আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত নতুন মানচিত্র

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্রে পরিবর্তন আসবে। বিদ্যমান দুই দেশের মানচিত্র বদলে যাবে। দুই দেশের ছিটমহল এলাকা বিনিময়ের পরে মানচিত্রে এই রদবদল আসবে। ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি ও ২০১১ সালে ওই চুক্তির প্রটোকলেই স্পষ্টভাবে বলা আছে, দুই দেশের কোন্ সীমানা কিভাবে নির্ধারিত হবে। ওই চুক্তি ও প্রটোকল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার রাজ্য- অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানারেখায় পরিবর্তন আসবে।

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ভেতর থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল (১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর) বাংলাদেশকে দেবে ভারত। অন্যদিকে ভারতের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (সাত হাজার ১১০ দশমিক ২ একর) বাংলাদেশ দেবে ভারতকে। ছিটমহলগুলো অন্য দেশের ভূখ-ের মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশ বা ভারত কোন দেশের সঙ্গেই ছিটমহলগুলোর ভৌত যোগাযোগ নেই। বিনিময়ের ফলে ভারতের মধ্যে থাকা ছিটমহলগুলো ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে আর বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ছিটমহলগুলো যুক্ত হবে বাংলাদেশের সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রাপ্য ছিটমহল বেশি হওয়ায় নতুন মানচিত্রে দেশের আয়তন বাড়বে। কোথাও ভারতের সীমানারেখা বাংলাদেশের বর্তমান সীমানার ভেতর ঢুকে গেছে। আবার ভারতের সীমানার ভেতরও কোন কোন স্থানে বাংলাদেশের সীমানারেখা ঢুকে যাবে।

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের সীমান্তে যে ভৌগোলিক পরিবর্তন আসবে সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে একটি ছোট পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের জনগণের মধ্যে সচেতনতা আনার লক্ষ্যে প্রকাশিত এই পুস্তিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দমুহুরী নদীর (বিলোনিয়া) বিদ্যমান সীমানা পিলার (২১৫৯/৪৮-এস) থেকে সীমানারেখা আরও পশ্চিম দিকে টেনে ১৯৭৭-৭৮ সালের যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি মুহুরী নদী এলাকার নক্সায় প্রদর্শিত বার্নিংঘাটের দক্ষিণ সীমায় গিয়ে মিলবে। এরপর তা উত্তর দিকে বাঁক নিয়ে বার্নিংঘাটের বাইরের সীমা বরাবর গিয়ে বর্তমান মুহুরী নদীর কেন্দ্রে মিশবে। এটি আবার বিদ্যমান মুহুরী নদীর মধ্যস্রোত বরাবর গিয়ে ২১৫৯/৩-এস সীমান্ত পিলার পর্যন্ত যাবে। এটি হবে স্থায়ী সীমানা। দলাঠিটিলা ও ডুমাবাড়ি সীমান্ত এলাকায় রেডক্লিফের আঁকা সীমানারেখা ১৩৯৭ নম্বর পিলার থেকে সোজা দক্ষিণে ডুমাবাড়ি, লাঠিটিলা ও বড় পুটনিগাঁও মৌজার লোহার ব্রিজ পর্যন্ত এবং এরপর তা দক্ষিণ দিকে পুটনিছড়া বরাবর সিলেট-ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত (পিলার নম্বর ১৮০০) টানার কথা বলা হয়েছে। দদইখাতা ৫৬ (পশ্চিমবঙ্গ-জলপাইগুড়ি)-পঞ্চগড় অংশের স্থায়ী সীমান্তরেখা ১৯৯৭-৯৮ সালের জরিপ অনুযায়ী দইখাতা-৫৬-এর সীমানা বরাবর ৪৪৪/৬ নম্বর সীমান্ত নক্সায় (স্ট্রিপ শিট) বিদ্যমান ৭৭৪/৩২-এস সীমান্ত পিলার থেকে শুরু হবে। এরপর তা দইখাতা-৫৬-এর (পূর্ব থেকে পশ্চিম) দক্ষিণ সীমানা অনুসরণ করে ১৮ নম্বর পয়েন্ট পর্যন্ত যাবে।

বোসমারী-মাধুগারি (কুষ্টিয়া-নদীয়া) এলাকায় যৌথ জরিপ ও ২০১১ সালের জুন মাসে দুই দেশের সম্মতি অনুযায়ী, এ সীমান্ত ১৯৬২ সালের মানচিত্র অনুসারে ১৫৪/৫-এস সীমানা পিলার থেকে শুরু করে মাথাভাঙ্গা নদীর পুরনো ধারা অনুসরণ করে ১৫১/১-এস নম্বর সীমান্ত পিলারে গিয়ে মিশবে।

চর মহিষকুন্ডি (কুষ্টিয়া-নদীয়া) এলাকায় যৌথ জরিপ ও ২০১১ সালের জুনে উভয় দেশের সম্মতির ভিত্তিতে এ এলাকার সীমানারেখা বিদ্যমান সীমান্ত পিলার ১৫৩/১-এস থেকে টেনে মাথাভাঙ্গা নদীর তীর বরাবর ১৫৩/৯-এস নম্বর সীমান্ত পিলার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। বেরুবাড়ী (পঞ্চগড়-জলপাইগুড়ি) এলাকায় ১৯৯৬-১৯৯৮ সালে যৌথভাবে চিহ্নিত সীমান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের অপদখলে থাকা বেরুবাড়ী (পঞ্চগড়-জলপাইগুড়ি) এবং ভারতের অপদখলে থাকা বেরুবাড়ী ও সিংঘাপাড়া-খুদিপাড়ার (পঞ্চগড়-জলপাইগুড়ি) সীমানারেখা আঁকা হবে। প্রটোকলের অপদখলীয় ভূমি অংশে মেঘালয় সেক্টরের ছয়টি এলাকার উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: