রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ধীপান-এর কান জয়

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫
  • মাহমুদুল হক মনি

এ বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পাম ডি’অর (স্বর্ণ পাম) পুরস্কার জিতে নিল জ্যাক অডিয়ার্ড পরিচালিত ছবি ‘ধীপান’। প্রতিযোগিতার দৌড়ে থাকা ১৯ টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ফরাসি মেলোড্রামা ‘ধীপান’র এই জয় সবাইকে চমকে দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৬৮তম উৎসব গত ১৩ মে শুরু হয় ফ্রান্সের কান শহরে। মূল প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে এ উৎসবের পর্দা নামল ২৪ মে রাতে। প্রথমবারের মতো জোয়েল এবং ইথান কোয়েন দুই ভাই মূল প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন। ৯ জনের জুড়ি বোর্ডের সিদ্ধান্তে ‘ধীপান’কে সেরা চলচ্চিত্র ঘোষণা করা হলে পরিচালক অডিয়ার্ড পুরস্কার গ্রহণের সময় অনুভূতি ব্যক্ত করেন, ‘কোয়ের ভ্রাতাদ্বয়ের হাতে এ পুরস্কার আমার কাছে অনন্য। এটি আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে গেছে’। ধীপান মূলত একজন শ্রীলঙ্কান তামিল টাইগার গেরিলার অবৈধ অভিবাসনের গল্প। শ্রীলঙ্কান এই যোদ্ধা আশির দশকের শেষে একজন অপরিচিত নারী ও শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্সে অভিবাসন করে। পরে সে ঐ নারী ও শিশুকে তার স্ত্রী ও কন্যা পরিচয় দেয়। মেলোড্রামা ও এ্যাকশনধর্মী এ ছবির শেষে এক আকস্মিক ঘটনায় তার জীবন ও চরিত্রে কী পরিবর্তন আনে। তবে ছবিটির মূল উপজীব্য হচ্ছে দুটি সংস্কৃতি ও ভাষার পার্থক্যের কারণে ধীপানের অদ্ভুত জীবনাচরণ। অভিবাসনের মতো সাধারণ বিষয় হলেও ধীপানকে সমালোচকরা একটি শক্তিশালী চলচ্চিত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। অডিয়ার্ডের চলচ্চিত্রে বরাবরই সমাজের অবহেলিত শ্রেণীর গল্প থাকে। এ চলচ্চিত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। ফরাসি, ইংরেজী ও তামিল ভাষায় নির্মিত ধীপানের ১০৯ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীলঙ্কান জেসুথাসান এ্যান্থনি ও ভারতীয় কালেস্বরি শ্রিনিবাসন। সমালোচকরা মনে করেন ধীপানের এই পুরস্কার জয়ের পেছনে উপমহাদেশের এই দু’জনের অভিনয়ের অনেক ভূমিকা রয়েছে। এ ছবিটি সম্বন্ধে ৬৩ বছর বয়সী পরিচালক অডিয়ার্ড বলেন, ‘আমাদের সমাজে একজন ভিন্ন মানুষের গল্প আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’ কানের এ আসর ছিল চমকে ভরপুর। দু’জন নারীর ব্যতিক্রমী প্রেমের গল্প নিয়ে হলিউডে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ক্যারল’ই হয়ত স্বর্ণ পাম জিতবেন বলে অনেকে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু ক্যারলকে হারিয়ে ধীপানের এ জয়কে অনেক অভিনেতা ও নির্মাতাই স্বাগত জানিয়েছেন। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক এ-্রু পালভারের মতে, ‘এ চলচ্চিত্রটি হয়ত অডিয়ার্ডের সেরা সৃষ্টি নয়, কিন্তু এটি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ছবি।’ ধীপানের এ জয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে কান চলচ্চিত্র উৎসব গতানুগতিক দর্শকপ্রিয় হলিউড চলচ্চিত্রের বাইরে ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র চর্চাকে অনুপ্রাণিত করছে। গত কয়েক দশক ধরে এ উৎসব হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বের ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কুশলীদের মিলনস্থল। অভিবাসীর ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ধীপান’-এর কান জয়ে বিশ্ববাসী পুরাতন অভিবাসন সমস্যাকে নতুন করে ভাবছে।

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫

২৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: