কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

‘আকাশে হোন প্রহরী, দুর্যোগে মানুষের বন্ধু’

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫, ০১:৪৯ পি. এম.

অনলাইন ডেস্ক ॥ বিমান বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের আকাশসীমার ‘অতন্দ্র প্রহরী’ হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের বন্ধু হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে এল-৪১০ প্রশিক্ষণ পরিবহন বিমানের অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিশ্রম, পেশাগত দক্ষতা ও সততার বিকল্প নেই। তাই সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে আপনাদের প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনে মনোনিবেশ করতে হবে।”

‘জনগণের কষ্টার্জিত’ টাকায় সংগৃহ করা এই বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিমান বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ যত্ন নেবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “সমরে আপনারা হয়ে উঠুন আকাশসীমার অতন্দ্র প্রহরী, আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের বন্ধু।”

ঢাকায় বিমান বাহিনীর বাশার ঘাঁটিতে বুধবার এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এ বাহিনীকে আরও আধুনিক, কৌশলগত দিক দিয়ে সুদৃঢ়, শক্তিশালী ও কার্যকর একটি বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই বিমান বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ ও এ বাহিনীর উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।”

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ‘দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের অনুগামী হিসাবে’ বিমান বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বহরে যুক্ত হওয়া এল-৪১০ পরিবহন বিমানগুলো চেক প্রজাতন্ত্রের তৈরি। এর মধ্যে দুটি বিমান বহরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আরেকটি আগামী মাসে দেশে পৌঁছাবে।

এর আগে, পরিবহন বিমানের বৈমানিকরা প্রথমে পিটি-৬ ও টি-৩৭ বিমানে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ নিতেন, পরে নিতেন পরিবহন বিমান চালনার প্রশিক্ষণ। এতে প্রশিক্ষণ ব্যয় বেড়ে যেত।

এল-৪১০ বিমানের অন্তর্ভুক্তির ফলে এ ব্যয় কমে আসবে। অবতরণের ক্ষেত্রে এ বিমানে বেশি সুবিধা থাকায় দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে।

এই বিমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, টহল, আকাশপথে জরিপ ও প্যারা ট্রুপিং পরিচালনার পাশাপাশি বিমান বাহিনীর সার্বিক পরিবহন সামর্থ্যকে ‘বিশ্বমানে’ পৌঁছে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

“আমাদের রয়েছে প্রশিক্ষণের অবকাঠামোগত সুদৃঢ় ভিত্তি। মান ও দক্ষতায়ও আমরা কোনভাবে পিছিয়ে নেই। তাই আমি আপনাদের উপর পূর্ণ আস্থাশীল। কোনো রকম বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়া গত ২০ বছরে জাতিসংঘ মিশনে আমাদের বৈমানিকগণ প্রায় পঞ্চাশ হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা সম্পন্ন করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় পেশাগত অর্জন।”

প্রধানমন্ত্রী ঘাঁটি বাশারে পৌঁছালে বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ এনামুল বারী এবং ঘাঁটির অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান তাকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ অধিনায়ক উইং কমান্ডার রাশেদ আহমেদ সিদ্দিকীর হাতে এল-৪১০ বিমানের অন্তর্ভুক্তি আদেশনামা তুলে দেন।

মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সেনা ও নৌ বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫, ০১:৪৯ পি. এম.

২৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: