কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিয়ানমারের নিপীড়নে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা জড়াচ্ছে জঙ্গী কর্মকাণ্ডে

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫
  • ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
  • আজ মানব পাচার নিয়ে ব্যাঙ্ককে সতেরো দেশের বৈঠক

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গারা কেবলই আসছে। জল স্থলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এরা বাংলাদেশে ঢুকছে যুগ যুগ ধরে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও সে দেশের সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নির্যাতনে টিকতে না পেরে এরা দেশান্তরি হচ্ছে এদেশে এবং অন্য দেশে পাড়ি জমানোর জন্য এদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। দীর্ঘ সময় জুড়ে এ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়ে আছে। মানবতা দেখাতে গিয়ে এবং বিশ্ব সংস্থাগুলোর আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বাংলাদেশ এ রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিয়ে এখন রীতিমতো ঘাড়ে চেপে বসেছে, যা বড় ধরনের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের শঙ্কা ॥ কুয়েতে ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের ৪২তম বৈঠকে এশিয়ার দেশগুলোর পক্ষ থেকে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান জানিয়েছেন, মিয়ানমারে পরিকল্পিত রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও বিতাড়নের কারণে এরা উগ্রপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ও জঙ্গী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। উগ্রপন্থীদের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে এ অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন সংগঠনে তাদের যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং এ বিষয়ে বিশ্বকে দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং গত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেন। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের বাইরে আরেকটি সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, চুক্তিতে রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সমাজের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের বাঙালী হিসেবে প্রমাণিত না করা পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সে দেশের আদমশুমারির বাইরে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং ওআইসি মহাসচিবের প্রতি তিনি সমর্থন জানান। রোহিঙ্গা পাচারের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, রোহিঙ্গা ইস্যু এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশের জন্য সমস্যা।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশ থেকে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেককে ইতোমধ্যে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে। এদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে, হত্যা করে, বাপ দাদার ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার ফলে বাংলাদেশই এদের বৈধ অবৈধ আশ্রয়ের সংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে ১০ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ৩২ হাজার উখিয়ার দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে এরা নিবন্ধিত হয়ে আছে। বাকিরা কক্সবাজার অঞ্চল জুড়ে এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ বসতি গড়ে গেড়ে বসেছে। এসব রোহিঙ্গাদের ক্রমাগতভাবে বংশ বিস্তৃতি ঘটছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা এদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে অবৈধভাবে। এছাড়া মিয়ানমারের এসব রোহিঙ্গারা অশিক্ষিত এবং অনগ্রসর শ্রেণীর লোক হওয়ায় এদের জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধ করছে জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী কিছু সংগঠন, এমনকি গোপনে কিছু ইসলামিক ব্যানারের এনজিও সংস্থা। সঙ্গত কারণে এ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা যথাশীঘ্র করা না গেলে বাংলাদেশে এদের অপতৎপরতা, বিশেষ করে জঙ্গীপনায় যুক্ত হয়ে এদেশের সর্বনাশ ঘটানোর সমূহ আশঙ্কা রয়েছে বলে নানা শ্রেণী পেশার বিশেষজ্ঞদের অভিমত রয়েছে।

আজ ব্যাঙ্ককে ১৭ দেশীয় আঞ্চলিক বৈঠক ॥ সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে গণকবর ও বন্দীশিবির আবিষ্কৃত হওয়ার পর সারাবিশ্বের নজর এখন এ সমস্যা দিকে। এহেন পরিস্থিতিতে আজ থাই সরকারের উদ্যোগে ব্যাঙ্ককে অনষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সতের দেশীয় এক আঞ্চলিক সম্মেলন। যেখানে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশও। এ সম্মেলনে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং ইরানের প্রতিনিধিরা যোগ দেবে পর্যবেক্ষক হিসেবে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, ইউএনএইচসিআর এবং আইএমও’র প্রতিনিধিরাও এ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বলে বিশ্ব গণমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইবে ॥ আজ ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিতব্য সতেরো দেশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশ মানবপাচারের ট্রানজিট এবং গন্তব্য দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকায় এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চাইবে। সরকার ইতোমধ্যে সব মিলিয়ে বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে এবং এ জন্য একটি কৌশল ঠিক করেছে। সরকারী বিভিন্ন সংস্থা গত কয়েকদিন ধরে মানবপাচার রোধে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি কৌশল নির্ধারণ করেছে। সরকার ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের ডেকে এনে বাস্তব পরিস্থিতি অবহিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ড, মালয়েমিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আটকে পড়া সব বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রস্তুত। কিন্তু অন্য দেশের নাগরিকদের দায়িত্ব নেবে না বাংলাদেশ। ব্যাঙ্ককে আজকের সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিদেশী নাগরিকদের দাযিত্ব নেয়ার আহ্বান জানাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয সূত্রে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে প্রচুরসংখ্যক রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসে। এদের অনেকে ট্রানজিট হিসেবে এদেশকে ব্যবহার করে অন্যদেশে পাড়ি জমায় অথবা এখানেই থেকে যায়। তবে বাংলাদেশ এখন দ্বিমুখী সমস্যার সম্মুখীন। একদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ মিয়ানমারকে জোরালো কোন চাপ দিতে পারছে না, অন্যদিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাঙালী বলে অভিহিত করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি মিয়ানমার ॥ বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ইতোপূর্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিলেও কক্সবাজারের দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থানকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের গত ৯ মাসেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। যদিওবা ২ মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করার পক্ষে একমত পোষণ করেছিলেন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ঐ বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহিদুল হক ও মিয়ানমারের পক্ষে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান খিয়াউ নেতৃত্ব উভয় দেশের প্রতিনিধি দল দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ২ হাজার ৪১৫ জন শরণার্থী প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ঐ বৈঠকে প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন কারাগারে বন্দী ২শ’ বাংলাদেশী নাগরিককেও ফেরত দেবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার প্রতিনিধিদল। বন্ধুপ্রতিম দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে থাকা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের এ সিদ্ধান্তকে ওই সময় কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে মিয়ানমার সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

রোহিঙ্গারা এদেশে জঙ্গীপনায় জড়িত হচ্ছে ॥ পার্বত্য বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে মিয়ানমারের বিদ্রোহী জঙ্গী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সংগঠিত হয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তের বিভিন্ন উপজেলায় বর্তমানে যেসব আরএসও’র নেতা সক্রিয় এবং অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের একটি তালিকা গোয়েন্দা সংস্থা উচ্চপর্যায়ে প্রেরণ করেছে ইতোপূর্বে। ওই তালিকায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ২২ জন, আলীকদমের ২০ জন, লামার ১৫ জন, উখিয়ার ২০ জন, টেকনাফের ২ জনসহ প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্তে রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী আরএসও’র অপতৎপতা ও সরকারবিরোধী কর্মকা- চালাতে বিএনপি-জামায়াতের হয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসাসহ সর্বত্র আরএসও’র অর্থায়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে নগদ অর্থ, সেমাই, চিনি, চাল, ডাল, তৈল, লুঙ্গি, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এসব বিতরণ ও কর্মকা- পরিচালনার জন্য সরকারদলীয় কিছু সুবিধাভোগী নেতা ও কর্মকর্তাদের মোটা অংকের উৎকোচ প্রদান করে জঙ্গীরা। মূলত, নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, রামু, উখিয়া, টেকনাফসহ প্রভৃতি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) সংগঠিত করছেন রোহিঙ্গা জঙ্গী নেতা সালাহুল ইসলাম। এ জঙ্গীর সেকেন্ড ইন কমান্ড খ্যাত মুকিম উদ্দিন। বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ির আরএসও সামরিক ও এনজিও বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন ঐ মুকিম উদ্দিন এবং মৌলভী নজির। লন্ডন থেকে ড. ইউনুছ, নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তারা।

১৩৯ মৃতদেহ উদ্ধার ॥ মালয়েশিয়া সরকার বুধবার পর্যন্ত সে দেশের পেরলিস প্রদেশের গণকবর থেকে ১৩৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। কিন্তু এদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মিয়ানমারের মতো মালয়েশিয়ার সরকারও সে দেশের ১২ পুলিশের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে। অপরদিকে, পেরলিস প্রদেশের ওয়াং কেলিয়ান এলাকার জঙ্গলে গণকবরের সংখ্যা আরও বেশি বলে আবারও ধারণা দেয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি কবরে একটি করে লাশ রয়েছে বলে এখন বলা হচ্ছে। যেখানে ইতোপূর্বে বলা হয়েছিল প্রতিটি কবরে ৪ থেকে ৫টি লাশ থাকার কথা।

দুই মানবপাচারকারী গ্রেফতার ॥ এদিকে টেকনাফ পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখানকার সাবরাং এলাকা থেকে আরও দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। সাবরাংয়ের সারিয়াখালি গ্রামে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে মানবপাচারের দালাল সামাদ ও হামিদ নামের দুই সহোদর।

২৫০ জনের নতুন তালিকা ॥ কক্সবাজার পুলিশ ২৫০ জনের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। ওই তালিকায় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, নৌকার মাঝিসহ অনেকের নাম রয়েছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের তৈরি এ তালিকায় দালালদের মধ্যে বেশিরভাগ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অবশিষ্টরা বাংলাদেশী বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান জোরালোভাবে চলছে। গ্রেফতার এড়াতে গডফাদার ও দালালরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশন সেন্টারগুলোতে লিস্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সাগর পথে কেউ যাতে পালাতে না পারে সেজন্য কোস্টগার্ডের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সাগর পথে মানবপাচার রোহিঙ্গাদেরই সৃষ্টি ॥ মালয়েশিয়ায় মানবপাচার কারবারটি মূলত রোহিঙ্গাদের সৃষ্টি। প্রায় দেড় যুগ আগে রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ মালয়েশিয়া গিয়ে স্বজনদের কাছে মোটা দাগের টাকা পাঠাচ্ছে দেখে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের মধ্যেও মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। পাশাপাশি বাংলাদেশীদের অনেকে ২০১০ সালের দিকে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মালয়েশিয়া পৌঁছে ভাল রোজগার করছে বলে জেনে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের অনেকে মালয়েশিয়ায় যেতে উৎসাহী হয়ে পড়ে। এ সুযোগে গডফাদাররাও বিভিন্ন স্থানে দালাল নিয়োজিত রেখে দেদারছে লোক সংগ্রহ করে। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালে এ মানবপাচার কাজ ভয়াবহ হয়ে উঠে।

সংখ্যা এখন প্রায় সমান ॥ মিয়ানমারে এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বসবাস করছে। কিন্তু এদের কোন নাগরিকত্ব নেই। বাংলাদেশেও আশ্রিত এবং অবৈধ রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১০ লাখ। হাজার বছর ধরে বসবাসরত ওইসব রোহিঙ্গাদের বাঙালী হিসেবে চিহ্নিত করে দেশ ত্যাগ করতে বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নীপিড়ন চালিয়ে আসছে সেদেশের প্রশাসন ও রাখাইন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। ২০১২ সালে ৩ এপ্রিল এক রাখাইন তরুণীকে জঙ্গলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে আরাকান রাজ্যে রাখাইন-রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিগত দাঙ্গায় হাজারো রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। ওই সময় প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে ওরা এখনও আসছে এদেশে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অব্যাহত অত্যাচার বন্ধে বার বার আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।

হাতিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থানান্তরের চিন্তা-ভাবনা ॥ বাংলাদেশে দুইটি ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হাতিয়া দ্বীপে হস্তান্তরের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। হাতিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ৫শ’ একর জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকার শরণার্থীদের কক্সবাজারের দুইটি ক্যাম্প থেকে সরিয়ে হাতিয়া দ্বীপে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রটি আভাস দিয়েছে।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে রোহিঙ্গা আগমন ॥ ১৯৬২ সালে আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমান ও সে দেশের বৌদ্ধ জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে রোহিঙ্গারা সীমান্ত গলিয়ে অনুপ্রবেশ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ঢালাওভাবে রোহিঙ্গারা ধেয়ে আসে বাংলাদেশে। ওই সময় প্রায় ৩ লাখ (বেসরকারীভাবে ৪ লক্ষাধিক) রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে এদেশে আশ্রয় নেয়। পরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার কূটনৈতিক আলোচনার পর বেশিরভাগ রোহিঙ্গা সে দেশে ফিরে গেলেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এদেশে থেকে যায়।

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: