মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজব হলেও গুজব নয়

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

তিন গাড়ির দামে এক বাইসাইকেল

জার্মানির নামীদামী অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অডি নিয়ে এলো এ সময়ের সবচেয়ে উন্নত স্পোর্টস রেসিং বাইসাইকেল, যার দাম শুনে চোখ হবে চড়কগাছ! বাইসাইকেলটির যে মূল্য সে টাকায় আপনি অনায়েসে কিনতে পারবেন উন্নতমানের তিনটি গাড়ি-মারুতি সুইফট, হুন্দাই আই ২০ ও টাটা ন্যানো! নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।

তিনটি গাড়ির দামে একটি অডি বাইসাইকেল! বুঝতে হবে বিশেষত্ব তো কিছু রয়েছেই। বিলাসবহুল এ বাইসাইকেলটির সীমিতসংখ্যক কিছু মডেলের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে জাপানের টোকিয়োর শিব্যুয়ার অডি শো-রুমে। স্পোর্টস রেসিং বাইক সম্পর্কে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অডির মন্তব্যÑ নান্দনিকতা ও প্রযুক্তির সন্নিবেশে তৈরি হয়েছে এ বাইসাইকেলটি। লাইটওয়েট কার্বনে তৈরি সাইকেলটি শুধু রেসেই দৌড়াবে না, পাহাড়ের সমতল পথেও এগিয়ে যাবে নির্বিঘেœÑ জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সাইকেলটির ফ্রেমের ওজন পাঁচটি আইফোন সিক্স প্লাসের চেয়েও কম। অর্থাৎ মাত্র সাত শ’ ৯০ গ্রাম! পুরো বাইকটির ওজন প্রায় ছয় কেজি। সারাবিশ্বে এই মডেলের সাইকেল বিক্রি হবে মাত্র ৫০টি। ভিন্নমাত্রিক স্পোর্টস রেসিংয়ে বাইসাইকেল অডির চলার পথকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস কোম্পানি কর্তৃপক্ষের।

৯৪ বছরে স্নাতক ডিগ্রী

বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ৭৫ বছরের চেষ্টায় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হতে চলেছেন ৯৪ বছরের মার্কিন নাগরিক এ্যান্টনি ব্রুটো। ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর হাতে ডিগ্রী তুলে দেবে।

ভার্জিনিয়ার শহর মরগ্যানটাউন। সেখানকারই বাসিন্দা এ্যান্টনি ব্রুটো। ১৯৩৯ সালে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ভর্তি হন তিনি। সঙ্গে ছিল শারীরবৃত্তি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টসের (শিল্প বিষয়ক আঁকা) মতো বিষয়ও। ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে প্রথমে পড়াশোনা করলেও ব্রুটোর মনে হয়, সে বিষয়ে তিনি যথেষ্ট পারদর্শী নন। এমনকি তাকে সাহায্য করার মতোও কেউ ছিল না। তাই বিষয় বদলে শারীরবৃত্তি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টসকেই বেছে নেন তিনি।

বেশ চলছিল ঠিকঠাক। আর কিছুদিনের মধ্যেই স্নাতকও হয়ে যেতেন ব্রুটো। কিন্তু ছেদ পড়ল মাঝপথে। ১৯৪২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁকে যোগ দিতে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেনাবাহিনীতে। তখন ভেনিস এবং ফ্লোরিডায় বহু সময় কাটিয়েছেন তিনি। মূলত বিমানের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সময়ে যা শিখেছিলেন, সেটাই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল ব্রুটোর কাছে।

তারপর যুদ্ধ শেষ হয়েছে। কিন্তু ব্রুটোর শুরু হয়েছে আরেক জীবনযুদ্ধ। স্থানীয় একটি সিমেন্ট কারখানায় বাবা এবং ভাইদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। কারখানার ভেঁপুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে গেলেও ব্রুটোর মন কিন্তু পড়ে রইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসঘরে। তাই ১৯৪৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার ভর্তি হলেন তিনি। আর এবার মনস্থির করেই ফেললেন যে, স্নাতক না হওয়া পর্যন্ত তিনি ছাড়বেন না। কিন্তু সে ইচ্ছাও পূরণ হলো না ব্রুটোর। অসুস্থ স্ত্রীর দেখভাল করার জন্য পড়াশোনায় ছেদ পড়ে তাঁর। কিন্তু শেষমেশ জয় হলো ইচ্ছার। গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯৪ বছরের ব্রুটোর হাতে তুলে দেয় ডিগ্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই অন্যতম বয়স্ক, যিনি স্নাতক ডিগ্রী পেয়েছেন। আসলে বয়স নয়, ইচ্ছাই হলো সককিছু। সেই ইচ্ছার জোরেই স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন বুড়ো ব্রুটো।

বিচিত্র খাবার ‘আটপাত্র’

নানা জাতি আর সংস্কৃতির মানুষকে ঘিরেই পৃথিবী। একেক সংস্কৃতির লোকজন একেক রকম ঐতিহ্য পালন করে। প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা, খাবার এবং পোশাক। খাবারেও যে নিজস্ব সংস্কৃতি প্রকাশ পায় তার উদাহরণ চীনের লুওইয়াং শহর। ওই শহরের লুয়ানচুয়াং এলাকার একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ‘আটপাত্র’ নামের একটি বিশেষ খাবার।

স্থানীয় রাঁধুনিরা অনেক দিন ধরেই এই খাবার তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেন। এর জন্য নানা রকম সবজি আর মাংস সংগ্রহ করেন তারা। এ খাবারটি তৈরি করা হয় ১.২ টন টোফু, ১ টন শূকরের মাংস, ১.২ টন বাঁধাকপি, ১ টন পাঁজরের মাংস, ১.৭৫ টন অঙ্কুরিত মটরশুঁটি, ১.২ টন গাজর, ৫শ’ কেজি মুলা এবং ৬শ’ কেজি ভাজা শিমের দানা। ট্রাকে করে এই শস্যগুলো সংগ্রহ করেন রাঁধুনিরা। এরপর এগুলোকে রান্নার জন্য প্রস্তুত করেন তারা। অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে এগুলো নির্দিষ্ট আকারে ছোট ছোট টুকরা করা হয়। এরপর আসে বড় বড় পাত্রে এগুলোকে রান্নার পালা। রান্নার পর খাবারগুলোকে পরিবেশন করা হয় বিশেষ পাত্রে।

পাশাপাশি আটটি খাবার সাজানো থাকে বলেই এ খাবারকে বলা হয় ‘আটপাত্র’। এই খাবারের প্রধান উপকরণ হচ্ছে মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি। বিভিন্ন রঙের সবজি খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। শুধু মাংস আর সবজি নয়, বিভিন্ন ধরনের মসলা যেন খাবারে এনে দেয় বাড়তি স্বাদ। সম্প্রতি এই উৎসব পালিত হয়েছে চীনের হেনান প্রদেশের লুওইয়াং শহরের লুয়ানচুয়ান এলাকায়। সেখানে ১৫০ জন রাঁধুনি সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ‘আটপাত্র’ খাবার তৈরি করেছেন। রান্না শেষে খাবারটি স্থানীয় লোকজনকে পরিবেশন করা হয়েছে। একসঙ্গে শহরের সবাই এই বিশেষ খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেছেন।

সাত-সতেরো প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: