আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ধর্ষিতার লাশ কবর থেকে তুল ময়নাতদন্দের নির্দেশ

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫, ০৩:২০ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভারতে চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণ শেষে হত্যার পর লাশ বাংলাদেশি তরুণী নার্গিস আক্তারের লাশ কবর থেকে তুলে মযনাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এসংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। হতে পারে বলে জানান এ্যাডভোকেট এলিনা খান।

এর আগে ভারতে চলন্ত ট্রেনে ধর্ষণ শেষে হত্যার পরে নার্গিসের লাশ বাংলাদেশে হস্তান্তরের ঘটনায় গত ২১ মে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন নিহতের মামী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এ্যাডভোকেট এলিনা খান এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে নিহত নার্গিস আক্তারের কবর থেকে লাশ তুলে পোস্টমর্টেম এবং ভারত থেকে লাশ হস্তান্তরের সময় পাঠানো সকল কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, ডিসি খুলনা এবং সোনাডাঙ্গা থানার সংশ্লিষ্ট এসআইকে বিবাদী করা হয়েছে। তার আগে গত ২০ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে “ভারতের ট্রেনে বাংলাদেশী নারী ধর্ষিত’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ পায়। নার্গিসের পরিবার জানায়, নিজের ও জন্মান্ধ মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ বছরের মেয়েকে নিয়ে খুলনার নার্গিস গত ৯ মার্চ বৈধ পথে ভারত যান। চিকিৎসা শেষে আজমীর শরিফও ঘুরে আসার ইচ্ছা ছিল তাদের।

গত ১০ মার্চ তারা হাওড়া স্টেশন থেকে দিল্লীর উদ্দেশে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি কানপুর পৌঁছলে কয়েক যুবক দিল্লী এসে গেছে বলে তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে আনে। পরে নার্গিসকে প্লাটফর্মে আটকে রেখে তার মা-মেয়েকে জোর করে ওই ট্রেনে তুলে দেয়া হয়। এরপর ট্রেন ছেড়ে দিলে পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নার্গিস। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় লোকজনের সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরেন নার্গিসের মা ও মেয়ে। নার্গিসের পরিবার গত ১৯ মার্চ সোনাডাঙ্গা পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারেন, নার্গিস মারা গেছেন। তার মরদেহ উত্তর প্রদেশের বাধান রেলস্টেশনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে অনেক নাটকীয়তার পর গত ২০ এপ্রিল সকালে বেনাপোল স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নার্গিসের মরদেহ বুঝে পায় তার পরিবার। ওদিন দুপুরে স্থানীয় কবরস্থানে নার্গিসের মরদেহ দাফন করা হয়।

নার্গিসের মরদেহ দাফনের আগে গোসল করান লাইলি বেগম। তিনি বলেন, ‘নার্গিসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। বাঁ পায়ের গোড়ালি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চামড়ার সঙ্গে কোন রকমে আটকে রয়েছে। ডান হাত কাঁধ থেকে ভাঙ্গা। নার্গিসের দুই স্তনই কেটে ফেলা হয়।’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে বাংলাদেশী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ভারতে ভ্রমণে গিয়ে এক বাংলাদেশী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে, যাকে দুর্বৃত্তরা ট্রেনে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে স্বজনদের ধারণা।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আসলাম খান জানান, নিহত নার্গিস আক্তার (৩৪) খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার কেডিএ এ্যাপ্রোচ রোড এলাকার সাহাবুদ্দিনের মেয়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে নার্গিসের লাশ তার অন্ধ মা মনিমালা এসেছিলেন বলে জানান ওসি আসলাম। মনিমালা বলেন, আমি অন্ধ, চোখে দেখি না। কেবল মেয়ের গোঙানো ও চিৎকার শুনতে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। পরে স্টেশন এলাকায় জিজ্ঞেস করে জানতে পারি ওটা কানপুর স্টেশন। আমাদের তিনটি পাসপোর্টই নার্গিসের কাছে ছিল। কয়েকদিন ধরে ওই স্টেশনে বসে কাঁদতে থাকি আর মানুষের কাছে আমার মেয়ের খোঁজখবর নেই। কিন্তু কোন খবর পাইনি। পরে কে বা কারা ১৬ মার্চ আমাদের দুজনকে (নানি-নাতনি) পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধ পথে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়ে যায়।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫, ০৩:২০ পি. এম.

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: