কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যে কারণে শেখ হাসিনা দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৫
  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

মাঝে-মধ্যে একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, ‘কেন আওয়ামী লীগ করি?’ প্রশ্নটা বিব্রতকর বটে। আওয়ামী লীগ তো অবশ্যই করি। তাই প্রশ্ন যত বিব্রতকরই হোক, জবাব দেয়া নৈতিক কর্তব্য মনে করি। জবাবটা দেই, এরচে’ ভাল কোন রাজনৈতিক দল যে বাংলাদেশে নেই। দলটির আদর্শ, নীতি, অসাম্প্রদায়িকতা, ভবিষ্যত দৃষ্টি, দেশ ও জনগণের প্রতি মমত্ববোধ, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার, সর্বোপরি স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অটল অবস্থান এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য যে দল এবং দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, সে দলকে তো সমর্থন করতেই হবে। তাছাড়া যে দলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি জড়িত, যে দলের সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানের গৌরব, সে দলকে তো সচেতন নাগরিক হিসেবে সম্মান করতেই হবে। আর সব দল তো কী নীতির প্রশ্নে, কী আদর্শের প্রশ্নে, কী যোগ্যতার প্রশ্নে, আওয়ামী লীগের ধারে-কাছেও নেই।

ঠিক একই কারণে ব্রিটেন হলে বলতাম লেবার পার্টি করি, কেননা এরচে’ ভাল দল যে ওদেশে নেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হলে বলতাম ডেমোক্র্যাটিক পার্টি করি, ফিলিস্তিনে হলে পিএলও তথা ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের লড়াইয়ে যোগ দিতাম, আর ভারতে হলে বলতাম আইএনসি বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস করি। এসব দল ছাড়া যে সে সব দেশের তুলনামূলক ভাল কোন দল নেই। যদি কেউ জিজ্ঞেস করে পাকিস্তানে হলে কোন্ দল করতাম? আমার উত্তর হতো, কোন দলই করতাম না, দেশ ছেড়ে চলে যেতাম। যে দেশের রাজনীতিই তো নেই, তাই দলের কথা আসতে পারে না। বুটের তলায় পিষ্ট হতে হতে ওটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, নিজে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে, তারপরও অন্য দেশে নাশকতা চালানোর জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে (আইএসআই) ব্যবহার করছে। অর্থ-অস্ত্র-টেররিস্ট সাপ্লাই করছে। একাত্তর সালে ৯৩ হাজার মিলিটারি সঙ্গে নিয়ে নতজানু হয়ে করজোড়ে আত্মসমর্পণ করেও আক্কেল হয়নি। ৪৫ বছর হয়ে গেল, তবু খাসলত গেল না। ও জিনিসটা নাকি মলেও যায় না।

কখনও-সখনও এমন প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয়Ñ কেন খালেদা জিয়াকে সমর্থন করি না। এ প্রশ্নের আমি কী উত্তর দেব? প্রশ্নটি তো উত্তর দেয়ার মতো হতে হবে। এড়িয়েও যেতে পারি না। এড়িয়ে গেলে মনে করবে জবাব দেয়ার কিছু নেই। তাই বলি, যারা চোখ থাকতে অন্ধ, চারদিকে তারা কিছুই দেখতে পায় না। তাই তারাই এমন অবান্তর প্রশ্ন করে। অবশ্য যারা এসব প্রশ্ন করে তারা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ শুনতে চায়। কেউ কেউ অবশ্য বিব্রত করার জন্যও প্রশ্নটি করে বুঝতে পারি। সে ক্ষেত্রে আমার জবাবও সেই ভাষায়ই হয়। এ অবস্থায় আমাকে বিব্রত করবে কী, নিজেরাই বিব্রত হয়ে ফিরে যায়।

শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দু’জনই তিনবার করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তবে একটু পার্থক্য আছে, শেখ হাসিনা পূর্ণ দুই মেয়াদ শেষ করে (১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯-২০১৩) তৃতীয় মেয়াদের দেড় বছর অতিক্রম করে (৫ জানুয়ারি ২০১৪...) সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন। আর খালেদা প্রথমে দুইবার (১৯৯১-৯৬, ২০০১-০৬ এবং ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেড় মাস), তারপর ক্ষমতাচ্যুত এবং সেই থেকে আজও ক্ষমতার বাইরে। তবে ভদ্র মহিলার কর্মফল না ভাগ্যের বিড়ম্বনা বলতে পারব না, একবারও শান্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারেননি। আন্দোলনের মুখে চলে যেতে হয়েছে। বিরোধী দলে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ক’দিন পর বোমা-পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করে জনগণের সমর্থন লাভে ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বড়ও হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদরে, আদর্শে। সে কারণেই ছোট বেলা থেকেই সাহসী এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁর মধ্যে লক্ষণীয়। তাঁর কাছেই শুনেছি, তখন তিনি আজিমপুর গভঃ গার্লস হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সমাবেশ। তিনি সহপাঠীদের নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে সমাবেশে আসছিলেন। পুলিশ সমাবেশে ও মিছিলে আক্রমণ করলে তিনিও মেয়েদের নিয়ে রোকেয়া হলে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। পরে যখন মনে পড়ল তখন অবাক হয়েছিলেন- কিভাবে ডিঙ্গালেন ঐ কাঁটাতারের বেড়া? বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতাম বঙ্গবন্ধুও গোপালগঞ্জে মিশন হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে ছাত্র ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিয়ে জীবনের প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন। বস্তুত. শেখ হাসিনার নেতৃত্বদানের ক্ষমতা একেবারে শৈশব থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করে। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই লেখাপড়া করেন। তখনও তিনি সহপাঠীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইন্টারমিডিয়েট পড়াকালে ইডেন কলেজ ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়ে দেখলাম শেখ হাসিনাও ভর্তি হয়েছেন বাংলা বিভাগে। অবশ্য আরও কিছু খ্যাতিমান ছাত্র সহপাঠী ছিলেন। এদের মধ্যে কবি নির্মলেন্দু গুণ, নাট্যাচার্য সেলিম আল-দীন, ছাত্রনেতা নূহ-উল আলম লেলিন প্রমুখ। তখন বাঙালীর মুক্তি সনদ ৬ দফা+১১ দফা আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং অতি অল্পদিনেই তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করে। তখন ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি কয়েক সাহসী ছাত্রী নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মমতাজ বেগম, রাফিয়া আখতার ডলি, দীপা দত্ত, মালেকা বেগম, আয়েশা খানম, শেখ হাসিনা এবং আরও অনেকে। তখনও শেখ হাসিনাকে দেখেছি মিছিলের সামনে নেতৃত্ব দিতে। ক্লাসেও তাঁকে দেখেছি আচার-আচরণে, কথাবার্তায় মার্জিত, রুচিবান এবং মেধাবী। কিছুদিন শেখ কামালসহ ছায়ানটের ছাত্রী ছিলেন বলেও শুনেছি। যে কারণে অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীলতা কালচার তাঁর মানসপটে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এতো আমার দূর থেকে দেখা এবং শোনা। এই যাঁর শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, তাঁকে যখন কেউ অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করতে চায়, তখন বুঝতে হবে এর পেছনে মতলব আছে। তারা এমন একজনকে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড় করাতে চায়, যার শৈশব নেই, কৈশোর নেই, তারুণ্য নেই, যৌবনও শ্রুতিমধুর নয়। তাকে তো মই দিয়েও শেখ হাসিনার কাতারে দাঁড় করানো যাবে না, এটা ওরা বোঝে, তবু বলে, কারণ আর কিছু করার নেই। মিডিয়ার একটি বড় অংশ (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট) হেন চেষ্টা নেই যে করেনি, কিন্তু অন্তিমে ফল জিরো, তবু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ওইসব মিডিয়া ২০১৩-এর ৯ মাস এবং ২০১৫-র ৯২ দিন দেশব্যাপী পেট্রোলবোমায় মানুষ হত্যাকেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে কাগজে লিখে, টিভি টকশোতে গলা ফাটিয়েও সুবিধা করতে পারেনি। এখন মনে হয় তারা দম নিচ্ছে।

আজ বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি টন। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, চাল রফতানিও হচ্ছে। বরং সরকার এখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ফলন এত ভাল হয়েছে যে, কৃষক তাঁর উৎপাদন ব্যয় ও শ্রমমূল্য তুলতে পারবেন কিনা; বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার মেগাওয়াট, উৎপাদন বেড়েই চলছে; জিডিপি ৭ বছর ধরে ৬ শতাংশের ওপরে, সে তুলনায় মূল্যস্ফীতিও সহনীয় পর্যায়ে; মাথাপিছু আয় বছরে ১৩১৪ মার্কিন ডলার; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; আইটি সেবা গ্রাম পর্যন্ত চলে গেছে; কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায়; ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১২ কোটি সেলফোন কার্যকর; গড় আয়ু ৭০-এর কাছাকাছি; ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে; সর্বোপরি গ্রামীণ অর্থনীতিতে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেছে, লক্ষ্যমাত্রার আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ আজ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বের অনেক দেশের কাছে ঈর্ষণীয়। উন্নত দেশগুলোও আজ বলছে, ‘বিস্ময়কর উত্থান ঘটেছে বাংলাদেশের। প্রোব ম্যাগাজিনের জরিপে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা বিশ্বের প্রভাবশালী একশ’ নারীর অন্যতম, প্রথমদিকেই আছেন।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রবাস জীবন থেকে দেশে ফিরে দীর্ঘ আন্দোলন করে জিয়া-এরশাদ-মইনউদ্দিনের মিলিটারি শাসন ও খালেদা জিয়ার আধা মিলিটারি শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রমনা জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ১৬ বছর পর ১৯৯৬ সালে। ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন এবং ৫ বছর পর ২৬ লাখ টন উদ্বৃত্ত রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। প্রথম মেয়াদে আরও ৩টি বড় অর্জন হলো ১. জিয়া-এরশাদ-খালেদার মিলিটারি সমাধানের বিপরীতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সঙ্কটের সমাধান করেন। ১৯৯৭ সালে (আগের একটি লেখায় ভুলক্রমে ১৯৮৭ উল্লেখ করায় দুঃখিত) অনুষ্ঠিত শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতিসহ সকল সশস্ত্র গ্রুপের অস্ত্র সমর্পণ এবং ভারতে চলে যাওয়া অর্ধ-লক্ষাধিক পার্বত্যবাসীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ২. শুষ্ক মৌসুমে ৩৩ হাজার কিউসেক পানির নিশ্চয়তাসহ ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করেন, যা মেয়াদ শেষেও পরবর্তী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে, ৩. ১৯৯৮ সালে দেশের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়, দেশের ৭০ শতাংশ বাড়ি-ঘর-ভূমি-ফসল ৯০ দিন পানির নিচে ছিল। তখন কত আন্তর্জাতিক সংস্থা বলেছিল ২ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যাবে। খালেদা জিয়া তা নিয়ে সারাদেশে বক্তৃতা করেন, কিন্তু শেখ হাসিনার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় একজন মানুষও না খেয়ে মরেনি, উপরন্তু বন্যার পরও কৃষিতে বাম্পার ফলন হয়, যা আজও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাবত বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে আছে এবং ৪. দীর্ঘ দেড় যুগ পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করে জাতিকে স্বস্তি দেন।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে। এবার উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ১. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় প্রদান এবং রায় কার্যকরণ হয়। এরই মধ্যে দু’জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। গোলাম আযমসহ আমৃত্যু সাজাভোগী দু’জন কারাগারে মারা গেছে, ২. সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বব্যাংকসহ সাম্রাজ্যবাদীদের মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়া, ৩. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই মেয়াদে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা আইন আদালতে ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে জয়লাভ করে বঙ্গোপসাগরে আমাদের জলাঞ্চলের অধিকার প্রতিষ্ঠা একটি বিরল ঘটনা, যা শেখ হাসিনার ‘সমুদ্র বিজয়’ নামে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতি লাভ করেছে, ৪. এ সময়ে শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যেমন ২০১৩ সালে মে মাসে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় বানচালের লক্ষ্য নিয়ে খালেদা জিয়া তাঁর দল, জোট এবং বিশেষ করে রগকাটা শিবিরকে মাঠে নামান এবং দেশব্যাপী নাশকতা শুরু হয়, পুলিশসহ মানুষ হত্যা, সম্পদ বিনষ্ট, আর কোন আন্দোলন হলেই স্বভাব অনুযায়ী সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে ধারা বিএনপির খালেদা তাও এ্যাপ্লাই করেন, এমনকি ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর নির্বাচন ঠেকাতে ৫৩২টি ভোটকেন্দ্র অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুল জ্বালিয়ে দেয়, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করে, তারপরও শেখ হাসিনার দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও ক্যারিশমা খালেদা জিয়াকে ঘরে পাঠিয়ে দেয়।

৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর নির্বাচন ও সরকার গঠন করেন। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার নাশকতার রাজনীতি থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্তি দেন। ঐ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে অর্থাৎ ২০১৫-এর ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়া নতুনভাবে নাশকতা শুরু করেন, নিজেকে দলীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘরে বসে দেশব্যাপী অবরোধ আবার অবরোধের ওপর হরতাল দিয়েও থামেননি, শিবির সন্ত্রাসীদের হাতে পেট্রোলবোমা দিয়ে মাঠে নামান। ৯২ দিনে দেড় শতাধিক মানুষ হত্যা, দেড় সহস্রাধিক যানে (রেলসহ) আগুন, সম্পদ বিনষ্ট, সংখ্যালঘু নির্যাতন করে ব্যর্থ হয়ে কার্যালয় ছাড়েন। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করেছেন কি-না তা সুস্পষ্ট কোন ঘোষণা না দিয়েই ব্যর্থতার গ্লানি এবং জ্বালা নিয়ে ঘরে ফেরেন। ফলে খালেদা জিয়ার নামে হয় আমিরে জামায়াত।

এবারের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রনাথ দামোদর দাস মোদির সঙ্গে দেনদরবার করেন শেখ হাসিনা। ৪১ বছরের স্থলসীমা সংক্রান্ত ‘মুজিব-ইন্দিরা’ চুক্তির বাস্তবায়ন। ভারতের পার্লামেন্টের দুই কক্ষে স্থলসীমা নির্ধারণ তথা ছিটমহল সঙ্কটের সমাধান করেন। কয়েকদিন পরই মমতা ব্যানার্জীকে সঙ্গে নিয়ে মোদি বাংলাদেশ আসছেন স্থলসীমা সমাধান সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মতো, শেখ হাসিনা ভারতে যাননি, মোদিই আসছেন বাংলাদেশে এটাই তার কূটনৈতিক সাফল্য।

অবশ্য বিএনপি এখন থুক্কু দিয়েছে ‘বিএনপি নাকি ভারতবিরোধী তার রাজনীতি কোনদিন করেনি, এখনও করছে না, ভবিষ্যতে করবে না। মোদির দল বিজেপি বিগত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের সম্ভাবনা দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লী দৌড়ান। ভাবখানা এমন কংগ্রেস গেছে, এবার আওয়ামী লীগ যাবে। দেখা গেল দিল্লীর রাস্তায় মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মোদির দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফেরেন। এভাবে শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাহসী, দক্ষ, দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী তথা রাষ্ট্রনেতা, যা বাংলাদেশের কা-ারি হিসেবে আজও প্রতিষ্ঠিত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। আর কি বলার প্রয়োজন আছে, কেন আওয়ামী লীগ করি এবং শেখ হাসিনাকে কারও কারও ভাষায় অন্ধভাবে সমর্থন করি, কেন খালেদা জিয়াকে সমর্থন করি না, পছন্দও করি না এবং কেন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির জন্য আরও অনেকদিন দরকার।

ঢাকা ॥ ২৯ মে ২০১৫

লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৫

৩০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: