মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কারমাইকেল শতবর্ষ ॥ সাদা-কালো দিনগুলো এবং ঢাকার মেয়র আনিসের কথা

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫
  • শরীফা খন্দকার

স্মৃতি মানুষকে তাড়িত করে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ জীবনের স্মৃতি। সুখ-দুঃখ মিশ্রিত এই স্মৃতিগুলো প্রকাশেরও তাড়না থাকে অনেকের। ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুরের কারমাইকেল কলেজটি শতবর্ষে পা রেখেছে। ষাটের দশকে কলেজ জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর কথাই উঠে এসেছে এই লেখায়- গতকালের চতুরঙ্গ পাতার পর আজ পড়ুন।

ছাত্রীরা ঘোড়ার গাড়িতে খড়খড়ি লাগিয়ে কলেজে আসতেন আমার মায়েদের যুগে। যদিও বিবাহের কারণে কলেজে যাওয়ার আগেই তার বিদ্যা অর্জনের ইতি ঘটেছিল- সে নিয়ে আজও তার দুঃখ ঘোচেনি। কিন্তু সে সময়ের রংপুর ছিল একটি প্রগতিশীল শহর। হিন্দু সমাজের প্রথম সংস্কারক ও ইংরেজী শিক্ষার অগ্রদূত রাজা রামমোহন কর্মসূত্রে রংপুরে বসবাস করেছিলেন অনেক দিন। এ শহরে তার প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরীটি আজও ইতিহাসের সেই স্মৃতি বহন করে চলছে।

মায়েরা যখন চল্লিশের মধ্য দশকে যে গার্লস স্কুলটাতে পড়তেন আজও আছে সে স্কুল। তখন সেখানে পড়তেন অগুনতি হিন্দু-মুসলমান মেয়ে। কোন পর্দা প্রথার চলও ছিল না সমাজে। তিনি এখনও গল্প করেন- ‘ছুটির সময় আমরা যখন বাড়ি ফিরতাম চারদিকে তখন শুধু হাঁটছে স্কুলের স্কার্ট পরা ঘরে ফেরা মেয়ের দল।’ যাই হোক, ছোটবেলা থেকেই দেখতাম পরিবারের কেউ কেউ ও পাড়া-প্রতিবেশী ছেলেমেয়েরা বিএ অবধি কারমাইকেল কলেজেই পড়তেন। কলেজের পুরনো ও সাম্প্রতিক নানা গল্প করতেন তারা। কাঁচা বয়সেই শুনে ফেলেছিলাম কলেজে আমাদের সম্পর্কীয় এক মামার বহু পূর্বের দুষ্কর্মের কথা, যার ডাকনাম ছিল পুটু।

ক্লাসে ছিল হাতেগোনা মেয়ে। তারা চমৎকার কবরী রচনা করে কলেজে আসতেন। পুটু মামা ক্লাসে আড়ে আড়ে তাকিয়ে থাকতেন একটি মেয়ের খোঁপার দিকে। কে জানে মনে বোধ হয় দেগেছিল নজরুলের সেই গান- আলগা করগো খোঁপার বাঁধন দিল ওহি মেরা ফাঁস গায়া’। একদিন সেই সুন্দরীটি যখন ঘোড়ার গাড়িতে আরোহণ করছিলেন ফাঁসা দিলের পুটু মামা নির্জনতার সুযোগে বুঝি বা আলগা করতেই টান দিলেন সহপাঠিনীর খোঁপায়। কিন্তু আলগা খোঁপা নিয়ে মুখ বুজে বাড়ি ফেরার পাত্রী ছিল না সেই তরুণী ছাত্রী। এই রংপুরেই তো বহু বছর আগে প্রবল প্রতাপে তিন যুগব্যাপী জমিদারী করে গিয়েছিলেন দেবী চৌধুরানী। তার উত্তরসূরি মেয়েটি সরাসরি অধ্যক্ষের রুমে গিয়ে হাজির হয়ে নালিশ করল পুটু মামার বিরুদ্ধে। আর সঙ্গে সঙ্গে আজীবনের জন্য শিক্ষাজগত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন পুটু মামা।

আমাদের সময়ের ছেলেগুলো এমন দুর্ধর্ষতার কথা চিন্তাতেও আনেনি বোধ হয়। তবে মেয়েদের সঙ্গে কো-এডুকেশনে পড়তে এসে কয়েকটা প্রথম প্রথম ভারি ফচকেমি করত অধ্যাপকদের আড়ালে। ক্লাসের আগে বা পরে নানা কমেন্ট করে, হি হি করে হেসে সহপাঠিনীদের বিরক্ত করাই ছিল তাদের কাজ। কিন্তু একদিন পড়বি পড় মালির ঘাড়ে। দেখে ফেললেন ইংরেজীর হেড কুতুব উদ্দিন আহমেদ। যেমন ছিল তার ব্যক্তিত্ব তেমনি পোশাক-আশাক। স্যার পড়াতেন সৌন্দর্যের কবি কিটস এবং ক্লাস শুরু হতো ‘বিউটি ইজ ট্রুুথ এ্যান্ড ট্রুথ ইজ বিউটি’ দিয়ে। কখনও টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বুজে আবৃত্তি করতে পছন্দ করতেন রবীন্দ্রনাথের মানসী। (চলবে)

লেখক : নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখিকা

ংযধৎরভধ.শ@ড়ঁঃষড়ড়শ.পড়স

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫

২৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: