কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সুন্দরবনের পাশে ফের ধস ॥ ভেঙ্গে পড়ল তিনটি বিলবোর্ড

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫, ০২:০৩ এ. এম.
  • পান্থপথ সড়কের একপাশে যানচলাচল বন্ধ ॥ গোটা এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পান্থপথ মোড়ে বহুতল ভবনের পাইলিং ধসের ঘটনায় ঝুঁকির রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে তিন জায়গায় ব্যাপক ধসের ঘটনা ঘটে। এতে আগের ধসের ঘটনায় ঝুঁকি কমে গিয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে যে ধারণা করা হয়েছিল, তা উবে গিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাত নয়টার দিকে সুন্দরবন হোটেলের পূর্ব-দক্ষিণ কোণার ইট, পাথর, মাটি ও দেয়াল ধসে পড়ে। তবে সেখানে কোন বিলবোর্ড ছিল না। দ্বিতীয় দফায় ধসের ঘটনাটি ঘটে সুন্দরবন হোটেলসংলগ্ন সামনের রাস্তার পান্থপথের কোণার দিকে। কোণার অংশে বিশাল আকৃতির তিনটি ভারি স্টিলের বিলবোর্ড ছিল। রাত দশটার দিকে বিলবোর্ডের নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে পাইলিংয়ের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে একটি বিলবোর্ড বিকট শব্দে হুড়মুড় করে প্রাচীর দেয়ালের ভেতরে আছড়ে পড়ে। তৃতীয় দফায় ধসের ঘটনাটি ঘটে এর মিনিটদশেক পরেই। ধসেপড়া ওই বিলবোর্ডের পাশেই ছিল আরও দুইটি বিলবোর্ড। এ দুটি বিলবোর্ড ছিল পান্থপথের কোণার সার্ক ফোয়ারার দিকে। ওই দুই ভারি বিলবোর্ডের নিচের অংশের মাটি ধসে পড়লে একটি বিলবোর্ড প্রাচীর দেয়ালের ভেতরে পাইলিংয়ের গভীর খাদে পড়ে যায়। আর অপরটি পান্থপথ ও সার্ক ফোয়ারা বরাবর পুরো রাস্তার ওপর পড়ে। তবে এই তিন দফা ধসে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার পর থেকেই সুন্দরবন হোটেলের সামনের এবং হোটেল ও নির্মাণাধীন ভবনের মাঝখানে থাকা রাস্তা অনেক আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও সুন্দরবন হোটেল ও নির্মাণাধীন ভবনের মাঝ দিয়ে যাওয়া পনেরো ফুট চওড়া ওই রাস্তার অন্তত দেড় শ’ ফুট বুধবারই পাইলিংয়ের গভীর খাদে ধসে পড়ে। বিলবোর্ড ধসে পড়ায় নতুন করে বন্ধ করে দিতে হয়েছে পান্থপথ সড়কের সার্ক ফোয়ারা থেকে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যাওয়ার দক্ষিণ দিকের একপাশের রাস্তা। ওই সড়ক এলাকায় যানবাহন এবং সর্বসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বসুন্ধরা শপিংমলের সামনের পুরো সড়কটির একপাশ।

রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সার্ক ফোয়ারা থেকে পান্থপথ হয়ে বসুন্ধরা শপিংমল হয়ে ধানম-ি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে যাওয়ার রাস্তার দক্ষিণ পাশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। এমন ঘটনায় রাজউক, ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুত, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছেন।

বহুতল ভবনের পাইলিং ধসের পর আশপাশের এলাকা পুরোপুরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান। তিনি ঘটনাস্থল থেকে দায়িত্বশীলসহ সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে কাজের পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন পান্থপথ মোড়ে সি আর দত্ত সড়কের ১/সি/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পাইলিংয়ের গর্তে ধসে পড়ে পাশের সুন্দরবন হোটেলের সীমানা প্রাচীর, রাস্তা, ফুটপাথ, বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি, কয়েকটি গাছ, টং দোকান, ফুচকা ও কয়েকটি ভ্যানগাড়ি। চাপা পড়ে চারটি ছোট ক্রেন। ঘটনার সময় কাজ না চলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সুন্দরবন হোটেলের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় হোটেলটি রীতিমত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বুধবার রাতে হোটেলের নিচের আরও কিছু মাটি ধসে পড়ে। হোটেলের নিচের পিলারগুলো থেকে মাটি সরে যাওয়ায় আলগা হয়ে আছে। যদিও বুধবারই অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে হোটেলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুন্দরবন হোটেলের নিচের পানির লাইন ফেটে যাওয়ায় দ্রুত পানি পড়ে মাটি সরে গিয়ে হোটেল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, হোটেলের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে কলাবাগান থাকায় বুধবার একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আর রাত আটটায় কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল জনকণ্ঠকে জানান, ধসের ঘটনায় রাজউকের তরফ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ঘটনাটি দেখভাল করার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাইলিংয়ের গর্তে প্রায় পাঁচ শ’ ট্রাক বালু ফেলা হয়েছে। যত বালু ফেলা হচ্ছে, ঝুঁকি তত কমে আসছিল। ভারি বৃষ্টি বা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মারাত্মক কোন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই জানান তিনি। সুন্দরবন হোটেলসহ আশপাশের বহুতল ভবনগুলোকে নিরাপদ রাখতে লিখিতভাবে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। যদিও বুধবারই সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে হাজির হন। সার্বিক পরিস্থিতি দেখেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধসেপড়া জায়গার পাশে থাকা ভবনগুলো নিরাপদ রাখাই এখন প্রধান কাজ। দুর্ঘটনার কারণ জানতে রাজউকের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫, ০২:০৩ এ. এম.

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: