কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইনজুরি আতঙ্কে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫
  • রোকসানা বেগম
  • বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ শুরু হতে আরও ১৪ দিন বাকি। এ দুই সপ্তাহে ইনজুরিতে থাকা ক্রিকেটাররা ঠিক হয়ে যাবেন। এমন আশাবাদ প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের কণ্ঠে ঝড়লেও, সিরিজের আগে ইনজুরি আতঙ্কই ঘিরে ধরেছে বাংলাদেশকে। সাকিব, তামিম, মুশফিক, রুবেল তো ইনজুরি থেকে পুরোপুরি রক্ষাই পাচ্ছেন না। টেস্টে এ চার ক্রিকেটার অপরিহার্য। এখন ক্রিকেটাররা পুরোপুরি ইনজুরি মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যদি শেষপর্যন্ত পুরোপুরি মুক্ত না হতে পারেন, তাহলে কী টেস্টের মতো পাঁচদিনের কঠিন খেলায় পুরোপুরি মনোযোগী হতে পারবেন। না পারলেই বিপদ। আর তাই ইনজুরি আতঙ্কই বাংলাদেশ দলকে এখন ঘিরে ধরেছে।

চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল)। লীগের শেষপর্ব চলছে। এ পর্বে খেলছেন না সাকিব, তামিম, মুশফিক, রুবেল। কারণ, এ চার ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। যেন ফিরে আসা চোটগুলো বড় আকার ধারণ না করে। বিশ্রাম নিয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে নামতে পারেন এ চার ক্রিকেটার। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলতে হয় সাকিবকে। জাতীয় দলের খেলা, ঘরোয়া লীগ, আইপিএল, সিপিএল, বিগব্যাশ; সব মিলিয়ে সাকিবই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেন। এত চাপের জন্য এর আগেও একবার পড়েছিলেন ডান পায়ের শিন বোনের ইনজুরিতে। দেড় মাসের বিশ্রামও নিতে হয়েছিল। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে দেশের মাটিতে ২০১২ সালে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ, সেই সিরিজেও খেলতে পারেননি সাকিব। কোন উন্নতি না হওয়ায়, করাতে হয়েছিল অস্ত্রোপচারও। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। আবারও সেই ইনজুরি ফিরে এসেছে। যে কারণে আইপিএল খেলে আসা সাকিবকে এক সপ্তাহের বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানান, ‘এখন বিশ্রামের কোন বিকল্প নেই সাকিবের। সাকিবের শিন বোনের যে জায়গাটায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল, এখন ব্যথাটা হচ্ছে ঠিক নিচেই।’ এ জন্য বিসিএল খেলা থেকে সাকিবকে বিরতও রাখা হয়েছে। ডান হাঁটুতে যে অস্ত্রোপচার করেছেন তামিম, তার পুনর্বাসন চলছে। আর তাই তামিমও বিসিএলে খেলছেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে যে ডান হাতের অনামিকায় ব্যথা পেয়েছেন মুশফিক, তা এখনও খানিক রয়ে গেছে। তাই মুশফিককেও ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে একটু বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। আর রুবেলও পুরোপুরি ফিট হয়ে না ওঠায় বিসিএল না খেলে ফিটনেস ট্রেনিংয়েই বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।

এ চার ক্রিকেটারের সঙ্গে ভারত সিরিজের জন্য যে ২৩ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়েছে, সেই দলের আরাফাত সানি, জুবায়ের হোসেন, শফিউল ইসলামও খেলছেন না। মাশরাফি বিন মর্তুজা তো দীর্ঘপরিসরের ক্রিকেটে খেলেন না। তাসকিন আহমেদও খেলেননি। দক্ষিণাঞ্চলে ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার; পূর্বাঞ্চলে আবুল হাসান রাজু, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক; মধ্যাঞ্চলে রনি তালুকদার, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, শুভগত হোম চৌধুরী, মোহাম্মদ শহীদ; উত্তরাঞ্চলে তাইজুল ইসলাম, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান রুম্মন খেলছেন। ইনজুরি জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারদের এমনভাবে ঘিরে ধরেছে, বিসিএল না খেলে বিশ্রাম নেয়াই এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই করেছেন ক্রিকেটাররা।

এখনও এ নিয়ে ভয় আছেই। বিশ্রাম নিয়ে ঠিক হয়ে আবার ক্রিকেট খেলতে শুরু করলেন। ভালভাবে খেলতে থাকলেন। হঠাৎ আবার ব্যথা শুরু হয়ে গেলে? তখন দলই বিপাকে পড়ে যাবে। ভারত আবার পুরো শক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশে আসছে। যে দলে ধোনি, কোহলিদের উপস্থিতিই ভারতকে সিরিজে এগিয়ে রাখছে। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কই মানছেন, ‘কঠিন চ্যালেঞ্জের সিরিজ হবে।’ নিজেই বলেছেন, ‘সবাই আশা করছিল তাদের সেরা দলটা আসুক। আমরা জানতাম, ভারতের যে দলই আসুক একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে। যেহেতু পুরো দলটা আসছে সেহেতু চ্যালেঞ্জটা অনেক।’

ভারতের বিপক্ষে ১০ জুন একমাত্র টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু হবে। এরপর ১৮, ২১ ও ২৪ জুন যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ হবে। এ সিরিজে চ্যালেঞ্জই দেখছেন ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি সিরিজ শেষে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেই যে পড়তে হবে, তাও বুঝতে পারছেন।

মাশরাফি মনে করছেন, ‘ওয়ানডেতে প্রায় বিশ্বকাপের দলটাই দেখছি। চোটের কারণে শুধু সামি নেই, তাছাড়া তো সবাই আছে। আর টেস্ট দলে হরভজন এসেছে। ওরা তো আসলে দল হিসেবে এমনিতেই ভাল। ব্যাটিংয়ে ওরা নিঃসন্দেহে বিশ্বের এক নম্বর। আমাদের বোলারদের অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘পুরো শক্তির দল না এলে একটা বাড়তি চাপ থাকে সব সময়। বলা হয়, ওদের আসল দল আসেনি। এখন তো অন্তত এ প্রশ্নটা হবে না। আমাদেরও ভাল খেলার একটা প্রেরণা থাকবে। ওদের আসল দলের সঙ্গে ভাল করলে অনেক ভাল লাগবে। আমার চোখে ওদের এই দলটা শক্তিশালী। বিশ্বকাপে ওরা সেমিফাইনাল খেলেছে, এটাই ওদের সেরা দল। কাজটা অনেক কঠিন।’

দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ইনজুরি আতঙ্ক, ভারত সেরা দল নিয়ে আসছে; তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছেন মাশরাফি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা কিন্তু ধোনি, কোহলিদের সতর্কই করে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে যে বাংলাদেশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে, তাতেই ভারতকে সতর্ক করছেন সবাই। সুনীল গাভাস্কার যেমন বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়া ঠিক হবে না। তারা পাকিস্তানকে হারিয়েছে। ভারতের খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সুযোগ নেই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘হরভজন সিংয়ের ফেরাটা বোলিং লাইনআপের জন্য ভাল হয়েছে। হরভজন ফেরায় রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে চাপে থাকতে হবে এবং এতে করে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।’ সৌরভ গাঙ্গুলী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এই মূহূর্তে সেরা দল। পাকিস্তানকে ওয়ানডে ও টি২০’তে হারিয়েছে।’

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুইয়েকে সিরিজের প্রতি ম্যাচে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন টেস্ট, পাঁচ ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়েকে নাকানিচুবানি খাওয়ায় বাংলাদেশ। এরপর বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত খেলে। ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও ভাল খেলার, জয় পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বাংলাদেশ। প্রথম টানা তিন ওয়ানডেতে জেতার পর একটি টি২০’তেও পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর প্রথম টেস্টেও ড্র করে। দ্বিতীয় টেস্টে হেরে যায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ দল, তা দেখে শুধু ভারতই নয়; বিশ্বই এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা হলে মাশরাফি, মুশফিকদের নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবে।

তাই তো পাকিস্তানের সাবেক ‘স্পিড স্টার’ ওয়াসিম আকরাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে যে, বাংলাদেশ খুবই বিপজ্জনক দল। নিজেদের মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে বাংলাদেশ একবারেই অন্যরকম একটি দল। সম্প্রতি আমরা বিশ্বকাপে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের (বাংলাদেশ) পারফর্মেন্স দেখেছি। পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজের পর টি২০’তেও হারিয়েছে। অতীতে তারা নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকেও হোয়াইটওয়াশ করেছে। আমি মনে করি, তারা বিপজ্জনক দল। তাদের দলে এক ঝাঁক মেধাবী ক্রিকেটার আছে এবং তাদের হালকাভাবে নেয়া (ভারতের জন্য) ঠিক হবে না।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও ইনজুরি আতঙ্ক ছিলই। মুশফিক ইনজুরিতে পড়েছেন। তামিম ইনজুরি নিয়েই খেলেছেন। রুবেল ইনজুরিতে পড়ে দ্বিতীয় টেস্টেই খেলতে পারেননি। ইনজুরি পিছুই ছাড়ছে না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। এবার দলের চার নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রুবেল ইনজুরি মুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষপর্যন্ত যদি পুরোপুরি সেরে না ওঠেন এ চার ক্রিকেটার। এ ইনজুরি আতঙ্কেই এখন ভুগছে বাংলাদেশ।

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫

২৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: