কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দেশের ৫৩ নদী দ্রুত খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে ॥ শাজাহান খান

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫, ১২:৩৭ এ. এম.

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের ৫৩ নদীপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২৪ নদীপথ সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নদীপথগুলোতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষার জন্য অবিলম্বে ২১ সার্ভেয়ার নিয়োগ দেয়া হবে। বুধবার রাজধানীর ঢাকা চেম্বারের সেমিনার কক্ষে ‘সমুদ্র আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি : বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সেমিনারের আয়োজন করে। এ সময় তিনি বেসরকারী খাতে সমুদ্র পরিবহন ব্যবসায় আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম (বীরবিক্রম), ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাজাহান খান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নেভাল আর্কিটেকচার এবং মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর খাবিরুল হক চৌধুরী। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি নদীবন্দরগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, গত বছর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছে, যেখানে ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১৬ মিলিয়ন। মংলাবন্দর গত বছর ৬০ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছে। তিনি জানান, পায়রা বন্দর স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ৬ থেকে সাতটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এ বন্দরের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সরকার দেশের ৫৩ নদীপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে ২৪ নদী পথ সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নদীপথগুলোতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষার জন্য সত্ব¡র ২১ সার্ভেয়ার নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি দেশের বেসরকারী খাতকে সমুদ্র পরিবহন ব্যবসায় আরও বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বন্দরবিষয়ক বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৮৬তম উল্লেখ করে নৌমন্ত্রী জানান, আগামী বছর তা ৭৬ এ উন্নীত হবে। মেরিটাইম সেক্টরে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। এ খাতে কয়েক বছর আগেও বাজেট ছিল ৭৮ কোটি টাকা, যা বর্তমানে এক হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচ এ গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার ক্যাপ্টেন এ কেএম শফিউল্লাহ। প্রবন্ধে তিনি বলেন, সামুদ্রিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য সরকার ও বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তাদের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি চীন ও ভারতের মতো শক্তিশালী দেশকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। তিনি আঞ্চলিক সামুদ্রিক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আঙ্কটাডে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। সমুদ্রপথে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা গেলে পণ্যের দাম ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে হলে সমুদ্রকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম (বীরবিক্রম) বলেন, দ্রুত পলি জমায় বাংলাদেশের নদীসমূহ নাব্যতা হারাচ্ছে, তাই নদীর নাব্য ধরে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত ড্রেজিং পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছরে এ অঞ্চলের নদীগুলোতে পলির প্রবাহ কী ধরনের হতে পারে, তার ওপর গবেষণা পরিচালনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাজাহান খান বলেন, দেশের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার আরও কার্যকর করতে হবে। প্রফেসর খাবিরুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সঙ্গে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগযোগ স্থাপন করতে হবে। নতুন কাক্সিক্ষত লক্ষমাত্রা পূরণ সম্ভব নয়।

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫, ১২:৩৭ এ. এম.

২৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: