কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

থাইল্যান্ডের পর মালয়েশিয়া ॥ ১৭ পরিত্যক্ত বন্দী শিবির ॥ ৩০ গণকবর

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫
থাইল্যান্ডের পর মালয়েশিয়া ॥ ১৭ পরিত্যক্ত বন্দী শিবির ॥ ৩০ গণকবর
  • লাশ উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে, সংখ্যা ২শ’ ছাড়াতে পারে
  • এদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ সাগরপথে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসীদের ভাগ্য বিপর্যয়ের রোমহর্ষক আরও তথ্য বেরিয়ে এসেছে। থাইল্যান্ডের পর এবার মালয়েশিয়ার জঙ্গলে আবিষ্কৃত হয়েছে অবৈধ অভিবাসীদের ৩০ গণকবর ও ১৭ পরিত্যক্ত বন্দী শিবির। এসব গণকবর ও বন্দী শিবিরে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী নাগরিকদের স্থান হয়েছে বলে সে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন মহলের নিশ্চিত ধারণা। আবিষ্কৃত গণকবরে শতাধিক অভিবাসীর লাশ রয়েছে বলে মালয়েশিয়া পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে সে দেশের গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তবে বেসরকারী বিভিন্ন সূত্রে এ সংখ্যা দু’শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

গত ২ মে থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশের গভীর জঙ্গলে অবৈধ অভিবাসীদের গণকবর ও বন্দী শিবিরের ঘটনা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট তোলপাড়ের অবসান হতে না হতে মালয়েশিয়ায় নতুন করে আবিষ্কৃত ৩০ গণকবর ও বন্দী শিবিরের ঘটনা গোটা বিশ্ব বিবেককে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। থাইল্যান্ডের গণকবর ও বন্দী শিবির আবিষ্কারের পর মালয়েশিয়া সরকার বার বার বলে আসছিল তার দেশের সীমানায় এ ধরনের কোন ঘটনা নেই। কিন্তু গত শুক্রবার সে দেশের পুলিশ পের্লিসের পাড়াং বেসারে অবৈধ অভিবাসীদের ৩০ গণকবর ও মানব পাচার চক্রের ১৭ বন্দী শিবিরের তথ্য দিয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (৪ পৃষ্ঠা ৪ কঃ দেখুন) ৩০ গণকবর

(প্রথম পৃষ্ঠার পর)

আহমেদ জাহিদ হামিদি গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, খুব সম্ভব গত পাঁচ বছর ধরে এসব গণকবরের কাজ চলছে। তাঁর মতে, প্রতিটি কবরে ৩ থেকে ৪টি করে মানবদেহ রয়েছে। কিন্তু এ সংখ্যা ঠিক কত হবে তা তারা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে এ ধরনের দেহ বা দেহাবশেষ পাওয়া যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনার পর সে দেশে এবং অন্যান্য দেশের গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলো বলেছে, এসব গণকবরে মনুষ্য দেহের সংখ্যা দু’শতাধিকও হতে পারে।

এদিকে, মালয়েশিয়ার পর আন্দামান সাগরে ইন্দোনেশিয়া সরকারও অভিযান শুরু করেছে। সে দেশের আচেহ প্রদেশে এ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের পক্ষ থেকে তথ্য নিয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে আন্দামানে আরও হাজার হাজার অভিবাসী বোঝাই ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার ভাসছে। কিন্তু গত কয়েকদিনেও আন্দামান সাগরে নতুন করে কোন অভিবাসী উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত ঘটনা নিয়ে থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপ ব্যবহার করে অভিবাসীদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী পাঠানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিল থাই সেনাবাহিনী তা রবিবার প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমারে ইতোমধ্যে যে ২০৮ জন অভিবাসীকে তাদের জলসীমা থেকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির নেতৃত্বে সরকারী প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর ও ঈদগা ইউনিয়ন থেকে আরও ২ মানব পাচারকারী গ্রেফতার হয়েছে। এরা হচ্ছে কক্সবাজার সদর এলাকা পিএম খালীর বাহার উদ্দিন ও ঈদগাঁও ইউনিয়নের নাপিতখালির অপর মানব পাচারকারী মোঃ ইছহাক। কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ শনিবার রাতে তাদের গ্রেফতার করে।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে পাচারে জড়িত দালালদের পাশাপাশি তাদের খপ্পরে পড়ে যারা বিদেশ যাচ্ছে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন রবিবার।

মালয়েশিয়ায় ৩০ গণকবর ॥ থাইল্যান্ডে গণকবর ও বন্দীশিবির আবিষ্কৃত হওয়ার পর সে দেশের পুলিশ গভীর জঙ্গল জুড়ে অভিযান অব্যাহত রাখার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৩০ গণকবর ও ১৭ বন্দীশিবির। এসব গণকবর ও বন্দী শিবিরের বাসিন্দারা হচ্ছেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান ও বাংলাদেশের নাগরিক। মিয়ানমারে নির্যাতনে নিপীড়নে দেশান্তরী হয়ে রোহিঙ্গারা এবং বাংলাদেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বাড়তি রোজগারের আশায় দালালদের খপ্পরে পড়ে ভয়ঙ্কর সমুদ্রপথে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে পা দিয়েছিল। ইতোমধ্যেই উত্তাল সমুদ্রে অনেকের যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনি ইঞ্জিনচালিত বোটে ও ট্রলারে অনাহারে অর্ধাহারে এবং দালালদের মুক্তিপণ আদায়ে অমানসিক নির্যাতনে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দিনের পর দিন বন্দী শিবিরে আটকে রেখে মুক্তিপণ দিতে যারা ব্যর্থ হয়েছে অমানসিক নির্যাতনে এদের অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের শেষ ঠিকানা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার গণকবরে। মালয়েশিয়ায় গত শুক্রবার আবিষ্কৃত ৩০টি গণকবর এ ঘটনার শেষ উদাহরণ। মালয়েশিয়া পুলিশ আবিষ্কৃত গণকবর এলাকাটি শুক্রবার রাত থেকে ঘিরে রেখেছে এবং মাটি খুঁড়ে গলিত লাশ ও নরকঙ্কাল উদ্ধার করছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে আরও কি পরিমাণ এ ধরনের গণকবর আবিষ্কৃত হবে তা নিয়ে শঙ্কিত খোদ সে দেশের সরকার।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পের্লিসের দুটি স্থানে এ ৩০ গণকবরের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। পের্লিসের পাড়াং বেসারে ১৭ বন্দী শিবিরের খোঁজ পেয়েছে সে দেশের পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি স্বীকার করেছেন, রোমহর্ষক এ ঘটনার তথ্য। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তবে যদি প্রশ্ন উঠে মালয়েশিয়ার সরকার নিরঙ্কুশভাবে এ দায় এড়াতে পারবে না। স্থানীয় সূত্রসমূহের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার দি স্টার লন লাইন জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাত থেকে আবিষ্কৃত গণকবরের স্থানে পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল অবস্থান করছে। স্থানীয় পুলিশ প্রধান তান শ্রী খালিদ আবু বাকার সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আবিষ্কৃত গণকবর নিয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। মালয়েশিয়ার পাড়াং বেসার জেলা পুলিশ সদর দফতরের শীর্ষ এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য স্টার অন লাইন বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গণকবরগুলো সংরক্ষিত এলাকায় এবং সেখানে বেসামরিক লোকের প্রবেশাধিকার নেই। মালয়েশিয়া পুলিশ ঐ স্থানটি কঠোর নিরাপত্তায় ঘিরে রেখেছে। এ স্থানটি একটি পাহাড়ী এলাকা বলেও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানব পাচারের রুটের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা। আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ একটি রুট। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত গণকবরের সঙ্গে পের্লিসে আবিষ্কৃত গণকবরের নেপথ্য ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।

১৭ পরিত্যক্ত বন্দী শিবির ॥ মালয়েশিয়ার একই অঞ্চলে ৩০ গণকবরের পাশাপাশি আবিষ্কৃত হয়েছে ১৭ বন্দী শিবির। তবে এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়া পুলিশ জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের মতো এসব বন্দী শিবিরে অবৈধবাসীদের আটকে রাখা হতো। থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত বন্দীশিবিরের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর মালয়েশিয়াও তৎপর হলে পাচারকারীরা দালালরা এসব বন্দীশিবির ফেলে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত এ বন্দী শিবিরে পুলিশী অভিযানে কাউকে উদ্ধার করার খবর মেলেনি।

উদ্ধারকৃতদের রাখা হয়েছে স্টেডিয়ামে ॥ মালয়েশিয়ার লঙ্কাবি ও ইন্দোনেশিয়ার বান্দার আচেহ প্রদেশে উদ্ধারকৃত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী নাগরিকদের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও আচেহ প্রদেশের লোকসুকন স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে। তাইল্যান্ডে গণকরব আবিষ্কৃত হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া পুলিশ সাগরে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পর এসব অভিবাসীকে সাগরে ফেলেই দালালরা পালিয়ে যায়। মুক্তিপণ দিয়ে বেঁচে আসা অভিবাসী বাংলাদেশী ইসমাইল অভিযোগ করেছেন, পাচারকারী চক্রের সঙ্গে থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া পুলিশও অর্থলোভী। পাচারকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে অর্থ দিতে তিনি দেখেছেন।

অভিবাসীদের প্রাণহানি রোমহর্ষক ॥ স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় পৌছুতে সাগর পথে এবং থাইল্যান্ডের বন্দী শিবিরে অনাহারে অর্ধাহারে এবং তার ওপর নির্যাতনে মৃত্যু চিত্র রোমহর্ষক। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও বাংলাদেশর সংঘবদ্ধ পাচারকারী দলগুলো পরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী গরিব মানুষদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার লোভে ফেলে মূলত মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল দীর্ঘ সময় জুড়ে। বিভিন্ন সময়ে সাগর পথে মানব পাচারের ঘটনা ধরা পড়লেও বন্দী শিবির ও গণকবরের ঘটনা আবিষ্কার হওয়ার পর বিষয়টি এখন শীর্ষ উদ্বেগজনক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে পাচারকারী দালালদের গ্রেফতারে যে অভিযান চলছে তা জোরালো নয় বলে ব্যপকভাবে অভিযোগ উঠেছে। আর গডফাদাররা এখনও কিভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তা বড় ধরনের প্রশ্নবোধক হয়ে আছে।

মিয়ানমারে উদ্ধার ২শ’ ব্যক্তি বাংলাদেশী নয় ॥ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন বাংলাদেশী বলে দাবি করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার। তবে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা আদৌ বাংলাদেশী নাগরিক কি না এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ পোষণ করছেন কক্সবাজারের প্রশাসন ও সচেতন মহল। শনিবার মিয়ানমার সরকার ওইসব ব্যক্তিদের বাংলাদেশী দাবি করে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পর বিজিবি কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। এ প্রেক্ষিতে দেশটির অভ্যন্তরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক কি না-তা যাচাই করে দেখতে এবং ওইসব ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আজ সোমবার বিজিবি কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল পতাকা বৈঠকে যোগ দিতে মিয়ানমারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সিগন্যাল পেলেই এ দলটি সেদেশের মংডু শহরে বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য রওয়ানা দেবে। বাংলাদেশী এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ১৭ বিজিবি অধিনায়ক। তার সঙ্গে থাকবেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার ২০৮ ব্যক্তিকে বাংলাদেশী বলে মিয়ানমার কতৃপক্ষ এদেশে ঠেলে দিতে তৎপর হয়ে উঠায় বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের (বিজিপি) কাছে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা চেয়ে বার্তা প্রেরণ করে। মিয়ানমারের বিজিপি রবিবার সকালে ২শ’ জনের নাম ঠিকানা সংবলিত একটি তালিকা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির কাছে। ওই তালিকার সূত্র ধরে বিজিবি কতৃপক্ষ যাচাই বাছাই করে দেখতে পান, ওরা কেউই বাংলাদেশের নাগরিক নয়। বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ খালেকুজ্জামান জানান, মিয়ানমার প্রেরিত ২শ’ ব্যক্তির নাম ঠিকানা মতে কেউই এদেশের নাগরিক বলে প্রতীয়মান হয়নি। রবিবার সকাল থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকায় মিয়ানমার থেকে প্রেরিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা যাচাই-বাছাই ও ব্যাপক অনুসন্ধান কাজে বিজিবির সঙ্গে জেলা প্রশাসনের, নৌবাহিনীর, কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত শুক্রবার একটি ট্রলারে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ২০৮ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। ওইসব ব্যক্তিদের মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী বলে দাবি করে চলছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের মিয়ানমারের মংডু শহরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

গডফাদার বাপ্পু এখন চট্টগ্রামে ॥ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাসরত বর্মী বাসিন্দা হাশিম উল্লাহর মাধ্যমে দালাল চক্রের সঙ্গে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সোনারপাড়ার কানপুইজ্জার পুত্র গডফাদার হুমায়ুন রশিদ প্রকাশ বাপ্পু মালয়েশিয়া চলে যায়। সে দেশে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কড়কড়ি অভিযান শুরু করা হলে গডফাদার বাপ্পু মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

মানব পাচারের পয়েন্ট এখন ফাঁকা ॥ মানব পাচার রোধে প্রশাসন কঠোর হওয়ায় দীর্ঘদিনের মানবপাচার পয়েন্ট হিসেবে খ্যাত টেকনাফের সাবরাং, নয়াপাড়া, কাটাবনিয়া, শাহপরীদ্বীপ, কচুবনিয়া, শামলাপুর, বাহারছড়া, উখিয়ার সোনারপাড়া, মনখালী, জুম্মাপাড়া পয়েন্ট, রেজুখালের মূখ, মহেশখালীর তাজিয়াকাটা, সোনাদিয়া, শহরের সমিতিপাড়া, নাজিরারটেক ও দরিয়ানগর এলাকা বর্তমানে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। মানব পাচারকারী তো দূরের কথা, স্থানীয়রাও গ্রেফতারের ভয়ে কেউ ওইসব ঘাটে যাওয়া-আসা করছে না বলে জানা গেছে।

মামলা নেয়নি পুলিশ ॥ কক্সবাজারের উখিয়ার পশ্চিম সোনাইছড়ির নুরুল হামিদ নামে এক কিশোরকে মানবপাচারের গডফাদার স্থানীয় রোস্তম আলী অপহরণ করে বোটে তুলে দেয়ার দুই মাসেও পুত্রের কোন খোঁজ না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় উখিয়া থানার আশ্রয় নিতে গেলে পুলিশ এজাহার গ্রহণ না করে নিখোঁজ পুত্রের পিতা জাফর আলমকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ঐ এজাহারে মানব পাচারের গডফাদার রোস্তম আলী, শাহ আলম ও আবদুল্লাহসহ কয়েকজন দালালের নাম উল্লেখ থাকায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলে উখিয়া থানার ওসি এজাহার গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিখোঁজ পুত্রকে উদ্ধারকল্পে থানার আশ্রয় নিয়েও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় নৈরাশ হয়ে পড়ছে অসহায় পিতা জাফর আলম। জাফর আলম জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় আপোষ করার কখা বলে ওসি আমার এজাহার নেননি।

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫

২৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: