মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

গানে গানে নজরুল জয়ন্তী উদ্্যাপন একাডেমির

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫
গানে গানে নজরুল জয়ন্তী উদ্্যাপন একাডেমির
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুয়ারে কড়া নাড়ছে দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মের সেই শুভ দিন। কাল সোমবার এগারোই জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবির ১১৬তম জন্মবার্ষিকী। আর কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে নজরুল একাডেমি। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চার দিনের এ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ছিল শনিবার। বিকেল থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে নজরুলের সৃষ্ট সুরের অনুরণন। সম্মেলক সঙ্গীতের সঙ্গে ছিল এক কণ্ঠের পরিবেশনা। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল একাডেমি শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান। আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আলোচনা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমান। উদ্বোধন ঘোষণা ও অতিথির বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক ও লেখক অধ্যাপক মোঃ আবদুল গফুর।

মূল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয় সন্ধ্যায়। নজরুল একাডেমি শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ পর্বের সূচনা। এরপর সম্মেলক কণ্ঠে গাওয়া হয় আরও চারটি গান। এগুলো হলোÑ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট‘, ‘এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করেন মোঃ বদিউজ্জামান, মিন্টু রহমান, সিরাজুল ইসলাম, রেজা মতিন প্রমুখ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আমন্ত্রিত নজরুল একাডেমির শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আজ রবিবার তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়। সন্ধ্যায় কবিতা পাঠের আসর বসবে। মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে নজরুলসঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্যালেখ্য ‘বাদল বরিষণে’। এছাড়াও একক, দ্বৈত ও সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হবে।

আইজিসিসিতে ফরিদা পারভীনের লালনসঙ্গীত ॥ লালন সাঁইয়ের মানবতার বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করা এক শিল্পী ফরিদা পারভীন। আর সেই বাণীকে লালন করে কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন লালনের গান। সেই গানে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন লাখো শ্রোতাকে। শনিবার জ্যৈষ্ঠের সন্ধ্যায় গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) অনুষ্ঠিত হয় এই শিল্পীর সঙ্গীতসন্ধ্যা। ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ শীর্ষক এ সঙ্গীতাসরে সিক্ত হলেন শ্রোতাকুল। অনবদ্য কণ্ঠ মহিমায় লালনের গানে গানে মোহাবিষ্ট করে রাখলেন সঙ্গীতানুরাগীদের। আর সেই সূত্রে লালনসঙ্গীত সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে তাৎপর্যপূর্ণ।

দরাজ কণ্ঠে পারে লয়ে যাও আমায়/আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময় গানটি দিয়ে শিল্পী শুরু করেন পরিবেশনা। প্রথম গানেই সুর আর বাণীর মেলবন্ধনে শিল্পীর সঙ্গে সংযোগ ঘটে যায় শ্রোতাদের। এরপর বরেণ্য এই লালনসঙ্গীত শিল্পী সঙ্গীতপিপাসুুর অন্তরে মুগ্ধতার বীজ বুনে একে এক পরিবেশন করেন বাড়ির পাশে আরশী নগর, পাখি কখন জানি উড়ে যায়, ধন্য ধন্য বলি তারে, সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে, তিন পাগলে হলো মেলা, মিলন হবে কতদিনে, সময় গেলে সাধন হবে না, যেখানে সাঁই বারামখানা, বলি মা তোর চরণ ধরেসহ একগুচ্ছ গান।

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনের সেমিনার- ‘রাষ্ট্র ও ধর্ম ॥ রবীন্দ্র ভাবনা ও বর্তমান বাস্তবতা’ বিষয়ে সেমিনার দিয়ে শনিবার শুরু হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের চৌত্রিশতম বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন। সান্ধ্য অধিবেশন সাজানো হয়েছিল গুণীজনের সুবচন রবিরশ্মি, আবৃত্তি, পাঠ, নৃত্য ও গান দিয়ে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল মোমেন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি সন্জীদা খাতুন। আলোচনায় অংশ নেন ডা. সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক।

সন্জীদা খাতুন বলেন, সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিল মুসলিম লীগ। স্বাধীন বাংলাদেশেও এরা সক্রিয় ছিল। সে কারণেই ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটেছিল। এর মানে হচ্ছে আমরা মানুষের অন্তরে আলো জ¦ালতে পারিনি।

ডা. সারোয়ার আলী বলেন, রাষ্ট্র সাময়িক, রবীন্দ্রনাথ তাই সমাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ধর্মতত্ত্ব থেকে মানব সমাজ এবং হিন্দু-মুসলমানের ধর্ম যার যার জায়গায় রেখে বাঙালী সমাজ নির্মাণে তিনি সচেষ্ট ছিলেন।

মফিদুল হক বলেন, রবীন্দ্রনাথ জাতিসত্তাকে বড় করে তুলতে চেয়েছিলেন। ধর্মতত্ত্ব থেকে মানবজাতি সত্তার সন্ধানে রবীন্দ্রনাথ তাই আমাদের অবলম্বন।

সন্ধ্যায় ছিল সারাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সঙ্গীত আয়োজন। আজ রবিবার রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনের শেষ দিন। সমাপনী অধিবেশন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।

এবি ব্যাংক চ্যানেল আই নজরুলমেলা ॥ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই আয়োজন করবে ‘এবি ব্যাংক চ্যানেল আই নজরুলমেলা’। তেজগাঁওয়ে টেলিভিশনটির কার্যালয়ে ১১ জ্যৈষ্ঠ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে এবারের নজরুলমেলা। এ বছরের এ নজরুলমেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সঙ্গীতজ্ঞ খালিদ হোসেন ও নজরুলবিষয়ক সংগঠন তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়া। দিনব্যাপী আয়োজন শুরু হবে সকাল ১১টায়। অনুষ্ঠানমালায় থাকবে নজরুলসঙ্গীত, নৃত্যনাট্য, শিশুনৃত্য, নজরুলের কবিতা থেকে আবৃত্তি, নজরুল রচনাবলী থেকে পাঠ এবং নজরুলবিষয়ক ছবি আঁকাসহ নানা কার্যক্রম। পাশাপাশি থাকবে ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল।

শনিবার চ্যানেল আই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, এবি ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চৌধুরী মনজুর লিয়াকত, আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারোয়ার, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আসিফ ইকবাল, সম্মাননাপ্রাপ্ত সঙ্গীতজ্ঞ খালিদ হোসেন এবং তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়ার সচিব ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক মোয়াজ্জেম হোসাইন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চ্যানেল আই চত্বরের খোলা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নজরুলমেলার সূচনা হবে সকাল ১১টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন খ্যাতিমান নজরুল বিশেষজ্ঞ, বরেণ্য শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকবৃন্দ। এবারের এ আয়োজনে দেশের নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করবে। দেশের খ্যাতিমান বিভিন্ন নৃত্যশিল্পীদের পাশাপাশি এতে ‘নৃত্যনাট্য’ পরিবেশন করবে শিশু নৃত্যশিল্পীরা। থাকবে কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি, নজরুল রচনাবলী থেকে পাঠ, নজরুল বিষয়ক ছবি আঁকাসহ নানা অনুষ্ঠান। এমন সব নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের বহুমুখী চিন্তা ও প্রতিভার প্রকাশ ঘটানোর এই মেলায় আরও থাকবে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৫টি স্টল। স্টলে প্রদর্শিত হবে নজরুল গ্রন্থ, নজরুলকে নিয়ে লিখিত গ্রন্থ, নজরুল চিত্রকলা, নজরুল সঙ্গীতের রেকর্ড কাভারের প্রদর্শনী, নজরুলসংক্রান্ত ভিডিও সিডি, নজরুল সঙ্গীতের গানের স্টল, নজরুল গল্পগ্রন্থ থেকে নির্মিত চলচ্চিত্র স্টল ইত্যাদি। দিনব্যাপী এ মেলার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই।

মুক্তধারার আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘বালিকা আশ্রম’ ॥ ‘মানুষের জন্য আমরা মানুষকে স্পর্শ করতে চাই‘ সেøাগানে যাত্রা শুরু করেছিল মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। সময়ের বহমানতায় সংগঠনটি পূর্ণ করেছে প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর। আর এ উপলক্ষে শনিবার সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘বালিকা আশ্রম’। কবি আবু হাসান শাহরিয়া রচিত কবিতা দিয়ে সজ্জিত আবৃত্তি প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান পারভেজ।

জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ॥ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত এ বছরের জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার পদক প্রদান করা হলো শনিবার। একইসঙ্গে বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানও শিশু একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের সৃজনশীলতা, মেধা ও মনন অন্বেষণে ৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০১৫ শুরু হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে জেলা ও অঞ্চল (বিভাগীয়) পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাছাইকৃতরা ১৯ থেকে ২২ মে পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিশুদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মধ্যে ৫৩টি বিষয়ে মোট ১৫৯টি পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ বছর সাংস্কৃতিক বিষয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন খুলনা জেলার মণিকা দেবনাথ কথা।

পদক বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি এবং বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

প্রাগৈতিহাসিক নাটকের শততম মঞ্চায়ন ॥ নাগরিক নাট্যাঙ্গনের চলমান নাট্যোৎসবের চতুর্থ সন্ধ্যায় ‘প্রাগৈতিহাসিক’ নাটকের শততম মঞ্চায়ন হয়। শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নাটকটি রচনা করেছেন মাহমুদুল ইসলাম সেলিম। নির্দেশনা দিয়েছেন লাকী ইনাম।

নাটকের কাহিনীতে দেখা যায়, নানা ঘটনা-অঘটনে জড়িয়ে রয়েছে ডাকাতসর্দার ভিখু। স্যাঁতসেঁতে বর্ষাকাল তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় এবার। বসন্তপুরের বৈকুণ্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করতে গিয়ে ভিখুর পুরো দল ধরা পড়ে যায়। কাঁধে মারাত্মক জখম হয় ভিখুর। তা নিয়েই সে প্রাণপণে পালিয়ে বাঁচে। তারপর সে আশ্রয় নেয় পুরনো বন্ধু পেহ্লাদ বাগদীর ঘরে। ঘরের মাচার সামান্য আশ্রয়ে বিনা চিকিৎসা, বিনা যতেœই সুস্থ হয়ে ওঠে ভিখু। কিন্তু তার ডান হাত আর ভাল হয় না। গাছের মরা ডালের মতো অকর্মণ্য বিবশ হয়ে ঝুলতে থাকে শরীরে। এ অবস্থার মধ্যেই ভিখুর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে বন্ধুর বউ ভুতির ওপর। বাগদীকন্যা কোনরকমে ভিখুর কাছ থেকে সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারলেও পেহ্লাদ তা মেনে নিতে পারে না। সে ভুতিকে মারধর করে। পরে ভিখুকে ঘর থেকে বের করে দেয়। ভিখুও নাছোড়। ঘর থেকে বেরোবার আগে পেহ্লাদের ঘরে আগুন দিয়ে অপমানের প্রতিশোধ নেয় সে। এরপর শুরু হয় ভিখুর নতুন ভিক্ষুক-জীবন। এর মধ্যেই তার পরিচয় হয় পাঁচীর সঙ্গে। বাউলকন্যা পাঁচী নিজেও ভিক্ষুক। তার পায়ে দগদগে ঘা। একসময় পিতাহারা এই মেয়েটি পুণ্যা বাউলের হাত ধরে পথে নামে এবং পথেই খঞ্জভিখারি বশিরের দ্বারা তার সম্ভ্রমহানি ঘটে। পরে বশিরের সঙ্গেই রাত্রিযাপন করে পাঁচী, যদিও অন্তরে তার পুণ্যা বাউল। এদিকে ভিখুর সঙ্গে পরিচয়পর্বটাও সুখের ছিল না পাঁচীর। প্রথম দেখাতেই ভিখুর মনে ভোগলিপ্সা জাগে। ভিখু বাজে ইঙ্গিতবহ স্পর্শ ছুড়ে দেয় পাঁচীর দেহে। পাঁচী খেপে ওঠে। পরে বশিরের আঘাতে কুপোকাত হয় ভিখু। কিন্তু সুখ বুঝি আর কপালে নেই পাঁচীর। পাঁচীর দখল নিয়ে শুরু হয় ভিখু ও বশিরের দ্বন্দ্ব। এক রাতে বশিরকে খুন করে পাঁচীকে নিয়ে ভিখু বেরিয়ে পড়ে অজানায়। এভাবেই এগোয় নাটকের কাহিনী।

প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাবিব বাহার, পাঁচী চরিত্রে হৃদি হক, বশির চরিত্রে অভিনয় করেন প্রলয় জামান। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন রাশেদ ইমরান, শোমন সুমি, বিশ্বজিৎ ধর, বিশ্বজিৎ দে বাদল প্রমুখ। মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন সাজু খাদেম।

ডিইউপিএস জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব ॥ ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটির আয়োজনে শুরু হলো ৬ দিনব্যাপী ‘ডিইউপিএস ২য় জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব’। শনিবার সকালে শিল্পকলা একডেমির জাতীয় চিত্রশালায় উৎসবের উদ্বোধন হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় টিএসসি থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শিল্পকলায় এসে শেষ হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া, কাউন্টার ফটোস এর হেড অব একাডেমিস দ্বীন মোহাম্মদ শিবলী।

বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তোলা আলোকচিত্র নিয়ে এই উৎসব ২৬ মে পর্যন্ত চলবে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৬ নং গ্যালারিতে। এরপর ২৭ ও ২৮মে প্রদর্শনী হবে টিএসসিতে।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: