কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চলচ্চিত্রে নজরুল

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫
  • অঞ্জন আচার্য

কাজী নজরুল ইসলামকে কেবল কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, গায়ক বা সুরকার হিসেবেই চেনেন সবাই। কিন্তু অনেকের কাছেই অজানা। চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবেও তিনি পেয়েছিলেন যথেষ্ট সাফল্য। এমনকি চলচ্চিত্র পরিচালনায় তিনিই ছিলেন প্রথম বাঙালী মুসলমান। মোট কতগুলো চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন নজরুল, তা এখনও গবেষণার বিষয়। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০ থেকে ২২টি ছবির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। তাঁর ছবির মধ্যে রয়েছে : জলসা (আবৃত্তি ও গান), ধুপছায়া, প্রহ্লাদ, বিষ্ণুমায়া, ধ্রুব, পাতালপুরী, গ্রহের ফের, বিদ্যাপতি (বাংলা), বিদ্যাপতি (হিন্দি), গোরা, সাপুড়ে (বাংলা), সাপেড়া (হিন্দি), নন্দিনী, চৌরঙ্গী (বাংলা), চৌরঙ্গী (হিন্দি), দিকশূল, অভিনয় নয় প্রভৃতি।

অবিভক্ত বাংলায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পার্শি মালিকানাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাডান থিয়েটারস। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ১৯১৯ সালে নির্মিত হয় কলকাতায় প্রথম নির্বাক বাংলা ছবি ‘বিল্বমঙ্গল’। ১৯৩০-৩১ সালে ম্যাডান থিয়েটারসই প্রথম সবাক বাংলা ছবি নির্মাণেরও উদ্যোগ নেয় বাণিজ্যিক কারণে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ত্রিশের দশকে নজরুল ম্যাডান থিয়েটার্সের ‘সুরভা-ারী’ পদে নিযুক্ত হন। কলকাতার দৈনিক ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় ১৯৩১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় ছাপা হয় এ খবরটি। সিনেমায় যারা গাইবেন ও অভিনয় করবেন তাদের গান শেখানো ও উচ্চারণ শুদ্ধ করার দায়িত্ব ছিল নজরুলের ওপর। শুধু তাই নয়, গান লেখা ও সুর করারও দায়িত্ব পালন করতে হতো তাঁকে। ১৯৩১ সালে প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘জামাইষষ্ঠী’তে সুরভা-ারীর কাজ করেন নজরুল। বলে রাখা ভাল, এই ‘সুরভান্ডারী’ পদটি সঙ্গীত পরিচালকেরও উপরে। ম্যাডান থিয়েটারসে সুর ভা ারী হিসেবে নজরুলের যোগদানের পরই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৪০টি সবাক খন্ডচিত্র নির্মিত হয়। এগুলো ‘জলসা’ নামে মুক্তি পায় ১৯৩১ সালের ১৩ মার্চ। সম্ভবত এই চিত্রে নজরুল তাঁর ‘নারী’ কবিতাটি আবৃত্তি ও একটি গান পরিবেশন করেছিলেন। ১৯৩১ সালে ‘প্রহ্লাদ’-এ সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন নজরুল। ১৯৩৩ সালে নির্মিত ‘কপালকুন্ডলা’ ছবিতে যুক্ত ছিলেন গীতিকার হিসেবে। ১৯৩৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি পরিচালনা করেন ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রটি। এতে তিনি নারদের চরিত্রে অভিনয় করেন। ওই ছবির গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন নজরুল নিজেই। চলচ্চিত্রটিতে ১৮টি গানের মধ্যে ১৭টি গান ছিল নজরুলের লেখা। ৩টি গানে কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি। ‘ধ্রুব’ মুক্তি পায় ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি। এদিকে ১৯৩৮ সালে নজরুলের ‘বিদ্যাপতি’ নিয়ে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র। ১৯৩৫ সালে ‘পাতালপুরী’ ছবির সুরারোপ ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি। ১৯৩৭ সালে সঙ্গীত পরিচালনা করেন ‘গ্রহের ফের’ ছবির। রবীন্দ্রনাথে ‘গোরা’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি ১৯৩৮ সালে। এতে রবীন্দ্রনাথের গানে সুরারোপ করেন তিনি। চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন নরেশ মিত্র। ১৯৩৮ সালে নির্মিত ‘সাপুড়ে’ ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছিলেন কাজী নজরুল। ১৯৪২ সালে নির্মিত ‘চৌরঙ্গী’ ছবিতে নিজের লেখা ৮টি গানে সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে ‘অভিনয় নয়’ ছবিতে ব্যবহৃত হয় গিরীণ চক্রবর্তীর সুরে নজরুলের লেখা একটি গান। ‘দিকশূল’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিল পঙ্কজ মল্লিকের সুরে নজরুলের দুটি গান। নজরুল ছিলেন ‘শহর থেকে দূরে’ ছবির অন্যতম গীতিকার। এছাড়া ম্যাডান থিয়েটার্স কোম্পানির আরও যেসব চলচ্চিত্রের সঙ্গে নজরুল সম্পৃক্ত ছিলেন সেগুলো হলো : ‘জ্যোৎস্নার রাত’ (১৯৩১), ‘ঋষির প্রেম’ (১৯৩১), ‘চিরকুমারী’ (১৯৩২), ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ (১৯৩২), ‘কলঙ্ক ভঞ্জন’ (১৯৩২), ‘রাধাকৃষ্ণ’ (১৯৩৩) এবং ‘জয়দেব’ (১৯৩৩)। এছাড়া ও তিনি অনেক চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । সব মিলিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের গোড়াপত্তনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের নাম।

প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৫

২৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: