আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাগেরহাটে হাতির আক্রমণে নিহত ৩

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫, ১১:৫৭ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট।। বাগেরহাটের মোল্লাহাটে একটি মর্দা হাতির আক্রমনের শিকার হয়ে তিন জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে গোপালগঞ্জ-মোল্লাহাটের সীমান্তবত্তী ভৈরন নদী সাঁতরে ওই হাতি মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামে প্রথমে হানা দেয়। সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ওই এলাকার ফরিদ মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৩-টি টিনের ঘর ভেঙ্গে ফেলে। পরে নদীর তীরে এক মহিলাকে হাতি তার সুর দিয়ে পেঁচিয়ে আছাড় দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলা কে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্র্তির পর সে মারা যায়। প্রায় একই সময়ে হাতির হামলার শিকার হয়ে মোল্লাহাটের আটজুড়ি গ্রামের বোয়ালিয়া কহালপুর এলাকায় এক মহিলাকে এবং পাশের গ্রামের বাসাবাটির অপর এক মহিলাকে পিষ্ট করে মেরে ফেলে। বর্তমানে ওই হাতিটি বাসাবাটি গ্রামের একটি বাগানে অবস্থান করছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে মোল্লাহাট থানার ওসি আনম খাররুল আনম জানান।

উন্মত্ত হাতির আক্রমনে নিহতরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকার ইয়াছিন আলীর স্ত্রী মনোয়ার বেগম, মোল্লাহাটের আটজুড়ি ইউনিয়নের বাসাবাটি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান ও উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামের যতীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের স্ত্রী কুলসুম বিশ্বাস।

মোল্লাহাট থানার ওসি আনম খাররুল আনম জানান, আজ ভোরের দিকে গোপালগঞ্জের ঘোনা পাড়ায় বেধে রাখা পুরুষ হাতিটি শিকল উপড়ে ভরনদী পার হয়ে মোল্লাহাট উপজেলায় ডুকে পড়ে। সকালে উদয়পুরের গাড়ফা এলাকায় নদীর তীরে মনোয়ার বেগম নামের এক মহিলাকে সুর দিয়ে পেচিয়ে আছাড় দিয়ে আহত করে। পরে পাকা সড়ক দিয়ে হাতিটি বোয়ালিয়া কাহালপুর প্রেট্রোল পাম্পের কাছে অন্য এক মহিলাকে পিষ্ট করে মেরে ফেলে। এক পর্যায়ে ওই হাতিটি পাশের বাসাবাটি গ্রামে গিয়ে হানা দিয়ে তান্ডব শুরু করে। এ সময়ে বাসাবাটি গ্রামের এক মহিলা হাতির পায়ে চাপা পড়ে মারা যায়।

ওসি জানান, ওই হাতির মালিক বাগেরহাটের সার্কাস মালিক আবুল কামাল মোল্লা। এদিকে সার্কাস পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আবুল কালাম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই হাতির মালিক সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকার মতিউর রহমান। একই মালিকের অপর একটি মায়া হাতি, তিনি ভাড়ায় এনে সার্কাস খেলা দেখাচ্ছিলেন। শুক্রবার তার ওই মায়া হাতিটি মালিকের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, গত ৩ দিন আগে ওই পুরুষ হাতিটিকে মায়া হাতির কাছে প্রজনন করার জন্য আনা হয়েছিল। প্রজননের পর মায়া হাতিটি ঢাকার উদ্যেশে শুকবার সকালে রওনা হয়। এসময়ে পুরুষ হাতিটিও তার পিছনে পিছনে যায় বলে তিনি জানান। তবে শুক্রবার মায়া হাতিটি ঢাকার উদ্যেশে চলে গেলেও পুরুষ হাতিটিকে তার মালিক গোপালগঞ্জ রেখে টাকা তুলছিল বলে তিনি জানান। ওই পুরুষ হাতির আক্রমনের শিকার হয়ে ৩ জনের মুত্যুর খরবও তিনি শুনেছেন বলে জানান।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫, ১১:৫৭ এ. এম.

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: