মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রশ্নবিদ্ধ ইইউ অভিবাসী নীতি

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫
  • নৌযান ডুবিয়ে দেয়ার নতুন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

জাহাজটি সাগরে দাঁড়িয়ে আছে। জাহাজের জানালা দিয়ে যাত্রীদের মুখ দেখা যাচ্ছে। তিনটি দেশ তাদের তীরে আসতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেটি ছিল ১৯৩৯ সালের ঘটনা। জাহাজটির নাম ছিল সেন্ট লুই। এর প্রায় ৯০০ যাত্রীকে কানাডা, কিউবা বা যুক্তরাষ্ট্রে নামতে দেয়া হয়নি। তাদের বেশিরভাগই ছিল নাৎসীদের হাত থেকে বাঁচতে পলায়নপর জার্মান ইহুদী। ঐতিহাসিকরা জানান, তাদের মধ্যে শত শত ইউরোপে ফিরে গিয়ে বন্দীশিবিরে মৃত্যুবরণ করে।

এখন বিশ্বজুড়ে অনুরূপ ঘটনা আরও বেশি মাত্রায় ঘটছে। হাজার হাজার বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রবিহীন অভিবাসীকে বিশাল বঙ্গোপসাগরে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ভাসতে বাধ্য করা হয়, কারণ বুধবারের আগ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তাদের তীরে ভিড়তে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। হাজার হাজার মাইল দূরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৮টি দেশ ভূমধ্যসাগরে পার হওয়ার চেষ্টায় হাজার হাজার অভিবাসী ব্যবহার করে থাকে এমন সব নৌযান ডুবিয়ে দিতে সামরিক তৎপরতার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে সম্ভবত বহু সংখ্যক লোক অরাজকতাপূর্ণ লিবিয়ার উপকূলে আটকা পড়বে। বিশ্বে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা চলার মধ্যে ইইউ অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানাল। সিরীয় যুদ্ধের কবল থেকে বাঁচতে অসংখ্য পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে, ইরিত্রিয়ায় বাধ্যমূলকভাবে সৈন্যবাহিনীতে যোগ দেয়া এড়াতে কিশোরের দল পালাচ্ছে এবং নাইজার থেকে শুরু করে বাংলাদেশ অবধি বিভিন্ন দেশের যুবক বিদেশে আরও ভাল ভবিষ্যতের খোঁজ করতে চাচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য হলো সাগরে মানুষের জীবন বিপন্ন করে থাকে এমন আদম পাচারকারী চক্রগুলোকে ভেঙ্গে দেয়া, কিন্তু তাদের পরিকল্পনা আরেকটি প্রশ্নের উদ্রেক করতে ঐ দমন অভিযান কি ইউরোপের মূল ভূখ-ে আশ্রয় চাওয়া থেকে অভিবাসীদের বিরত রাখার এক কৌশল মাত্র?

সমালোচকরা বলছেন, নতুন নীতি অভিবাসীদের ইউরোপে পৌঁছানোর একমাত্র পথ ব্যবহার না করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক জেমস সি হ্যাদাওয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত বুঝতে পারে যে, এর পদক্ষেপ মানুষকে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে অথচ আইনত তারা তা চাইতে পারে। তাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে এবং তাদের হাতে কোন প্রতিকার থাকবে না। ৭২ হাজারেরও বেশি অভিবাসী চলতি বছর এ সময়অবধি সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গনাইজেশন ফর মাইগ্রেশন একথা জানায়। প্রায় ১ হাজার ৮শ’ লোক জলপথে মৃত্যুবরণ করে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জাঁ মারিয়ে গুয়েহেনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনাকে এক ভয়াবহ সমস্যার ভয়াবহ সমাধান বলে অভিহিত করেন। তিনি এক সময়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন।

ইউরোপীয় দেশগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছিল। সেই অনুযায়ী তারা যেসব দেশে লোকজন নির্যাতনের শিকার হতে পারে, সেসব দেশে লোকজনকে ফেরত না পাঠাতে বাধ্য। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার অনেক দেশ কনভেনশনের পক্ষে নয়। ইউরোপীয় নেতারা কনভেনশন মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন। তারা এরই মধ্যে সাগরপথে রয়েছে এমন অভিবাসীদের উদ্ধার করা এবং যারা দেশে ফিরে গেলে নির্যাতিত হবে বলে আশঙ্কা করার মতো কারণ রয়েছে, তাদের ইউরোপে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্য সবাইকে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। সৈন্যদের সাগরে আন্তর্জাতিক বা লিবীয় যে কোন জলসীমাতেই নৌযানে ওঠে সেগুলো পরিদর্শন করার ক্ষমতা দেয়া হবে। সেগুলো অভিবাসী পাচারের উদ্দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দেখা গেলে সেগুলোকে আটক ও সরিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও সৈন্যদের থাকবে। ইউরোপীয় নেতারা ঐসব নৌযান আটক ও দূরে সরানোর বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেতে চাচ্ছেন। সে লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: