব্রুয়ারিতে ইভানোভিচের দেয়া পার্টিতে বেয়ার্ন মিউনিখের সতীর্থদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন শোয়াইনস্টাইগার। নিজের ফুটবল জুতোয়, প্রেমিকা আনা ইভানোভিচের দেশের পতাকাও লাগিয়ে ফেলেন জার্মান তারকা। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।

ইভানোভিচের বেলগ্রেডের বাড়িতে বেড়ানোর পর, সঙ্গিনীকে নিয়েই জার্মানিতে ফিরেন শোয়াইনস্টাইগার। টেনিস বিশ্বের গ্ল্যামারগার্ল ইভানোভিচেরই ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শূটিংয়েও অংশ নিতেই জার্মানিতে যান ইভানোভিচ। প্রথম ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতেন সার্বিয়ান তারকা। তবে চলতি মৌসুমের শুরুতেই একটি সাক্ষাতকারে ইভানোভিচ ইঙ্গিত দেন, শোয়েনির সঙ্গে মন দেয়া নেয়াটা ভালভাবেই চলছে তার। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের ফাঁকে প্রেম কিংবা রোমান্টিক কোন সম্পর্কের জন্য সময় বের করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সার্বিয়ার এক নাম্বার এই প্রমীলা টেনিস তারকা বলেন, ‘অবশ্যই। যদি মানুষটি সঠিক হয় তাহলে আমি অবশ্যই প্রেমের জন্য সময় বের করে নেব।’

যেই কথা সেই কাজ। ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে গুঞ্জন উঠে গোপনেই নাকি বিয়ে সেরে ফেলেছেন তারা। পরিবার আর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা ছাড়া, আগাম আভাস ছিল না কারও কাছে। ‘লা গাজ্জেতা’, ইতালির একটি ওয়েবসাইটের খবর ছিল, এক সঙ্গে নাকি শোয়াইনস্টাইগার আর ইভানোভিচ গয়নার দোকানে গিয়েছিলেন। মূলত হীরের আংটি কিনতেই গয়নার দোকানে যান তারা। সেই ওয়েবসাইটই জানায়, ইভানোভিচের আঙুলে এখনও নাকি শোভা পাচ্ছে হীরের সেই আংটি। বর্তমানে চলছে ফ্রেঞ্চ ওপেনের লড়াই। আর এই টুর্নামেন্টে নিয়মিতই দর্শকের ভূমিকায় গ্যালারিতে উপস্থিত হন বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। ইভানোভিচও খেলছেন দুর্দান্ত। শুক্রবার ক্রোয়েশিয়ার ডোনা ভেকিচকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকেট নিশ্চিত করা ম্যাচের পর এ বিষয়ে মুখও খুলেন তিনি। শুধু তাই নয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের পরই কোর্ট থেকে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের দিকে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়েন আনা ইভানোভিচ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘অসাধারণ দলের যদি কোন খেলোয়াড় কোর্টে থাকে তার চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে? আমাকে সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ।’ এরপর রবিবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের শেষ আটের টিকেটও নিশ্চিত করেন সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচ। চতুর্থ পর্বের কঠিন লড়াইয়ে একাটেরিনা মাকারোভাকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেন তিনি। মৌসুমের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেনের সপ্তম বাছাই ইভানোভিচ চতুর্থ পর্বে ৭-৫, ৩-৬ এবং ৬-১ গেমে হারান রাশিয়ার তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় মাকারোভাকে। ২০০৮ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জিতেছিলেন ইভানোভিচ। কিন্তু এরপরের সময়টা কেটেছে নিষ্প্রভতায়। শিরোপা জয় তো দূরের কথা পরের মৌসুমগুলোতে কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠতে পারেননি তিনি। যে কারণে দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেন ইভানোভিচ। আর এই ফ্রেঞ্চ ওপেনের পরই বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আনা ইভানোভিচ।

এর আগে ইভান পাউনিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ইভানোভিচের। কিন্তু ২০১৩ সালের শেষ দিকেই সেই সম্পর্কের ইতি টানেন বিশ্ব টেনিসের অন্যতম সেরা তারকা ইভানোভিচ। জার্মান মডেল সারা ব্র্যান্ডনার সঙ্গে প্রেমে মজেছিলেন বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারও। সারা ব্র্যান্ডনার সঙ্গে শোয়াইনস্টাইগারের প্রথম দেখা ২০০৭ সালে মিউনিখে শপিং করতে গিয়ে। এর পর আবারও দু’জনকে ইবিজায় ছুটি কাটাতে দেখা যায়। আর শোয়াইনস্টাইগার-সারার সম্পর্কের শুরু নাকি সেখান থেকেই। কিন্তু সাত বছরের সেই সম্পর্ক আচমকাই ভাঙনের মুখে পগে গত বছর। আনা ইভানোভিচের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যাওয়ার ফলে। তবে শোয়েনির সঙ্গে ইভানোভিচের জুটিটা কেমন জমে সেটা সময়ই বলবে। যদিওবা ফ্রেঞ্চ ওপেনে তাদের সরব উপস্থিতিতে টেনিসপ্রেমীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

প্রকাশিত : ২ জুন ২০১৫

০২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: