আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সেরা হলেন হেলেন

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

‘কস্টা বুক অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ব্রিটিশ লেখিকা হেলেন ম্যাকডোনাল্ডের স্মৃতিচারণামূলক বই ‘এইচ ইজ ফর হক’। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর ভয়াবহ ধাক্কা আর শোকের সাথে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন, তারই আখ্যান রয়েছে ম্যাকডোনাল্ডের এই উপন্যাসটিতে। কেবল নিজ দেশেই নয়, দুনিয়াজোড়া সাহিত্যপ্রেমী আর সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে বইটি। মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার ‘স্যামুয়েল জনসন প্রাইজ’ও পেয়েছেন তিনি এই বই লিখে। ‘বর্ষসেরা কস্টা বই’ হওয়ার লড়াইয়ে বিচারকদের প্যানেলে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয় বইটি। হেলেন অবশ্য বলেছেন, পুরস্কার পাওয়ার আশা তিনি করেননি। একই সাথে তিনি এটাও ভাবতে পারেননি যে এই বইটি বহুদিনের বয়ে চলা এক মানসিক ভার লাঘব করবে। বইটি লিখে এখন তিনি সত্যিই নির্ভার। তিনি বলেন, ‘যখন আমি এটা শেষ করলাম, বইয়ের শেষ বাক্যটা লিখলাম; আমার মনে হলো বহুদিন ধরে বয়ে চলা কোনো ভার থেকে মুক্তি পেলাম। সেই সাথে যে মানুষটাকে নিয়ে বইয়ে লিখছি, সেও বিদায় নিয়েছে।’ হেলেন আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে এটা দিয়ে বাবাকে একটা দারুণ শেষবিদায় জানানো গেছে। একই সাথে সেই সময়ের আমাকে। আমি এমনটা আশাও করতে পারিনি।’ এদিকে ঔপন্যাসিক রবার্ট হ্যারিস এই বইটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘যোগ্যতাবলে কিছু বই পুরস্কার পায়, কিন্তু মানুষ এগুলো ঠিকঠাক বোঝেও না। কিন্তু এটা (এইচ ইজ ফর হক) এমন একটা বই যা সবারই ভালো লাগবে বলে আমি মনে করি।’ কস্টা বুক অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের লেখকদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার। ১৯৭১ সালে প্রথম হুইটব্রিড লিটারেরি অ্যাওয়ার্ডস শিরোনামে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

লাসেলা’র বুকার জয়

বিশ্বসাহিত্যের সম্মানজনক পুরস্কার ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল জিতেছেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহরকাই। সম্প্রতি লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সারা বিশ্বের ১০ জন লেখকের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে হাঙ্গেরীয় ভাষার এই লেখককে এবারের বিজয়ী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। হাঙ্গেরীয় সাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহরকাই হলেন ষষ্ঠ ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল বিজয়ী। সারা বিশ্বের লেখকদের জন্য উন্মুক্ত এ পুরস্কার দুই বছর পর পর দেয়া হয়। এই পুরস্কারটির ক্ষেত্রে লেখকের নির্দিষ্ট কোনো সাহিত্যকর্ম বিবেচনা করা হয় না। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৬০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘বুকার পুরস্কার’-এর প্রবর্তন হয় ১৯৬৮ সালে। শুধু কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের লেখকদের একটি নির্দিষ্ট উপন্যাসের ওপর এটি দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ব্রিটেনের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ম্যান গ্রুপ এ পুরস্কারে অর্থায়ন শুরু করলে এর নাম হয় ‘ম্যান বুকার পুরস্কার’। বুকার কমিটি ‘বুকার পুরস্কার’-এর পাশাপাশি ২০০৫ সালে প্রবর্তন করে ‘ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের পুরস্কারটির। এটি দেওয়া হয় দুই বছর পর পর। পুরস্কারটি সারা বিশ্বের লেখকদের জন্য উন্মুক্ত। এ ক্ষেত্রে লেখকের নির্দিষ্ট কোনো সাহিত্যকর্মকে বিবেচনা না করে তার সমগ্র সাহিত্যকর্মকে বিবেচনা করা হয়।

মার্কেজের সেই বই উদ্ধার

নোবেলজয়ী কলম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বিখ্যাত উপন্যাস ‘হানড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’-এর প্রথম সংস্করণের প্রথম বইটি চুরি হওয়ায় তোলপাড় পড়ে যায় বিশ্বসাহিত্যে। নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে সুখবর হলো, সম্প্রতি কপিটি উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে বইটি উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার সময়ে বইটি ফেলে যায়। চুরি যাওয়া বইয়ের কপিটিতে লেখকের স্বাক্ষর ছিল। কিছু দিন আগে কলম্বিয়ার বোগোটার আন্তর্জাতিক বইমেলার একটি তালাবদ্ধ আধার থেকে বইটি চুরি হয়ে যায়। দেশটির জাতীয় পুলিশের পরিচালক রোডোলফো পালোমিনো বলেন, বোগোটোর কেন্দ্রস্থলের এমন একটি এলাকায় বইটি পাওয়া গেছে যেখানে শিল্পসাহিত্য সামগ্রী সচরাচর বিক্রি হয়। আর্জেন্টিাইন পাবলিশিং হাউজ ১৯৬৭ সালে বইটির আট হাজার কপি প্রিন্ট করে। চুরি যাওয়া কপিটি তার একটি। এটির মালিক আলভারো ক্যাসটিলো। তিনি প্রথম সংস্করণের এ কপি মার্কেজের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। মার্কেজের স্বাক্ষর করে তাকে বইটি দেন। আলভারো বইটি পরে কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে দান করেন। জাদুবাস্তবতার স্রষ্টা হিসেবে খ্যাত মার্কেজ গত বছরের এপ্রিলে ৮৭ বছর বয়সে মেক্সিকোয় মারা যান।

অঞ্জন আচার্য

ইন্টারনেট অবলম্বনে

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: