মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

উম্ম! চকোলেট পান্থ আফজাল

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

‘সকল বিষণœতার মহৌষধ চকোলেট’-সেটা আজ সবার নিকট অজানা নয়। কারণ চকোলেটে বিদ্যমান ‘ট্রিপ্টফেন’ উপাদান যেকোন বিষণ্নতা রোধে অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা যায় যে, বেশিরভাগ চকোলেট শরীরে ডোপামিন বৃদ্ধি করে মনের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় শতগুণ। আর প্রতিদিন প্রায় ৪০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট মানুষের শরীরে ২ সপ্তাহের মধ্যে স্ট্রেস হরমোন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়াও চকোলেটের ‘লাভ কেমিক্যাল’ নামক উপাদান প্রিয়জনের প্রতি আপনার ভালবাসাকে বাড়াতে অনন্য অবদান রাখে।

প্রাচীনকালে মূল্যবান কোকোয়া বীজ ব্যবহার করা হতো লেনদেনের মাধ্যম অর্থাৎ হিসেবে। পুবের মায়ান ও এ্যাজটেক অধিবাসী বিশ্বাস করতো যে ‘কোকোয়া’ বীজে একপ্রকার জাদুকরী শক্তি বিদ্যমান থাকে। কথিত আছে, এ্যাজটেক রাজা ‘মন্টেজুমা’ একদা স্প্যানিশ পর্যটকদের নিমন্ত্রণ করে চকোলেট খেতে দিলে তারা এগুলোর তিতকুটে স্বাদের কারণে একেবারে পছন্দই করেনি। তবে ১৭ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপে চকোলেট বেশ জনপ্রিয়তা পায় এর অসামান্য স্বাদ, ঔষধি ও পুষ্টিকর গুণ থাকার কারণে। চকোলেটের প্রতি সে সময়কার ভিত্তিহীন বিশ্বাসগুলো কিন্তু আজ সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে এবং এর নানাগুণের কারণে সমগ্র বিশ্বে দিনে দিনে চকোলেটের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

ন্যাচার নিউরোসাইন্সের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৪৯ থেকে ৬১ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তি যারা তিন মাস উচ্চ-‘ফ্ল্যাভ্যানলযুক্ত’ কোকোয়ার পানীয় খেয়েছেন, তাঁরা স্মৃতি পরীক্ষায় ২৫ শতাংশ বেশি ভাল পারফর্মেন্স করেছেন। আর অন্যদিকে উচ্চ-‘ফ্ল্যাভ্যানলযুক্ত’ কোকোয়া পানকারীরা ওই স্মৃতি পরীক্ষায় তাদের চেয়ে বিশ-ত্রিশ বছর কম বয়সের ব্যক্তিদের মতো পারফর্ম করেছেন। মনে রাখা দরকার, কোকোয়া বীজের ফ্ল্যাভ্যানল নামক উপাদান মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে মানুষকে খুবই উদ্দীপিত করে তুলতে সহায়ক।

৬৬-৮৩ শতাংশ কোকোয়া সমৃদ্ধ চকোলেটে থাকে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ উপকরণ। ভাল মানের ডার্ক চকোলেটে কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত হৃদরোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। আর নিয়মিত চকোলেট খেলে শরীরে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে দেয়। এছাড়াও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক প্রদাহ কমাতেও ডার্ক চকোলেট খুবই কার্যকরী। ডার্ক চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে যেমন- পলিফেনলস, ফ্ল্যাভ্যানলস, ক্যাটেশিন্স নামক সক্রিয় অর্গ্যানিক উপাদান রয়েছে যা এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, অন্যান্য ফলের তুলনায় ডার্ক চকোলেটে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বেশি। ‘এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধ করে এবং ক্যান্সার রোধে বিরল ভূমিকা রাখে।

চকোলেট কিনতে যা খেয়াল রাখবেন :

কোকোয়া বাটার ও ননট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ চকোলেট অবশ্যই কিনতে হবে। যদি সম্ভব হয় সেটি ‘অর্গ্যানিক’ কিনা দেখে নিতে হবে আর সবচেয়ে কম মিষ্টি চকোলেট কেনা উচিত। অধিক মাত্রার ‘কোকোয়া’ সমৃদ্ধ চকোলেট কেনার অভ্যাস করতে হবে। ‘প্রসেসড উইথ এ্যালকালি’, লেবেলে লেখা চকোলেট খাবেন না কারণ এই পদ্ধতিতে কোকোয়ার প্রাকৃতিক ফ্ল্যাভ্যানল এ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে ভেঙ্গে ফেলা হয়। দিনে পরিমিত চকোলেট খাবেন। কারণ অধিক পরিমাণে চকোলেট গ্রহণ শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দুপুরে খাবার পর পরই বা রাতের খাবার পর ভরাপেটে চকোলেট খাবেন না।

উৎসবে-অনুষ্ঠানে চাই চকোলেট :

যে কোন উৎসবে বা অনুষ্ঠানে চকোলেট বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে। এমন কোন বয়সের লোক নেই যে কিনা চকোলেট অপছন্দ করে। সারাদিনের হৈ-হুল্লোড় আর বাড়তি আনন্দ করার সময় কাউকে যদি চকোলেট গ্রহণ করতে বলা হয় তবে সে নির্দ্বিধায় তা গ্রহণ করবে। নানা স্বাদের আর রকমারি চকোলেট দেখলে যে কারও মন আনন্দে ভরে ওঠা অতি স্বাভাবিক। বিয়ে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কিম্বা প্রিয়জনের উপহারে তাই চকোলেট বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে। প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা প্রকাশে কিংবা বন্ধুত্বের আহ্বানে চকোলেট উপহার অসামান্য অবদান রাখে।

কোথায় পাবেন মজার চকোলেট :

যে কোন কনফেকশনারি বা দোকানে চকোলেট পাওয়া যায় তবে ভাল মানের চকোলেট কিনতে হলে ভাল চকোলেট বিক্রয়ের দোকানে যেতে হবে। দেশের বিভিন্ন সুপার শপে তো পাবেনই আরও পাবেন বসুন্ধরা শপিং মলে, আলমাস, স্বপ্ন শপে, আগোরা সুপার শপে, পিংক সিটি, মীনা বাজার, যমুনা ফিউচার পার্কের চকোলেট কর্নারে। এছাড়াও ধানমি , গুলশান, বারিধারা, বনানী, উত্তরা, নিকেতন ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন দোকানে পাবেন মজার মজার চকোলেট। আরসিচ গ্যালারি এবং হলমার্ক গিফট শপেও আপনি রকমারি স্বাদের ও দামের চকোলেট পাবেন।

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: