আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এ সময়ে চুলের যত্ন

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

চুল মানব সৌন্দর্যের একটি বড় মাধ্যম। সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলতে ঘনকালো চুলের কোন বিকল্প নেই। কবি- সাহিত্যিকরা সনাতন কাল থেকেই ঘনকালো কেশের মাঝে সাহিত্যের উপাদান খুঁজে ফেরেন। সৌন্দর্য কখনও পুরাতন হয় না, বিলীন হয়েও যায় না। ঘুরে ঘুরে বারে বারে ফিরে আসে। আহামরি সুন্দরী না হলেও শুধু ঘনকালো চুলও করে তুলতে পারে একজন নারীকে তুলনাহীন। তাই চুলের যতেœ একটু যতœবান হওয়া আবশ্যক। চুল ঘন বা লম্বার ব্যাপার স্রষ্টার দান। তদুপরি চর্চার মাধ্যমে চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব।

পরিচর্যার মাধ্যমে চুলের স্বাস্থ্য যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি অল্প চুলও অধিক হয়ে উঠতে পারে। খুশকি দূর করতে মাথা সব সময় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ভেষজ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে চুলে পুষ্টি যোগান দেয়া যেতে পারে। লেবুর রসে মধু মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসেজ করলে খুশকি দূর হয়ে চুলের গোড়া শক্ত হয়। এ ছাড়া ভিনেগারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে তুলো দিয়ে আস্তে আস্তে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে চিরুনি দিয়ে ভালভাবে চুল আঁচড়ালে মাথা খুশকিমুক্ত হয়। প্রতিদিন কয়েকবার চুলে ভালভাবে চিরুনি দেয়া খুশকি দূর করা ও চুলের গোড়া শক্ত রাখার একটি কার্যকর উপায়।

গোসলের আগে হাল্কাভাবে এবং গোসলের পর চুল শুকিয়ে নিয়ে আঁচড়ানো ভাল। তবে খুশকি ছোঁয়াচে বিধায় যারতার চিরুনি বা তোয়ালে মাথায় ব্যবহার করা ঠিক নয়। হজম ঠিকমত না হলে খাওয়ার পর একগ্লাস হাল্কা গরম পানিতে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। এতে বিপাক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হবে, চুল পড়া বন্ধ হবে। চুল ভাল রাখতে শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। এর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম বা যোগাসন করা দরকার।

সপ্তাহে দুইদিন মাথায় তেল ম্যাসেজ করবেন। তেল ম্যাসেজের পর গরম পানিতে একটি তোয়ালে ডুবিয়ে, নিংড়ে চুলের চারদিকে জড়িয়ে রাখবেন। এভাবে তৈরি হয় নিজস্ব চুল স্টিমিং পদ্ধতি। অনেকের অল্প বয়সে চুল পেকে যায়। বংশগত কারণেও এটি হতে পারে। তবে যতটা পারুন নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখুন। ঝরঝরে মন ঝকঝকে চুলের জন্যও সহায়ক। এ ছাড়া বিভিন্ন ডাই ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের রং পরিবর্তন করা যায়। চুলের বৃদ্ধির জন্য সারা বিশ্বে এখন গবেষণা চলছে। গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা গেছে চুলের জন্য ভিটামিন-ই খুবই জরুরী। এই ভিটামিন-ই খাদ্যের মাধ্যমে যেমন নেয়া উচিত তেমনই আবার ভিটামিন-ই যুক্ত তেল মাথার গোড়ায় লাগালেও চুলের ঘনত্ব ও স্বাস্থ্য বাড়ে।

অভিজ্ঞ বিউটিশিয়ানের পরামর্শমত চুলের পরিচর্যা করা উত্তম। চুল পরিচর্যা শুধু সৌখিনতা নয়, মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য প্রকাশের এ এক অনন্য উপায়।

গরমকালে চুলের ট্রেন্ড

গ্রীষ্মপ্রধান এ দেশে যখন আর্দ্রতা বেশি থাকে তখন আমরা গরম অনুভব করি। সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয় চুলের বিভিন্ন সমস্যা। গরমে চুলের যে সমস্যাগুলো আমাদের বিব্রত করেÑ চুলে ঘামের গন্ধ। মাথায় খুশকি বেড়ে যায়। চুল ঝরে যায়। চুলে চিটচিটে ভাব দেখা দেয়। তাই গরমে আপনার চুলকে কতটা ফ্যাশনেবল করে রাখা যায় তারই পরামর্শ দেয়া গেল।

কাটিং

গরমে আপনি যদি চুল কাটতে চান তবে আপনার চেহারার সঙ্গে মিল রেখে লেয়ার, স্পে, ইউকাট, ভিকাট করতে পারেন। এছাড়া ব্লাং কাটও করা যেতে পারে।

রং

রেড, অ্যাশ ব্লন্ড, গোল্ডেন ব্লু ও পারপেল রংগুলো গরমে চুলের জন্য এনে দিতে পারে এক নতুনত্ব। চুলের রং নিজে বাসায় করতে পারেন। তবে ব্যাপারটা একটু সেনসেটিভ বিধায় চুলের রং করার সময় ভাল কোন সেলুন বা পার্লারের সাহায্য নেয়া উচিত।

স্টাইল

চুলকে কীভাবে সাজিয়ে রেখে নিজেকে ফ্যাশনেবল করা যায় তা নির্ভর করে চুলের ধরনের ওপর। তারপরও গরমে আপনার চুলকে স্ট্রেইট, কার্লি বা স্টেপ সেটিং করে চুলের স্টাইলে পরিবর্তন আনতে পারেন। যাদের লম্বা চুল তারা হাতখোঁপা বা একটু উঁচু করে চুল বেঁধে রাখতে পারেন। ফুলও থাকতে পারে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে।

যতœ

চুল দেখলে তখনই সুন্দর লাগে যখন তা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে আমরা অনেকেই এখন চুলের বেলায় সচেতন হয়ে উঠেছি। সঠিকভাবে চুলের যতœ না নিলে এর স্থায়িত্ব, দৈর্ঘ্য ও উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া স্টাইল ফ্যাশন অনুষঙ্গও বটে। ারীকে তুলনাহীন। তাই চুলের যতেœ একটু যতœবান হওয়া আবশ্যক।

যাপিত ডেস্ক

ছবি: নাজমুল রনি

মডেল : পায়েল

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: