কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘পুঁজিবাজার নিয়ে নীতি নির্ধারকদের সংযত বক্তব্য রাখা উচিত’

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫, ০৩:২৯ পি. এম.

অর্থনেতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজার নিয়ে নীতি নির্ধারকদের সংযত হয়ে বক্তব্য রাখা উচিত বলে মন্তব্য করলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি এম মিজর্জা আজিজুল ইসলাম।

পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে জানিয়ে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বেশকিছু পরামর্শও দেন তিনি।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে‍ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘পুঁজি বাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে করণীয় লক্ষ্যে গোল টেবিল আলোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ এ মজিদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলী, পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড. আবু আহমেদ, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের সিও মনোরঞ্জন চাকমা, বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিনান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আসাদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন, আল আরাফা ব্যাকের ডিএমডি রেজাউর রহমান প্রমুখ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশের অনেকেই মনে করেন, পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ না। এটার একটি ভিত্তি আছে, সেটা হচ্ছে আইপিও। কিন্তু আইপিও শেয়ার বাজারের একটা অংশ। আইপিও ধরলেই এক থেকে দেড় কোটি মানুষ পুঁজিবাজারের সাথে জড়িত। তাই আমরা যেন পুঁজিবাজারকে ছোট বা খাটো করে না দেখি। দারিদ্র্য দূরীকরণেও পুঁজিবাজার ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে দীর্ঘ মেয়াদে তার ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দেন মিজর্জা আজিজুল ইসলাম।

আস্থা আরও বাড়ানোর জন্য করণীয় প্রসঙ্গে ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলর আইন দ্রুত করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুটা জয়েন্ট স্টক কোম্পানি হিসেবে কাজ করে জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রি-অ্যাকটিভ না হয়ে প্রো-অ্যাকটিভ হয়ে সবার সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিলে ভাল হয়।

পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বাজারে দেখে-বুঝে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে ঠকবেন।’

পুঁজিবাজার ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ দেশের স্বার্থেই এই বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

পুঁজিবাজারে এখনও বিনিয়োগযোগ্য অনেক শেয়ার আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

সঞ্চয় পত্রে সুদের হার কমানোর ঘোষণায় পুঁজিবাজারে সুফল এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্থবছরের শুরু থেকে সঞ্চয় পত্র কেনার আগ্রহ বেড়েছে।

যেকোনো পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে শেয়ার আসা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, তবে সেটা ভাল শেয়ার হতে হবে। ম্যানুপুলেশন কমানোর একটা উপায় হলো ভাল শেয়ার আসা।

বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য বাজারের বাইরেও ফ্যাক্টর আছে উল্লেখ মির্জা আজিজুল বলেন, বিনিয়োগ থেকে কতটুকু সুফল পাওয়া যাবে তা নির্ভর করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। বিনিয়োগের নিরাপত্তা না থাকলে মুনাফা আসবে না। শেয়ার হোল্ডাররা বিনিয়োগ করতে চাইবেন না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয় রাজনৈতিক অঙ্গণে এমন কিছু যেন না ঘটে সে দিকে নজর দিতে হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানও।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে ফটকা বাজার বা আরও নানা নেতিবাচকভাবে অভিহিত করা হয়। পৃথিবীর সব দেশে পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কথা বললেও আমাদের এখানে পুঁজিবাজারকে ভাল করার জন্য কেউ বলেন না।

ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো কোম্পানিকে ঋণ দেয়া উচিত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ এ মজিদ বলেন, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অর্থনীতিতে আস্থার পরিবেশে আসতে হবে। সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ, আর্থিক চঞ্চলতা থাকলে পুঁজিবাজার ভাল থাকবে।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫, ০৩:২৯ পি. এম.

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: