মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আইপিএলে মুম্বাইর বাজিমাত

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ২০১৫-এ বাজিমাত করল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অষ্টম আসরে এসে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল রোহিত শর্মার দল। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত একতরফা ফাইনালে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসকে ৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারায় তারা। ম্যাচের ‘নায়ক’ রোহিত (২৬ বলে ৫০) ও ওপেনার লেন্ডল সিমন্সের (৪৫ বলে ৬৮) দুরন্ত দুই হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২০২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে মুম্বাই। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬১ রানে থেমে যাওয়া চেন্নাই হার মানে ৪১ রানের বড় ব্যবধানে! টি২০তে ফাইনালের মতো ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচিত ‘ক্যাপ্টেন কুল’ মহেন্দ্র সিং ধোনি। যদিও টস নয়, হারের জন্য নিজেদের বোলিং বর্থতাকেই দায়ী করেছেন তিনি!

এর আগে ২০১৩ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পাওয়া মুম্বাই রানার্সআপ হয়েছিল ২০১০ সালে। তবে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০’র শিরোপা জিতে (২০১১, ২০১৩) ‘লাইমলাইটে’ উঠে আসে রোহিত শর্মার দল। এবার তাদের বাজিমাত করাটা সত্যি বিস্ময়কর। আইপিএলে সেরা ‘ইউটার্নে’র ইতিহাসই গড়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথমে গ্রুপ পর্বে ১৪ ম্যাচের প্রথম ৬টির মধ্যে ৫টিতে হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে নেমে যাওয়া, অতঃপর শেষ ৮টির ৭টিতে জয়! অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য নজির স্থাপন করে সবার আগে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে রোহিত শর্মা বাহিনী। ইডেনের ফাইনালে ধোনিদের লজ্জায় ডুবিয়ে তুলে নেয় দ্বিতীয় শিরোপা।

নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নদের মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল ম্যাচ। গতবারের শিরোপাজয়ী কলকাতা নাইটরাইডার্সের ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে তাই এবারের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। তাতে বাজিমাত করে ইন্ডিয়ান্স শিবির। ২০১৫ আইপিএলের অষ্টম আসরে শেষ হাসি হাসে রোহিত শর্মার দল। সেটি রবিবারের ঘটনা। সোমবার ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে চ্যাম্পিয়ন রোহিতদের বরণ করে নেয় মুম্বাইবাসী। যেখানে সফল সেনাপতির সঙ্গে মধ্যমণি হয়ে ছিলেন গ্রেট শচীন টেন্ডুলকর ও কোচ রিকি পন্টিং। নাচে-গানে, আতশবাজিতে মাতোয়ারা ওয়াংখেড়।

২০১৩Ñএর পর ২০১৫-এ দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার স্বাদ পাওয়া মুম্বাই রোহিতদের বরণ করে নিতে ছিল অধীর। শিরোপা জয়ের পরই গোটা মুম্বাইয়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ। পরদিন সোমবার ব্যাপক আয়োজন হাতে নেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক নীতা আম্বানি। সন্ধ্যায় ওয়াংখেড়ে হয় মহা-সেলিব্রেশন। ফ্যানদের জন্য খুলে দেয়া হয় স্টেডিয়ামের গেট। ছিল নাচ-গান, বলিউড তারকাদের সরব উপস্থিতি। রোহিতদের সেলিব্রেট করতে সব ব্যয় বহন করে আম্বানি এ্যান্ড কোং। বিনা টিকেটে, অর্থাৎ, ‘ফাস্ট কাম ফাস্ট বেসিস’-এ গ্যালারিতে ঢুকতে কাল বিকেল থেকেই ওয়াংখেড়ের বাইরে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমর্থকদের গগণবিদারী চিতাকারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা মুম্বাই শহর। আগেরবার মুম্বাই শিরোপা জয়ের সময় মালিক নীতা আম্বানির পরিবার দেশে ছিলেন না। এবার তাই সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেন তারা। গর্বিত অধিনায়ক রোহিত যেমন বলেন, ‘এ আনন্দ গোটা মুম্বাইবাসীর সঙ্গে উপভোগ করতে পেরে আমি গর্বিত।’

পাশাপাশি শিরোপা ফিরিয়ে দেয়া ইডেনের প্রশংসা করেন তিনি। মুম্বাই সেনাপতি বলেন, ‘ইডেনে খেলাটা আমি বরাবরই উপভোগ করি। যখনই এখানে খেলেছি, দারুণ সব স্মৃতি নিয়ে ফিরেছি। অসাধারণ অনুভূতি। এর চেয়ে বেশি আর কি-ই বা চাইতে পারি।’ এটা সত্য আট বছরের ক্যারিয়ারে এই ইডেন তাকে দু’হাত উজার করে দিয়েছে। এখানেই পেয়েছিলেন টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরি, ওয়ানডের রেকর্ড ব্যক্তিগত ডাবল সেঞ্চুরি। দু’বার তার হাত ধরে আইপিএলের শিরোপাও জিতল মুম্বাই। ২০১৩ সালে এই ইডেন গার্ডেন্সে এই চেন্নাইকে হারিয়েই প্রথম শিরোপা জিতেছিল রোহিত-বাহিনী! ইডেনকে তিনি ভুলবেন কি করে?

এবার গ্রুপ পর্বে যখন প্রথম ৫ ম্যাচের ৪টিতে হেরে গ্রুপ পর্বের তলানিতে ছিল মুম্বাই। তখন কেউ ভাবেনি তারই শিরোপা জেতবে। এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। শেষ ৮ ম্যাচের ৭টিতে জয়, প্রথম কোয়ালিফাই ম্যাচে এই চেন্নাইকে উড়িয়ে দিয়ে সবার আগে ফাইনালের টিকেট পায় তারা। আর ফাইনালে গড়ে ইতিহাস। চেন্নাই-কলকাতার পর তৃতীয় দল হিসেবে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্ডিয়ান্সরা। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় নেপথ্যে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন ‘মেন্টর’ শচীন টেন্ডুলকর। তবে অনেকেই বড় কৃতিত্বটা দেন প্রধান কোচ রিকি পন্টিংকে। শুরুতে মুম্বাই বড় সমস্যা ছিল ঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পাওয়া। ওপেনিংয়ে এ্যারন ফিঞ্চের জায়গায় লেন্ডল সিমন্স আর বোলিংয়ে মিচেল ম্যাকক্লেনঘানকে তুলে এনে বিচক্ষণতার পরিচয় দেন অস্ট্রেলিয়াকে দু-দুটি বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক।

চেন্নাইজুড়ে এখন কেবলই হতাশা। তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে তাদের। ফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ায় সমর্থক থেকে শুরু করে সাবেক গ্রেটরা পর্যন্ত মেতে উঠেছেন ধোনির সমালোচনায়! অথচ এই ধোনিই চেন্নাইকে কত সাফল্য উপহার দিয়েছেন। আইপিএল ইতিহাসের সফল দল সুপার কিংসরা। ২০০৮ সালের প্রথম আসরেই ফাইনালে উঠে হার মেনেছিল রাজস্থান রয়্যালসের কাছে। ২০১০ ও ২০১১ টানা দুইবার শিরোপা জিতে বাজিমাত করে ধোনি বাহিনী। চেন্নাই ছাড়া দুইবার শিরোপার স্বাদ পেয়েছে কেবল কলকাতা নাইটরাইডার্স (২০১২, ২০১৪)। এবার তাদের কাতারে নাম লেখাল রোহিতের মুম্বাই। টানা দুই শিরোপা জয়ের পরই আবার টানা দুইবার রানার্সআপও হয়েছিল চেন্নাই (২০১২, ২০১৩) মাঝে ২০০৯Ñএ চতুর্থ।

ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সে মুম্বাইর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান লাসিথ মালিঙ্গা, হরভজন সিং, লেন্ডল সিমন্স ও অধিনায়ক রোহিতের। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট নেয়া লঙ্কান স্পিডস্টার মালিঙ্গা ফাইনালেও নেন ২ উইকেট। ১৮ শিকারে নতুন করে ঝলসে ওঠেন অভিজ্ঞ ঘূর্ণিতারকা হরভজন সিং। দারুণ করেছেন ১২ ম্যাচে ১৮ উইকেট নেয়া কিউই পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনঘানও। ব্যাট হাতে অধিনায়ক রোহিতের (৪৮২) সঙ্গে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। আর সিমন্স ৬ হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪০ রান উইন্ডিজ ওপেনারের।

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫

২৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: