মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একদিন

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫
  • মু. শাহীন আখতার

আজকের এই দিন কখনও কোনদিন/ হবে না চিরমলিন/ অনেক কাজের ভীড়ে একটু অবসরে/ স্মৃতির পাতা উল্টালেই/ পড়বে মনে বারে বারে...। হ্যাঁ, সত্যিই তাই। অতীতের সোনালি স্মৃতি কোনদিনই মলিন হয়ে যায় না। মানবমন অত্যন্ত স্মৃতিকাতর। মানুষ কখনও ভুলে যেতে পারে না তার অতীতের সোনালি দিনগুলোকে। হোক না সেই দিনগুলো সুখের কিংবা সঙ্কটের। আর তাই তো আমরা সকলেই স্মৃতির ফ্রেমে প্রতিদিনই বন্দী করে চলেছি হাজারো রঙিন স্মৃতি। জীবনের শেষ বেলায় সেগুলোই হবে হয়ত আমাদের একাকিত্বের রোমাঞ্চকর নিত্যসঙ্গী।

দেখতে দেখতেই পেরিয়ে গেল কতগুলো বছর। স্কুল-কলেজ ডিঙিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছেছি। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে কত প্রিয়মুখ, কত প্রাণের বন্ধু-বান্ধব। তবু থেমে যায়নি জীবনটা। সে চলেছে আপন গতিতে। বুনে চলেছে সম্পর্কের জাল। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সব ভাললাগার মধুর সম্পর্ক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এসেছি প্রায় ৪ মাস হয়ে গেল। এখানকার ক্লাস আর এ্যাসাইনমেন্টের ভিড়ে তেমন কোন অবসর মেলে না আমাদের। তবুও একটু সুযোগ পেলেই বাকৃবির ১২০৩ একর জুড়ে বিচরণে নেমে পড়ি আমরা। বন্ধুরা মিলে মন ভরে উপভোগ করি প্রকৃতিকন্যার অপরূপ সৌন্দর্যকে। আর এভাবেই এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে কত প্রাণের সম্পর্ক। ক্লাসের বন্ধুরাই যেন আজ প্রাণের নিত্যসঙ্গী। তৈরি হয়েছে অনেক আনন্দের ও ভাললাগার মুহূর্ত। বাকৃবি ক্যাম্পাস সর্বদাই মুখরিত রয়েছে আমাদের ফার্স্ট ইয়ারের শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাস আমাদের চিনতে শুরু করেছে দুরন্ত ফার্স্ট ইয়ার নামে।

১৮ মে । সেদিন ছিল সোমবার। কেমিস্ট্রি ল্যাব অন্যদিনের তুলনায় অনেক আগেই শেষ হয়েছিল। আকাশটা ছিল মেঘলা। আড্ডা দেয়ার উত্তম দিন ছিল এটি। এমন একটি সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চাইলাম না আমরা। তাই সকলে মিলে বেরিয়ে পড়লাম বাকৃবির সবুজ চত্বরে। সবাই মিলে ঘুরে ঘুরে দেখলাম বাকৃবির আকর্ষণীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনটিকে। করলাম ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকাবিলাস। কখনও বেসুরো কণ্ঠের গান, কখনওবা মজার কৌতুক আর হাসির ছন্দে ভাসছিলাম আমরা। আর নৌকা ভেসে চলছিল আপন গতিতে ব্রহ্মপুত্রের বুকে। কেউ কেউ আবার উদাস মনে চেয়ে ছিল আকাশের দিকে। নৌকাবিলাস শেষে আমরা এলাম বিজয়’৭১ ভাস্কর্যের কাছে। সেখানেও তোলা হলো অনেক ছবি। কিছুসময়ের জন্য হলো আড্ডাবাজি। হলো ঝালমুড়ি, আইসক্রিম ও ফুচকা পার্টি। গল্পে-হাসিতে মেতে রইলাম সারাক্ষণ। আড্ডার পাশাপাশি পড়াশোনা নিয়েও হলো আলাপ-আলোচনা। অবশেষে সময় হলো হলে ফেরার। ফিরতে ফিরতে মনের কোণে কেন যেন জমে যায় এক রাশ মেঘ।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: