কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকে

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫, ১২:৪৮ এ. এম.
  • বিটুমিন দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে বিটুমিন কালোবাজারে ছেড়ে শত কোটি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেজওয়ান খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিপিসি প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও সচিব মোঃ ইউনুছুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বেলা দশটা থেকে দুপুর পর্যন্ত দুদকের উপপরিচালক আবদুস সোবহান রেজওয়ান খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সড়ক সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দেশে ব্যবহৃত বিটুমিনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ টন। জ্বালানি তেলের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদিত হয় মাত্র ৭০ হাজার টন। বেসরকারী কোম্পানির আমদানি করা বিটুমিন দিয়ে বাকি চাহিদা পূরণ হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদিত বিটুমিনের ড্রামপ্রতি মূল্য ৯ হাজার টাকা। আর বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা বিটুমিনের ড্রাম সাড়ে ১১ হাজার টাকা। অর্থাৎ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা বিটুমিনের মূল্য বিপিসি নিয়ন্ত্রিত বিটুমিনের মূল্যের চেয়ে ড্রামপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বেশি। বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিটুমিনের কালোবাজারি তৎপরতা চালানো হয়। বিপিসি চেয়ারম্যানসহ উচ্চমহলের সুপারিশেই ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে বিটুমিন কালোবাজারে বিক্রি করে শত কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

দুদকে প্রাপ্ত এমন অভিযোগ তদন্তে দেখা যায় তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি ও বিপিসি নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন পাঁচ শত টন পর্যন্ত বিটুমিন বিক্রি হয়েছে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে। হাতিয়ে নেয়া হয়েছে শত কোটি টাকা। ভুয়া প্যাড, সিল ও ডিও লেটারের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ওই বিটুমিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

২০১২ সালের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি তেল কোম্পানি থেকে (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি) ফেব্রুয়ারি মাসে ৬ হাজার ১৯৮ টন বিটুমিন, মার্চ মাসে ৬ হাজার ৫৭৩ টন এবং এপ্রিলে ৭ হাজার ৪৩ টন বিটুমিন বিক্রি হয়েছিল। যেখানে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিটুমিন মোট ৪ হাজার ৮০৪ টন, মার্চে সাড়ে ৪ হাজার টন এবং এপ্রিল মাসে প্রায় ৪ হাজার ৩৯৫ টন বিটুমিন বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রতি মাসে গড়ে দুই হাজার টন বিটুমিন বেশি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াই প্রমাণ করে কালোবাজারে বিটুমিন বিক্রি হচ্ছে। আর অনৈতিকভাবে খোলা বাজারে এত বিটুমিন বিক্রি করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বিপুল অর্থ।

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫, ১২:৪৮ এ. এম.

২৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: