মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ছিটমহলে নতুন জীবন- ঘরে ঘরে উৎসব, প্রাণচাঞ্চল্য

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫
ছিটমহলে নতুন জীবন- ঘরে ঘরে উৎসব, প্রাণচাঞ্চল্য
  • ছিটমহল নিয়ে আজ জনকণ্ঠের বিশেষ আয়োজন ১ ও ১১ পৃষ্ঠায়

কাওসার রহমান/ তৌহিদুর রহমান ॥ ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত বিল পাসের পরে ছিটমহলে এখন নতুন জীবনযাত্রা শুরু হয়েছে। সোনালী দিনে ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছেন সেখানকার নাগরিকরা। তাদের নাগরিকত্ব পরিচয়ের সকল বাধা এখন ঘুচতে চলেছে। ইতোমধ্যেই ছিটমহলে নতুন করে জনসংখ্যা জরিপ শুরু হয়েছে। আর এই জরিপের পরেই ছিটমহলবাসীরা নিজ নিজ দেশে নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন।

সীমান্ত বিল পাসের পরে দুই দেশের ছিটমহলবাসীদের মধ্যে অবরুদ্ধ জীবনের কষ্ট, নিরাপত্তার অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কষ্ট, যাতায়াতের অসুবিধা, বিচ্ছিন্ন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা ইত্যাদি সমস্যা এখন ঘুচে যাবে। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিনের সেই জমানো দুঃখ-যন্ত্রণা ভুলে যেতে চলেছেন তারা। তাই ছিটমহলে এখন নতুন জীবনের হাতছানি। সীমান্ত বিল পাসের পরে দুই দেশের ছিটমহলের বাসিন্দারা নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করতে শুরু করেছেন। ছিটমহলের নিজ নিজ জমিতে এখন বাড়িঘর তৈরির হিড়িক পড়েছে। নিরাপত্তার অভাবে আগে এক সময় ছিটমহল ছেড়ে কেউ কেউ মূল ভূখ-ে বসবাস করলেও এখন তারাই আবার ছিটমহলে ফিরে গিয়ে বাড়িঘর তৈরি শুরু করেছেন। একইভাবে ওপার বাংলার মানুষেরাও এমনভাবে ছিটমহলে বাড়ি নির্মাণ করছেন।

ছিটমহলে সবকিছুই যেন ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করেছে। দিনের পরে দিন, বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ একইভাবে চলে এলেও ছিটমহল এলাকায় এখন নতুন দিনের হাতছানি দিচ্ছে। ভারতের লোকসভায় সীমান্ত বিল পাসের পরেই ওই এলাকার স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসছে। এখন অনেকেই খুব দৃঢ়চিত্তে বলতে পারছেন, তারা এখন একটি দেশের নাগরিক। দেশহীন মানুষ বলে আগের সেই পরিচয় আর নেই।

পঞ্চগড় জেলার গাড়াতি ছিটমহলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ২০১০ সালে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে তার বাড়িঘর পুড়ে গেলে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমগাড়ি গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে সীমান্ত বিল পাসের পরে তিনি আবার তার পুরনো ভিটায় ঘর তুলেছেন। এমন অনেকেই পুরনো ভিটায় ঘরবাড়ি তৈরি করে ছিটমহলে নিজ নিজ জমি দখলে রাখার চেষ্টা করছেন।

ভারতের লোকসভায় সীমান্ত বিল পাসের পরে ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন কুড়িগ্রামে গিয়ে ছিটমহল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সে সময় তিনি বলেছেন, ছিটমহলবাসী এখন থেকে নতুন জীবন শুরু করবেন। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির বাস্তবায়নে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণভাবে দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, ছিটমহলবাসীরা উভয় দেশের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রাপ্য নাগরিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারীতে নেই রাষ্ট্রীয় কোন সহায়তা। প্রতিষেধক কোন টিকাও তারা পায় না। চিকিৎসক না থাকা আর সু-চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর অনেক মানুষ বিশেষ করে অনেক প্রসূতিকে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অকালে মরতে হয়েছে। শিক্ষার জন্য স্কুল কলেজ বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত মাদ্রাসা না থাকায় যুগ যুগ ধরে সমাজ, দেশ ও বিশ্বজগত সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। যা জাতি ও বিশ্বের জন্য মারাত্মক বোঝা।

বিশ্ব যেখানে তথ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তখনও তারা আদি যুগের বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের পরিচয় তারা ছিটের মানুষ। এসব ভূখ- এমনভাবে রয়েছে যার সাথে ভারত ও বাংলাদেশের সরাসরি সংযুক্তি নেই। ছিটমহল সৃষ্টির পর থেকেই ভূমি সংস্কার না হওয়ায় এক পরিবারের সঙ্গে অন্য পরিবারের কিংবা এক গোত্রের সঙ্গে অন্য গোত্রের ঝগড়া দ্বন্দ্ব বিবাদ লেগেই আছে। যা মীমাংসা করার কোন আইনী প্রক্রিয়া নেই। কারণ ছিটমহলগুলোতে প্রশাসনের কোন দৃষ্টি ছিল না। তাই এগুলো অপরাধীদের অভয় অরণ্যে পরিণত হয়ে আসছিল।

আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বাকি থাকলেও ছিটমহলগুলোর মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। যাদের এক সময় অবহেলার চোখে দেখা হতো তাদের এখন সমীহের চোখে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি এতদিন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ছিটমহলে প্রবেশ করেনি। তারা এখন প্রায় প্রতিদিন কোন না কোনভাবে ছিটমহলবাসীর খোঁজখবর রাখছে। পুলিশ-বিজিবি নিয়মিত টহল দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সরকারের নির্দেশে ছিটমহলগুলোর মানুষকে ৬৮ বছরের গ্লানি হতে খুব দ্রুত মুক্ত করে মূল ভূখ-ের মানুষের সুযোগ সুবিধা দিতে পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলের উন্নয়নে ইউএনডিপি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি ছিটমহল উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ছিটমহল সঙ্কট অনেক গভীরে। এই সঙ্কট তৈরি হয় সেই অখ- ভারত খ- করার সময়েই। গোড়ায় গলদটা রেখে যান ব্রিটিশ আইনজীবী মি. সিরিল র‌্যাডক্লিফ। তিনিই পাকিস্তান-ভারত সীমানা নির্ধারণ করেন। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেন এক অসহনীয় মানবিক সমস্যার। ভারতের ভেতর বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভেতর ভারত। র‌্যাডক্লিফের নতুন মানচিত্রে ভারতের ১১১টি ভূখ- ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের ৫১টি ভূখ- চলে যায় ভারতে।

সিরিল র‌্যাডক্লিফের সীমানা নির্ধারণের কারণেই তখন সীমানা ঘেঁষে সৃষ্টি হয় কিছু কিছু অপদখলীয় এলাকা। কিছু এলাকায় ভারতীয় লোকজন পড়ে যায় বাংলাদেশ ভূখ-ের মধ্যে আবার পূর্ব পাকিস্তানের কিছু এলাকার জনগণ পড়ে যায় ভারতীয় ভূখ-ের মধ্যে। র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী কিছু ভূমি ভারতের সীমানার ভেতরে অথচ এ ভূমি দখলে আছে পাকিস্তানী জনগণের। কিছু জমি পাকিস্তান সীমানার ভেতরে আছে, দখলে আছে ভারতীয় লোকজন। এ দখল এভাবেই থেকে যায় পাকিস্তানে ২৪ বছর। এটাই অপদখল।

সীমানা নির্ধারণে এমন সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে কমিশনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ১. র‌্যাডক্লিফের সুবিবেচনার অভাব। অভিযোগ ২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা। অভিযোগ ৩. কমিশনের সদস্যদের অজ্ঞতা ও নিষ্ক্রিয়তা এবং অভিযোগ ৪. জমিদার, নবাব ও চা বাগানের মালিকদের স্বার্থরক্ষা। মূলত এই চার অভিযোগের সম্মিলিত প্রভাবেই ছিটমহল সঙ্কটের সূত্রপাত।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই জটিলতাই যুগের পর যুগ বয়ে বেড়াতে হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতকে। সমস্যা মেটানোর চেষ্টাও হয়েছে বহুবার। ছিটমহল জট কাটাতে প্রথম চুক্তি হয় ১৯৫৮ সালে নেহেরু ও নুরের মধ্যে। ঠিক হয় বেরুবাড়ির উত্তরদিকের অর্ধেক অংশ ভারত এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও তার সংলগ্ন এলাকা পাবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, বেরুবাড়ির সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগও নেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত আর তা হয়নি।

এরপর ১৯৭৪ সালে হয় ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ভেতরে ছিটমহলবাসী বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যাবে। আর পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে ছিটমহলবাসী ভারতের নাগরিক হয়ে যাবে। জমির পরিমাণ নিয়ে বলা হয়, জমি বেশি বা কম এর জন্য কোন ক্ষতিপূরণ কোন দেশ দাবি করবে না।

রাষ্ট্র আলাদা হয়ে গেছে বিধায় তাদের উচ্ছেদ করে ১৯৭৪-এ আবার ‘৪৭-এর মতো উদ্বাস্তু সমস্যা সৃষ্টি করে মানুষগুলোকে মানবেতর অনিশ্চিত জীবন-যাপনের দিকে ঠেলে না দেয়ার জন্যই এই চুক্তি করা হয়, যে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে, শুধু মালিকানা বিনিময় হয়ে যাবে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে। এ কারণেই অতিরিক্ত জমির জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি।

এই চুক্তি বাস্তবায়নে ছিটমহলের আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করে কাজও শুরু হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর ওই চুক্তি বাস্তবায়ন থেমে যায়। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই জটিলতা বাংলাদেশ ও ভারতকে বয়ে বেড়াতে হয় যুগ যুগ ধরে। পরবর্তী সময়ে যে জটিলতা নিরসনের চেষ্টা হয়নি, তা নয়। মেটানোর চেষ্টা হয়েছে বহুবার। ‘৭৪ সালের পর মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাংলাদেশের পার্লামেন্টে অনুসমর্থন পেলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ ভিন্নমতের কারণেই এতদিন ঝুলে ছিল।

২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিন বিঘা করিডর ২৪ ঘণ্টার জন্য খুলে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের জন্য স্বাক্ষরিত হয় প্রোটোকল।

তারই প্রেক্ষিতে কংগ্রেস সরকার সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সীমান্ত বিল ভারতের রাজ্য সভা ও লোকসভায় উত্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু লোকসভায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণে তা লোকসভায় উত্থাপন করতে পারেনি। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে ২০১৩ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হয়।

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত বিল নিয়ে অনেক শঙ্কার সৃষ্টি হয়। কিন্তু মোডদ সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলার কূটনীতি গ্রহণ করেন। তারই আলোকে বিগত ইউপিএ সরকারের আমলে গড়ে উঠা বন্ধুসুলভ সম্পর্ক অব্যাহত থাকে এবং মোদি সরকার সীমান্ত বিল রাজ্য সভা ও লোকসভায় পাসের উদ্যোগ নেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও গত ফেব্রুয়ারি (২০১৫ সাল) মাসে ঢাকা সফরের আগে সীমান্ত বিলের ব্যাপারে তার আপত্তি প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু অসম বিজেপি ছিটমহল বিনিময়ে নতুন করে আপত্তি উত্থাপন করে। ফলে মোদি সরকার অসমকে বাদ দিয়ে সীমান্ত বিল রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাস করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত অসমকে অন্তর্ভুক্ত করেই মোদি সরকার সীমান্ত বিল রাজ্য সভা ও লোকসভায় পাস করে। ফলে ছিটমহল বিনিময়ের ৬৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে।

২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের প্রোটোকল স্বাক্ষরের দিন থেকেই ছিটমহলবাসীরা প্রকৃত অর্থে বন্দীদশা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। দাবি উঠে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আলোকে ছিটমহল বিনিময় করতে হবে। সেই দাবি আদায়ে খুব কাছাকাছি এসে বারবার ভারতের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন (বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস) রাজনৈতিক দলের নেতা পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাধার কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকার তার দেশের সংবিধান সংশোধন করতে পারেনি। মমতা ব্যানার্জিকে রাজি করতে সময় লেগে যায় ৫ বছর। এই ৫ বছর ধরে দুই দেশের সরকার ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছে। অপরদিকে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি আন্দোলন করে গেছে। তারা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়তে ছিটমহলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করেছে। করেছে মানবন্ধন, সভা, সমাবেশ, উঠোন বৈঠক, মিছিল। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে হয়েছে মশাল মিছিল, গণঅনশন, ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে। যা ছিটমহল সমস্যার সমাধানে দুই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির (বাংলাদেশের) সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ছিটমহল চুক্তি পাস হয়েছে। এখন শুধু বাস্তবায়ন। ছিটমহল নামের গ্লানি মুক্তির অপেক্ষা। নিজ নিজ দেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলের মানুষ সেই দেশের নাগরিক হিসাবে গণ্য হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোন নাগরিক ইচ্ছে করলে পছন্দমত দুই দেশের যেকোন দেশের নাগরিক হতে চাইলে, তাকে সেই দেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের ভেতরে থাকা প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব নিতে চায়। তবে ভারতের ভেতরে থাকা কোন ছিটমহলের মানুষ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।’

ভারতের লোকসভায় ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বিল পাসের পর থেকেই নতুন স্বপ্নে বিভোর ১৬২ ছিটমহলে চলছে আনন্দের বন্যা। বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে উদ্বেলিত অর্ধ লক্ষাধিক ছিটমহলবাসী। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাবেশও হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্দী জীবনের অবসানের আনন্দে আত্মহারা ছিটমহলের বাসিন্দারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। যেন ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ ছিটমহলবাসী মুক্তির স্বাদ পেল। আগামী ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন ঢাকা সফরে। ওই সফরের মধ্যদিয়েই এই সীমান্ত চুক্তি বিল কার্যকর হবে আশা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, চুক্তি কার্যকরের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দী জীবন থেকে মিলবে মুক্তি -এমনটাই প্রত্যাশা ছিটমহলবাসীদের।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: