রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই ধর্ষক ১০ দিন রিমান্ডে

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫
  • গারো তরুণী ধর্ষণ

কোর্ট রিপোর্টার ॥ গারো তরুণীকে মাইক্রোবাসে গণধর্ষণের মামলায় আটক আশরাফ খান ওরফে তুষার ও ড্রাইভার লাভলুর ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে ভাটারা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন (তদন্ত) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এদিকে মামলাটির প্রত্যক্ষদর্শী ৩ সাক্ষী আদালতে মাজিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষ্য হিসেবে জবানবন্দী দেন। এরা হলেন নুরুল আলম, মাহবুব হোসেন ও খোকন সরদার। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন, হাসিবুল হক এবং মাসুদ জামান এদের জবানবন্দী গ্রহণ করেন। আসামিপক্ষে এ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট তা নাকচ করে দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার আশরাফ খান ওরফে তুষারকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা থেকে এবং চালক লাভলুকে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর থেকে আটক করা হয়। যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং মলের টেক্সমার্ট নামক প্রতিষ্ঠানের সেলস ওম্যান হিসেবে চাকরিজীবী ওই তরুণী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২১ মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টেক্সমার্টে ডিউটি করার পর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন দলিপাড়ার বর্তমান ঠিকানার বাসায় যাওয়ার জন্য ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে ভাটারা থানাধীন কুড়িলের সিনহা সিএনজি মোটরস এ্যান্ড স্টিল টেকনো দোকানের সামনে বাসে ওঠার জন্য আসেন। বাসে প্রচ- ভিড় থাকায় উঠতে পারছিলেন না তিনি। বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে দক্ষিণ দিক থেকে এ্যাশকালারের একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ২ ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্রের মুখে গাড়িতে জোর করে ওঠায়। গাড়িতে ছিল ৫ জন। দু’জন ফর্সা এবং ৩ জন শ্যামলা বর্ণের। একজনের হাতে কালো ব্রেসলেট ছিল। সবাই স্বাস্থ্যবান এবং ড্রাইভারের মাথার চুল কিছুটা লম্বা এবং একজনের মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। যাদের পুনরায় দেখলে চিনতে পারব। গাড়িতে তোলার পর ড্রাইভার মাইক্রোবাস এক ঘণ্টা ধরে ধীরে ধীরে চালিয়ে এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে। ওই সময়ের মধ্যে ড্রাইভার ছাড়া বাকি চার জন পেছনের সিটে জোর করে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ ড্রাইভার একটি নির্জন স্থানে গাড়ি থামিয়ে নিজেও ওই তরুণীকে জোর করে ধর্ষণ করে এবং রাত পৌনে এগারোটার দিকে উত্তরা জসীম উদ্্দীন রোডের মাথায় এই তরুণীকে নামিয়ে দেয়।

তবে ৫ জন ধর্ষণের কথা বললেও রিমান্ডে যাওয়া তুষার ও লাভলু গ্রেফতারের পর র‌্যাবের কাছে দাবি করেছে মাইক্রোবাসে তারা দুজনই ছিল এবং তারা দুজনই ধর্ষণ করে। ধর্ষকরা সাংবাদিকদের বলেছেন, গত ১৭ মে দুই বিদেশী ক্রেতাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের টেক্সমার্ট শোরুমে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় ধর্ষণের শিকার ওই গারো তরুণীর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তুষার ওই তরুণীকে জানায়, তিনি সিগমাত বায়িং হাউসে চাকরি করে। তরুণীটি জানতে চান, সেখানে কোন লোক নিয়োগ হবে কিনা। নিয়োগ করা হবে এ ফাঁদ পেতে তুষার ওই তরুণীর কাছ থেকে কৌশলে মোবাইল নম্বর নেয় এবং মোবাইলে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে কথা হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে গত ২১ মে মাইক্রোবাসে তুলে এই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: