মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাগরে যাওয়ার পথ চায় বলিভিয়া

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫
  • এনামুল হক

বলিভিয়ার নৌবাহিনী আছে। কিন্তু সমুদ্রের তটরেখা নেই। বলিভিয়ার সমুদ্রে যাওয়ার পথ নেই। সাগরের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য যে ভূখ-গত এলাকা দরকার, যেটি সে উনবিংশ শতাব্দীতে চিলির সঙ্গে যুদ্ধে হারিয়ে বসেছে। ফলে তখন থেকে বলিভিয়া একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। বলিভিয়ার নৌবাহিনী থাকলেও তার বিচরণ দেশের ভেতরকার হ্রদ ও নদ-নদীতে। সাগরের সঙ্গে যুক্ত থাকার এলাকাটি চিলির কাছে হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই অবশ্য তার খানিকটা পুনরুদ্ধারের জন্য বলিভিয়া তখন থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

বলিভিয়ার সেই প্রয়াস সম্প্রতি এক নতুন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। গত ৪ মে হেগে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে (আইসিজে) বলিভিয়ার দাবির ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। বলিভিয়ার দাবিটি এই , বলিভিয়ার সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার সার্বভৌম সুযোগ চিলিকে দিতে হবে। অর্থাৎ চিলিকে সেই ভূখ-টুকু ছেড়ে দিতে হবে, যার বদৌলতে বলিভিয়া আবার প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। পরিণত হবে সমুদ্র তীরবর্তী রাষ্ট্রে।

কিন্তু তাই বলে ব্যাপারটা অত সহজ নয় বলিভিয়ার জন্য। প্রথম শুনানিতেই চিলি গোটা প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে এবং সেটা এই যুক্তিতে যে, আদালতের এ বিষয়ের ওপর কোন এখতিয়ার নেই। আইসিজে যদি চিলির এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে, একমাত্র তখনই আদালত বলিভিয়ার এই দাবি বিবেচনা করে দেখবে যে, দেশটার সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে আলোচনা করার একটা দায়িত্ব চিলির রয়েছে। তখন চিলি আরও বিপজ্জনক কিছু করতে পারে। চিলি দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ অবসানের চুক্তিটি বাতিল করে দিয়ে একটা বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করতে পারে।

দু’দেশের মধ্যে সংঘাতের উৎপত্তি নাইট্রেট আহরণ নিয়ে। এই নাইট্রেট সার তৈরিতে এবং বারুদ তৈরির জন্য সল্টপেটার উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি আহরিত হতো বলিভিয়ার এমন এলাকায়, যা ছিল সমুদ্রের তীরে অবস্থিত। সেখানকার জনগোষ্ঠী বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করত এবং তারা মূলত ছিল চিলির লোকজন।

নাইট্রেট আহরণের ওপর বলিভিয়া সরকার কর বাড়িয়ে দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে চিলি ১৮৭৯ সালে আন্তোফাগাস্তা বন্দরে হামলা চালিয়ে তা দখল করে নেয়। বলিভিয়া ৪শ’ কিলোমিটার উপকূল রেখা এবং প্রায় সোয়া লাখ বর্গকিলোমিটার ভূখ- হারায়। শেষে ১৯০৪ সালে এক শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান হয়। বলিভিয়া তার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল হাতছাড়া হওয়া মেনে নেয়। বিনিময়ে চিলি বলিভিয়াকে বাণিজ্যিক ট্রানজিটের অবাধ সুবিধা দেয়।

বলিভিয়া মনে মনে এই ক্ষতিটা মেনে নেয়নি। দক্ষিণ আমেরিকার দরিদ্রতম এই দেশটি নিজের এই দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার জন্য মূলত স্থলবেষ্টিত অবস্থাকেই দায়ী করে। চিলির প্রধান রফতানি পণ্য হলো তামা। সেই তামা যেখানে আছে, এক সময় সেটা ছিল বলিভিয়ার ভূখ-। এসব কারণে বলিভিয়ার মনের ভেতরে ক্ষোভ আছে। ২০০৯ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের আমলে সংশোধিত সংবিধানে প্রশান্ত মহাসাগরে যাওয়ার অধিকারকে বলিভিয়ার অবিচ্ছেদ্য অধিকার আখ্যা দেয়া হয়েছে। তারপর থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, চিলিও বলিভিয়ার রফতানিকারকদের জন্য নানা ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দু’দেশের সম্পর্ক আগে যেখানে উষ্ণ ও অন্তরঙ্গ ছিল, এখন তা এতটা নেই। দু’দেশের নাগরিকরা অবশ্য এখনও বিনা পাসপোর্টে যাওয়া-আসা করে এবং বেশিরভাগ বলিভীয় পণ্য বিনা শুল্কে চিলির বাজারে ঢুকতে পারে। বলিভিয়ার দূরের বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ এখনও চিলির বন্দর দিয়ে যায়।

চিলির সরকার উদারপন্থী ও বহির্মুখী। অন্যদিকে বলিভিয়ার বর্তমান সরকার বামপন্থী জাতীয়তাবাদী। দুই সরকারের মধ্যে আগের সেই হৃদ্যতা এখন নেই। তার ওপর আন্তর্জাতিক বিচার লয়ে বলিভিয়া যে দাবি তুলে ধরেছে তাতে সম্পর্কের আরও অবনতি হওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না।

এদিকে চিলি অত্যন্ত আস্থাবান যে, আন্তর্জাতিক বিচারালয় এমন কোন রায় দেবে না যাতে করে যে সীমান্ত সমস্যা অনেক আগেই চুক্তি বলে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেটা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠতে পারে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৫

২৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: