রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এবার মুঠোফোনে রোগ নজরদারি ব্যবস্থা চালু, দেশে প্রথম

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রোগ নজরদারি ব্যবস্থায় নতুন পদ্ধতি চালু করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। পদ্ধতির নাম দেয়া হয়েছে ‘মুঠোফোন ভিত্তিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা’। গত ২০১২ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে রোগ নজরদারিতে চালু হওয়া এ পদ্ধতি ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে। স্বল্প সময়ে কম ব্যয়ে দেশে রোগের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেতে এ পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। মুঠোফোন কোম্পানিগুলোর সহায়তায় মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন বয়সী (২০ বছরের বেশি) লোকজনের সঙ্গে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করা হয়। নির্ধারিত প্রশ্নসমূহের মাধ্যমে বের করে আনা হয় স্বাস্থ্য তথ্য। বছরে বার বার এ ধরনের জরিপ চালানো হয়। এতে নির্দিষ্ট কোন এলাকা, মানুষ ও রোগের পুরো চিত্র বেরিয়ে আসে। আর সেই অনুযায়ী দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বৃদ্ধি এবং রোগ মোকাবেলা করতে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার।

বুধবার মুঠোফোন ভিত্তিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থার ওপর সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) আয়োজিত অবহিতকরণ সেমিনারে আইইডিসিআর বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য জানান। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডাঃ মুস্তাক হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাঃ খালেদা ইসলাম।

সেমিনারে পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, রোগ নজরদারি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রাসঙ্গিক তথ্য না থাকলে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন ঘটাতে পরিকল্পনা তৈরি করা যাবে না। জরুরী জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি প্রতিরোধ, শনাক্ত এবং মোকাবেলা করতে প্রয়োজনীয় তথ্য যোগায় রোগ নজরদারি কার্যক্রম। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বিভিন্ন পদ্ধতিতে রোগ নজরদারি পরিচালনা করছে এবং তা আরও এগিয়ে নিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মুঠোফোন ভিত্তিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা একটি উদ্যোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের টেলিফোন জরিপ ‘ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের নজরদারি ব্যবস্থা’ নামে চালু আছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিফোন জরিপ। ১৯৮৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ অঙ্গরাজ্যে টেলিফোনের জায়গায় তারবিহীন মুঠোফোন চালু করা হয় প্রথমে। পর্যায়ক্রমে তার সংযুক্ত ফোনের জায়গায় তারবিহীন মুঠোফোন সব অঙ্গরাজ্যেই বিস্তার ঘটায়। বর্তমানে আরও কয়েকটি দেশ বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, মিসর ও ইতালিতে রোগী নজরদারি ব্যবস্থায় মুঠোফোন চালু করার প্রক্রিয়াতে রয়েছে। বাংলাদেশে গত ২০১২ সালে সর্বপ্রথম আইইডিসিআর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মুঠোফোনে রোগ জরিপের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিআরএফএসএস পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রকল্পটিতে কারিগরি সহায়তাদানে এগিয়ে আসে সিডিসি (আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র) এবং অর্থায়ন করে জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহের আন্তর্জাতিক সমিতি। পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও বাংলাদেশ মুঠোফোন পরিচালনাকারী সমিতির সহায়তায় আমরা দেশের ছয়টি মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করি। ২০১৪ সালে জাতীয়ভাবে মুঠোফোনের সাহায্যে জরিপ পরিচালনা করি। এরপর ২০১৫ সালে আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে জাতীয়ভাবে মুঠোফোনের সাহায্যে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এ মুঠোফোন ভিত্তিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থাকে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এইচপিএনএসডিপি, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, নেদারল্যান্ড রাজতন্ত্র ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি। এ কার্যক্রম বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে। মুঠোফোন ব্যবহারের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তি সংযুক্ত করে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়েছে আইইডিসিআর।

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫

২৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: