মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্যাপক খরার মুখে ভারত

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫
  • মার্কিন আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস

যে সময় ভারতের অনেক এলাকা তীব্র দাবদাহে ছটফট করছে তখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা আকু ওয়েদার দেশে ব্যাপক খরা পরিস্থিতি সৃষ্টির ব্যাপারে পূর্বাভাস দিয়েছে, সেই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর টাইফুন (ঘূর্ণিঝড়) ‘অতি সক্রিয়’ থাকার কারণে মৌসুমী বায়ু বিশৃঙ্খল হয়ে পড়তে পারে। এই বিস্ময়কর ঘটনা মধ্য ভারত থেকে পাকিস্তানের বিশাল এলাকার কৃষিব্যবস্থায় প্রবল নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি খরা পরিস্থিতির কারণ হিসেবে এলনিনো অবস্থার উল্লেখ করেছে; যা গ্রীষ্মম-লীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার ওঠানামার উষ্ণ পর্যায় এবং যা সাধারণত গড়পড়তা সংখ্যার চেয়ে বেশি টাইফুন ও সুপার টাইফুনের জন্ম দেয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সাইক্লোন (ঘূর্ণিঝড়), হারিকেন ও টাইফুন একই আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা। এদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হল ঝড় সংঘটনের স্থান। ‘হারিকেন’ নামটি আটলান্টিক ও উত্তরপূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে, ‘টাইফুন’ উত্তরপশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে এবং ‘সাইক্লোন’ দক্ষিণ প্রশান্ত এবং ভারত মহাসাগরে ব্যবহৃত হয়। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) এ মাসের প্রথম দিকে যা বলেছে এলনিনোর ওপর আকুর আবহাওয়া পূর্বাভাস তার চেয়ে ভিন্ন নয়। তবে জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস দানকারী সংস্থা এ ব্যাপারে একটি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, যাতে এটি কোন আতঙ্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে। আইএমডি গতমাসে শুধু পূর্বাভাস দেয় যে, ভারতে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে কম’ বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত হবে। ২২ এপ্রিল প্রথম পূর্বাভাসে সংস্থা জানায়, বর্ষাকালীন মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী গড়ের (স্বাভাবিক দৃশ্যকল্পের নিচে) ৯৩ শতাংশ হতে পারে, যার মধ্যে মডেল ভ্রান্তি কমবেশি ৫ শতাংশ হতে পারে। যদিও এলনিনো সাধারণত বেশকিছু টাইফুন (ঘূর্ণিঝড়) ও সুপার টাইফুন সঙ্গে নিয়ে আসে, আইএমডি তাদের দ্বিতীয় পূর্বাভাসের ‘বিস্তারিত’ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। জুনের গোড়ার দিকে তা প্রকাশ করা হতে পারে। আইএমডি’র একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী বলেন, ‘এলনিনোর সঙ্গে সাধারণ টাইফুনের বিষয়টি জড়িত থাকে, তবে এই ক্রান্তিকালে আতঙ্কের বোতামে চাপ দেয়ার কি মানে হয়। আমরা আবহাওয়ার বিস্তারিত বিষয় কৃষি, পানি ও বিদ্যুতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি এবং সরকার আপতকালীন ব্যবস্থার মতো হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।’

গতবছরের ১২শতাংশ ঘাটতি বৃষ্টিপাতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আগাম ব্যবস্থা নিয়ে গতবছর পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায় তবে এ বছরও তা মোকাবেলা করা যাবে। আমরা ইতোমধ্যে ‘স্বাভাবিকের চেয়ে কম’ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছি এবং সরকার সেজন্য প্রস্তুত আছে।’ আকু ওয়েদার অবশ্য জনসাধারণের জানাশোনার বা এর বাইরে বিস্তারিত তথ্য চেপে রাখেনি।

‘এশিয়া সামার ফোরকাস্ট’-এ সংস্থা বলেছে, ‘একটি অত্যন্ত সক্রিয় টাইফুন মৌসুম সেইসঙ্গে ভারতের এক বিশাল অংশজুড়ে খরা পরিস্থিতি ২০১৫’র গ্রীষ্মকালে এক শ’ কোটিরও বেশি লোকের জীবন ও সম্পদের ওপর পর্যাপ্ত জোরালো প্রভাব ফেলতে পারে।’ ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে পানির তাপমাত্রা খরা পরিস্থিতির স্থায়িত্বকাল এ তীব্রতার আভাস দেয়। নিকল্্স বলেন, ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশের পানির তাপমাত্রা অনুমানের চেয়ে দ্রুত উষ্ণব-উষ্ণ হয়ে ওঠে, তবে ভারতজুড়ে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে এবং খরার আতঙ্কও হ্রাস পাবে।’

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: