কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খিলগাঁও থানার সাবেক ওসি হেলাল কারাগারে

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫, ০৪:০৭ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার ॥ খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবীর রাজের আদালতে রবিবার দুপুরে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র আবদুল কাদেরকে নির্যাতন ও জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টার দায়ে খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ১৭ মে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবীর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

হেলাল উদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী সাইদুর রহমান সময়ের আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে একমাত্র আসামি হেলাল উদ্দিনকে পলাতক দেখিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন। পরে আদালত সাজাপ্রাপ্ত আসামি হেলালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সাময়িক বরখাস্ত হেলাল ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত ছিলেন।

বিসিএস (শিক্ষা) উত্তীর্ণ কাদের বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক।

সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, পুলিশ জনগণকে নিরাপত্তা দেবে, কিন্তু পুলিশ যদি নির্যাতন করে তা নিন্দনীয়, অমানবিক এবং দায়িত্বের চরম অবহেলা। এ মামলার আসামি হেলাল উদ্দিন ঘটনার সময় (২০১১ সালের ১৬ জুলাই) খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তার কাছ থেকে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা কারোরই কাম্য নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, আবদুল কাদেরকে নির্যাতনের একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানার কনস্টেবল আবদুল করিম। তিনি তার জবানবন্দীতে বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি রাত চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত ডিউটিতে ছিলেন। ভোর সাড়ে চারটায় এসআই আলম বাদশা কাদেরকে আটক করে নিয়ে আসেন। থানায় ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মো. আসলামের নির্দেশে তাকে হাজতে আটক রাখা হয়। পরদিন থানার ডিউটিতে আসার পর ওসি হেলাল তাকে লকার খুলে কাদেরকে তার কক্ষে নিয়ে যেতে বলেন। ওসি হেলালের কক্ষে রেখে আসার কিছুক্ষণ পর তিনি কাদেরের চিৎকার শুনতে পান এবং গিয়ে দেখেন, কাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার বাঁ পা রক্তাক্ত। অপর সাক্ষী খিলগাঁও থানার তৎকালীন ডিউটি অফিসার এসআই আসলাম মিয়া একই জবানবন্দী দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ১৩ সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষীরা অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় আসামি হেলাল উদ্দিনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫, ০৪:০৭ পি. এম.

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: