মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

’২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হতে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৫
’২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হতে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে চীন
  • ঢাকায় একাধিক বৈঠকে চীনা উপপ্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে সহযোগিতা দেবে চীন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। সোমবার ঢাকায় সফররত চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী লিও ইয়ানদং একাধিক বৈঠকে এসব বলেছেন।

চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক বক্তৃতা দেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। তিনি জাতীয় জাদুঘরও পরিদর্শন করেন। এ সময় চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরালো করতে প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও তারা আগ্রহী বলে জানান।

ঢাকায় সফররত চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী লিও ইয়ানদং জাতীয় সংসদের স্পীকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠককালে তারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দু’দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। এছাড়া তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লিও ইয়ানদং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

স্পীকার বলেন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। মাতৃমৃত্যুহার হ্রাস, শিশুমৃত্যুহার হ্রাস, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। নারীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তাই সরকার তাদের সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান, আবাসিক সুযোগ সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করে চলেছে।

স্পীকার বলেন, দারিদ্র্যবিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের একসাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে সবসময় সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও স্পীকার উল্লেখ করেন।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী রফতানি বাণিজ্যসহ সকল প্রকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, চীন শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন সেক্টরে সহায়তা প্রদান করে চলেছে। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক ধরনের সফল নীতিমালা গ্রহণ করেছে। চীনও বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে উপকৃত হতে পারে।

শিরীন শারমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। ইতিবাচক, সহযোগিতামূলক এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতার সম্পর্ক আগামী দিনে বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চীন বাংলাদেশকে অব্যাহত সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস প্রদান করেন। চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ॥ ঢাকা সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুলও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য হয়।

জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন ॥ বাংলাদেশ সফররত চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানদং সোমবার সকালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিং চিয়াং উপস্থিত ছিলেন।

চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকা সফর শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি জাকার্তার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তিনি ২৬ থেকে ৩১ মে জাকার্তা সফর করবেন।

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৫

২৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: