আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এফবিসিসিআইকে ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫
  • নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন (এফবিসিসিআই) ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার করেছেন সংগঠনটির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সব চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রবিবার দুপুরে ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাতলুব আহমাদ বলেন, ব্যবসাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে এতে কোন কার্পণ্য করা হবে না। নতুন সভাপতি বলেন, এখন সময় এসেছে কাজ করার। এখন কাজ করেই যোগ্যতার প্রমাণ করতে হবে। এই কাজের প্রথমটাই হবে ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা। কারণ ব্যবসায়ীরা এত বেশি সুদ দিয়ে ব্যবসা করতে পারছে না। যদি সম্ভব হয় তবে তিন মাসের মধ্যেই এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা ৬৪টি জেলায় অন্তত ৩ জন করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে চাই। কারণ বাংলাদেশের প্রায় সব ব্যবসাই গড়ে ওঠেছে ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। এই গ-ি থেকে ব্যবসাকে বের কর আনতে চাই আমরা। একই সঙ্গে সহনশীল শুল্ক করের ব্যবস্থা করতে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে যে কর ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। সে কারণে অনেক ব্যবসায়ী কর ফাঁকির আওতায় পড়ে যান। এ থেকে উত্তোরণ ঘটাতে এনবিআরকে প্রস্তাব দেয়া হবে।

ভ্যাট হার নির্ধারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সহনশীল ভ্যাট, ট্যাক্স ও শুল্ক হার নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে যাবতীয় আলোচনা করা হবে। আমাদের প্রত্যাশা সরকার এমন করনীতি নির্ধারণ করবে, যাতে ছোট বড় সব ব্যবসায়ী উপকৃত হয়। মাতলুব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ হলো আগামী ব্যবসার পরবর্তী গন্তব্যস্থল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে প্রায় ৩৫টি কোম্পানি বাংলাদেশে আসছে; যাদের বিনিয়োগ হবে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। আমরা চাই উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। আর ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে সেই কাজটি করাই হবে নতুন পর্ষদের অন্যতম লক্ষ্য। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নয়া এই সভাপতি বলেন, ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। তারা বাংলাদেশী পণ্য ভারতের বাজারে বিনা বাধায় প্রবেশের আশ্বাস দিয়েছেন।

মাতলুব জানান, গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য এফবিসিসিআই ভবনে একটি মিডিয়া সেন্টার করা হবে। এ মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে সকল কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সংগঠনের সমসাময়িক যাবতীয় কার্যক্রম মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়াও কার্যকরী সদস্যদের জন্য সারাদেশে যাতায়াতের সুবিধার্থে কারপুলের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সদস্যরা গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে। রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া সিল্কের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া সিল্কের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

এর আগে বিদায়ী সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ নতুন পর্ষদকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমি গত আড়াই বছর এফবিসিসিআই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তারা আমাকে সব ধরনের সহায়তা করেছেন। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করছি বর্তমান কমিটিকেও তারা একইভাবে সহায়তা করবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে আমরা ব্যাংকের সুদ সিঙ্গেল ডিজেটে আনার চেষ্টা করেছি। আশা করছি বর্তমান সভাপতি বিষয়টিতে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আমাকে যে কোন প্রয়োজনে ডাকলে আমি আসব। আমি যা করতে পারিনি তা বর্তমান কমিটি সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি। অনুষ্ঠানে নতুন প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভপাতি মাহবুবুল আলম, সাবেক সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অর্থ বাণিজ্য



ব্রেকিং নিউজ: