মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

৯২ দিন সন্ত্রাস করে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন খালেদা

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫
  • ছাত্রলীগের ঢাকা উত্তরের সম্মেলনে তোফায়েল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে ৯২ দিন দেশে সন্ত্রাস, অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতে অত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরে গেছেন। মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ এবং সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আন্দোলনে যে বিজয় লাভ করা যায় না সেটা উপলব্ধি করতে পেরেই তিনি (খালেদা) এখন নিশ্চুপ ও নিস্তব্ধ হয়ে গেছেন। খালেদা জিয়ার এই আন্দোলন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিয়ে আমরা ব্যর্থ করেছি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া বিশ্ব ইজতেমা, স্বাধীনতা দিবস এবং অমর একুশে ফ্রেব্রুয়ারির দিন হরতাল-অবরোধ করেছেন। এখন উনি উপলব্ধি করেছেন যে আন্দোলনের পথ এটা নয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে কেউ কখন কলঙ্কিত করতে পারেনি। অনেক সময় সুবিধাভোগী কেউ ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণœ করতে পারে। সেদিকে ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীদের খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর লক্ষ্যে অবিচল। তিনি তাঁর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছব। সেই কাজে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের অনেক বিজয় হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নাশকতার আন্দোলন ব্যর্থ করেছি, তিন সিটি করপোরেশনে আমরা বিজয়ী হয়েছি, বন্ধুপ্রতিম ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় স্থলসীমানা চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাঙালী জাতিকে গর্বিত করেছেন।

ফুলে ফুলে সজ্জিত বর্ণিল মঞ্চের সামনে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আগত অতিথিদের ব্যাজ পরিয়ে বরণ করে নেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক প্রমুখ।

সম্মেলন পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে পদ প্রত্যার্শীদের কাছে বিক্রি করা ফরমের অর্থ নেপালের ভূমিকম্প দুর্গতদের দিতে নেপালী স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, আগামী ৩০ মে বিকাল ৪টায় সংশ্লিষ্ট নেতারা বৈঠকে বসে নগর উত্তরের কমিটি ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে রাজধানীর ধানম-ি, মিরপুর, তেজগাঁও, গুলশান-বনানী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছিল লক্ষণীয়। সকাল ১০টায় সম্মেলন শুরু হলেও নকাল ৯টা থেকেই রাজধানীর ওইসব এলাকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল, ব্যানার, ফেস্টুন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে কলাবাগান মাঠে জড়ো হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের সেøøাগান-পাল্টা সেøাগানের মাত্রা এত বেশি ছিল যে মঞ্চে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এবং ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও বিরক্তি প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন। ভারত বিরোধিতা করে রাজনীতিতে সফল হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তী স্বৈরশাসকও একই কাজ করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া ৯১-তে ক্ষমতায় এসেও গঙ্গার পানি নিয়ে আলাপ করেননি। বলেছিলেন ভুলে গেছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছেন। ২০০৯-এ সরকার গঠন করে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে প্রটোকল সই করেছিলেন, সেটাও অনুমোদিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন। আমরা বাণিজ্য চুক্তি করব। আমরা অনেক চুক্তি করব। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে বিবদমান সমস্যা ছিল, সেগুলা আমরা সমাধান করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাও পাব।’

‘বিএনপি কখনও ভারত বিরোধিতা করেনি, করবেও না’ মর্মে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিএনপির পয়দাই হয়েছিল ভারত বিরোধিতা করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেই তো তারা বলেছিল, নৌকায় ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে। এখন মোদি আসছেন। তাই এ কথা। কথায় বলে ঠেলার নাম বাবাজি। ভূত পালায় যার ডরে।’

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: