আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশী ছিটমহল চন্দ্রখানা

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

চারদিকে ভারতের দাসিয়ারছড়া ছিটমহল আর এরই মাঝে মাত্র ৭৬টি পরিবার নিয়ে ২৫ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের ছিটমহল চন্দ্রখানা। ছিট চন্দ্রখানার জনসংখ্যা মাত্র ৩৩৩ জন। এখানকার বাসিন্দাদের চলাফেরা ও হাট-বাজার করতে হয় ভারতীয় ভূখ-ের মধ্য দিয়ে। চারপাশে নেই কোন কাঁটাতার, নেই কোন খুঁটি, তবুও তারা যেন বন্দী। মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই এলাকার মানুষজন। ভারতীয় দাসিয়ারছড়া ছিটের বাইরে মূল বাংলাদেশ ভূখ-ের মানুষেরাও তাদের আপন করে নিতে পারছেন না। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কোন জনপ্রতিনিধির পা পড়েনি এ এলাকায়। পূর্ব চন্দ্র খানার নাগদা গ্রামের গৃহবধূ আয়শা সিদ্দিকা জানান, আমরা বাংলাদেশী হয়েও দীর্ঘদিন পরবাসীর মতো জীবন কাটাচ্ছি। কারণ ভারতীয় ছিটের ভেতরে আমাদের ছিট। কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও এখানে পুলিশ আসতে পারত না। এখন আশা করছি সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আনন্দ-জোয়ারে কুড়িগ্রাম ছিটমহলবাসী

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল সাড়ে ছয়টা পড়ন্ত বিকেল। ঠিক এ সময় খবর এলো ভারতের লোকসভায় স্থল চুক্তি বিল পাস হয়েছে। খবর পেয়েছে ছিটমহলবাসী। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পুরো ছিটমহলের বিভিন্ন গ্রাম। ছিটের মানুষগুলো ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। আনন্দে আত্মহারা সমস্ত গ্রামের নারী-পুরুষ কিশোর, যুবক, শিশু, বৃদ্ধ সকলে। তারা বুকে বুক মেলাচ্ছে। একে অন্যকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছে। নাচ, গান চলছে লাঠি খেলা মানুষের যে আনন্দ-অনুভূতি তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আনন্দ র‌্যালি, লাঠি খেলা উৎসবে ফেটে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরের ১৬২ ছিটমহলে এখন আনন্দের বন্যা। বাঁধভাঙ্গা আনন্দে উদ্বেলিত অর্ধ লক্ষাধিক ছিটমহলবাসী।

রাসমেলা গ্রামের কৃষক আবদুস সামাদ (৫৬) জানান, এতদিন পর মনে হচ্ছে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো। আমাদের সন্তানরা এখন শিক্ষা পাবে। গড়ে উঠবে চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এক মাস আগেও আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে শুধু ছিটের নাগরিক বলেই ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি নেয়নি। বাধ্য হয়ে ঠিকানা গোপন রেখে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে ছিলাম। এখন আর এমন সমস্যায় পড়ব না। ছিটমহলের বাসিন্দারা যুগের পর যুগ ধরে ভারতীয় নাগরিক হলেও এখন তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কালিহাট বাজারের ছোট্ট চায়ের দোকানের মালিক মনির উদ্দিন (৬২) জানান, আমি ভারতীয় নাগরিক হলেও এ দেশের সঙ্গে মিশে গেছি। বাবা-মায়ের বাস্তুভিটা ছেড়ে আর কি ভারতে যাওয়া সম্ভব? এখানে যেন চিরনিদ্রায় থাকতে পারি।’

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: