আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আইএস জঙ্গী গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ নেটওয়ার্ক

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৫
আইএস জঙ্গী গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ নেটওয়ার্ক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার বাংলাদেশ থেকেও তিন যুবক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এ যোগ দেয়ার খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাদের সম্পর্কে জানতে বিস্তর অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সর্বমোট বিশ জনের যোগদানের কথা ছিল। দেড়মাস আগে একজন এবং সর্বশেষ গত রবিবার রাতে গ্রেফতার হয় আইএস-এর বাংলাদেশের এক সমন্বয়কসহ দুইজন। অপর ১৪ জন যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছে। আইএস-এ যোগ দেয়া এবং যোগদানের অপেক্ষায় থাকাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আইএস যা করছে তা সঠিক বলে মনে করেন গ্রেফতারকৃতরা। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত সমন্বয়ক ও অপরজন মূলত নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা একইসঙ্গে সারাদেশে জেএমবি ও আইএস-এর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। জেএমবির উচ্চশিক্ষিত ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্নরাই বর্তমানে জেএমবির পাশাপাশি আইএস-এর হয়ে কাজ করছে। যোগদানের অপেক্ষায় থাকা চৌদ্দজনই জেএমবি সদস্য। তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী। বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারীরা গ্রেফতাকৃতদের হত্যার টার্গেটে রয়েছেন। হত্যার টার্গেট থাকাদের মধ্যে বুদ্ধিজীবী, প্রগতিশীল লেখক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

গত রবিবার গভীররাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুল আলম রাসেলের সরাসরি নেতৃত্বে ডিবির একটি দল রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম মডেল থানাধীন ১৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়িটি থেকে গ্রেফতার হয় নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর আঞ্চলিক সমন্বয়ক মোঃ আমিনুল ইসলাম বেগ (৪৫)। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। তিনি বহুজাতিক কোম্পানি কোকা-কোলার বাংলাদেশের আইটি প্রধান ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি মালয়েশিয়া থেকে প্রযুক্তিবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রীধারী।

আমিনুল বেগের তথ্যমতে রবিবার রাতেই রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আইএস-এর বাংলাদেশের অপর সমন্বয়ক সাকিব বিন কামালকে (৩৮)। কামাল মোহাম্মদপুরের একটি নামকরা ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের শিক্ষকতা করছিলেন। তিনি রাজধানীর একটি নামকরা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রযুক্তিবিদ্যায় ও ইংরেজী মাধ্যম থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জঙ্গী তৎপরতায় জড়িত থাকার জিহাদী বই ও ডায়েরিসহ নানা ধরনের আলামত উদ্ধার হয়। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

সোমবার বেলা সাড়ে সোয়া এগারোটায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির আঞ্চলিক সমন্বয়ক। তারা একইসঙ্গে জেএমবি ও আইএস-এর হয়ে বাংলাদেশে কাজ করছিল। সারাদেশেই জেএমবির নেটওয়ার্ক আছে। সেই নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে তারা আইএস-এর জন্য সদস্য্য সংগ্রহ করছিল। পাশাপাশি জেএমবি ও আইএস-এর নেটওয়ার্ক সৃষ্টি তৈরির কাজ করে যাচ্ছিল। ইরাক ও সিরিয়ার মতো গণতান্ত্রিক দেশের সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের মাধ্যমে আইএস নির্দেশিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আটককৃতরা ইন্টারনেটে কর্মী সংগ্রহ করছিল। ইতোমধ্যেই ২০ জনকে তারা যোগাড় করে। যারা আইএস-এ যোগদানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তাদেরই একজন গ্রেফতারকৃত সাকিব। যদিও সাকিব আগ থেকেই জেএমবির সঙ্গে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে আইএস ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে যা করছে তা সঠিক বলে মনে করেন গ্রেফতারকৃতরা। নতুন এক বা একাধিক খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সেইসব রাষ্ট্রের মাধ্যমে অনান্য রাষ্ট্রেও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে গ্রেফতারকৃতদের ধারণা। বাংলাদেশকেও তারা খিলাফত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর বিরোধিতাকারীরা হত্যার টার্গেটে রয়েছে গ্রেফতারকৃতদের। গ্রেফতারকৃতরা তাদের মতাদর্শের বিরোধিতাকারীদের হত্যারও পরিকল্পনা করছে। হত্যার টার্গেট বুদ্ধিজীবী, প্রগতিশীল লেখক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

আইএস-এর কর্মকা- সমর্থন করে তাদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর জন্য সারাদেশে তৎপরতা চালাচ্ছিল তারা। এ ক্ষেত্রে মূলত তারা সারাদেশে থাকা জেএমবির নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাচ্ছিল। মূলত জেএমবির যেসব যুবক বয়সী প্রযুক্তিবিদ্যায় ও আধুনিক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তাদেরকেই টার্গেট করেছে। আইএস-এ যোগদানের জন্য যে ২০ জন সদস্য প্রস্তুত তারা মূলত জেএমবি সদস্য। তারা সবাই সচ্ছল পরিবারের সদস্য। তারা নিজ খরচে ইরাক ও সিরিয়া বা অন্যকোন দেশে গিয়ে আইএস-এ যোগদানসহ জঙ্গী সংগঠনটির হয়ে কাজ করার মতো আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান। তারা নিজস্ব অর্থায়নেই ইরাক ও সিরিয়া গিয়ে আইএস-এ যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকায় প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু এবং সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যার দায় স্বীকার করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। এমন হত্যাকা-ের সরাসরি সমর্থন করে গ্রেফতারকৃতরা কোন বিবৃতি দেয়নি।

গ্রেফতারকৃতরা গোপনে অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করাসহ নানা পরিকল্পনা করছিল। খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএস শক্তিমত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।

ডিবির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, সর্বমোট ২০ জনের একটি দল আইএস-এ যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইতোমধ্যেই তিনজন ইরাকে গিয়ে আইএস-এ যোগ দিয়েছে। বাকি ১৭ জনের মধ্যে দেড়মাস আগে একজন গ্রেফতার হয়। সর্বশেষ গ্রেফতার হয় আমিনুল ও সাকিব। আমিনুল ইন্টারনেটে আইএস সদস্য যোগাড়ের কাজ করত। গ্রেফতারকৃত আমিনুল ও সাকিবের একত্রে ইরাকে গিয়ে আইএস-এ যোগ দেয়ার কথা ছিল। ইরাকে যাওয়া তিন যুবকই জেএমবির সদস্য। তারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। পাশাপাশি প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী। আমিনুল ও সাকিব মূলত জেএমবির লোক। গ্রেফতারকৃত দুইজন মূলত জেএমবির যুবক বয়সী সদস্য, যারা বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় তাদের টার্গেট করেছে। টার্গেটকৃতদের মধ্যে এ দু’জন ছাড়াও ১৮ জনকে পেয়ে যায় তারা। ইতোমধ্যেই তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। তিনজন ইরাকে চলে গিয়ে আইএস-এ যোগ দিয়েছে। আর বাকি ১৪ জন আইএস-এ যোগ দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যে তিন যুবক আইএস-এ যোগ দিয়েছে তাদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দেয়নি গ্রেফতারকৃত দুই জেএমবি ও আইএস সমন্বয়ক। এমনকি কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখেও আইএস-এ যোগ দেয়া তিন যুবক সম্পর্কে কোন তথ্য প্রকাশ করেনি গ্রেফতারকৃত দুইজন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম, অতিরিক্ত উপকমিশনার মোঃ শাহাজাহান ও অতিরিক্ত উপকমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে সাখাওয়াতুল কবির (৩৫), আনোয়ার হোসেন বাতেন (৩২), রবিউল ইসলাম (৩৫) ও রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে আইএস-এর সমন্বয়ক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৪০) নামে চারজন ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের নানাভাবে সহযোগিতা করছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অনারারি ক্যাপ্টেন কবির ও সমন্বয়ক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। এ দু’জনই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তবে বাংলাদেশে আইএস-এর জন্য সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে নানা কাজ করছিলেন সাখাওয়াতুল কবির। তাঁর একভাই প্রকৌশলী। অপর ভাই চিকিৎসক। আর একমাত্র বোন কলেজের শিক্ষক। তিনি রাজধানীর মহাখালী সরকারী তিতুমীর কলেজের ইংরেজী বিভাগ থেকে অনার্স পাস করেন। এরপর ২০০৬ সালে জেএমবির কারাবন্দী আমীর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মাওলানা সাইদুর রহমান জাফরের মেয়ের জামাই পাকিস্তানে অবস্থিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক মুফতি ইজাজের হাত ধরে জেএমবিতে যোগ দেন। ইজাজের মাধ্যমেই তিনি ২০০৯ সালে পাকিস্তান যান। সেখানে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদায় যোগ দেন। আল কায়েদার মতাদর্শ অনুযায়ী ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি তা আমলে না নেন তাহলে তাকে আরও বুঝাতে হবে। তাকে হত্যা করা যাবে না। আর আইএস-এর মতাদর্শ হচ্ছে, বিধর্মীদের ইসলামের দাওয়াত দেয়া। দাওয়াত পেয়ে বিধর্মীরা ইসলামের ছায়াতলে না এলে তাদের হত্যা করতে হবে। এমন আদর্শ ভাল লাগায় তিনি আইএস-এ যোগ দেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি স্কুলে হামলা করে অন্তত ৪০ স্কুলশিশুকে হত্যা করে জঙ্গীরা। এরপর থেকেই পাকিস্তানে জঙ্গীদের গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ওয়াজিরস্তানে পুলিশের অভিযানে নিহত আইএস জঙ্গীদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশী। তারা হচ্ছেন, গ্রেফতারকৃত কবিরের ভায়রা সাজ্জাত ওরফে ইজাজ ওরফে কারগিল, কবিরের ভাগ্নি জামাই অভি, গ্রেফতারকৃত বাতেনের বোন পাকিস্তানে অবস্থিত ফাতেমার স্বামী সায়েম ও সায়েমের দুলাভাই শামীম। গ্রেফতারকৃত বাতেন ও রবিউল আইটি বিশেষজ্ঞ। আর সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম গাজীপুরে অবস্থান করে বহুতল ভবনে মই সরবরাহের ব্যবসা করেন।

এছাড়া গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সামিউন রহমান ইবনে হামদান (২৪) নামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বাংলাদেশে আইএস-এর হয়ে সদস্য সংগ্রহ ও তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়। হামদান বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং বাংলাদেশে ইসলামী শরীয়াভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালুর করার লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। হামদানের তথ্যমতে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকা থেকে আইএস-এ যোগদানের প্রস্তুতি নেয়া জেএমবি সদস্য মোঃ হিফজুর রহমান (২২), রাজধানীর সেগুনবাগিচা ও রমনা এলাকা থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য মোঃ আসিফ আদনান (২৬) ও মোঃ ফজলে এলাহী তানজিলকে (২৪) গ্রেফতার করে ডিবি। আদনান সুপ্রীমকোর্টের এক সাবেক বিচারকের ছেলে। আর তানজিল ওএসডি থাকা এক যুগ্ম সচিবের ছেলে।

প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৫

২৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: