কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জীবন পাল্টে দিয়েছে এক স্কুল ॥ বিয়ের পিঁড়িতে আর বসতে হয় না

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

মাকসুদা বেগম। বয়স ১৪। প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর দিয়ারা কচুয়ায় তার বাড়ি। ওই চরের ‘আসম ফিরোজ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’র ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সে। ওই ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে তার মতো আরও ২শ’ ছাত্রী আছে, যারা এই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়ালেখা করছে। এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে তারা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে। অপরদিকে তাদের জ্ঞানে আলোকিত হচ্ছে গোটা ইউনিয়ন।

একসময় এখানকার মেয়েদের শিশু বয়সেই বিয়ে হয়ে যেত। এখন আর তা হচ্ছে না। মেয়েরা পড়ালেখা করছে। স্কুলটি তাদের বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নটি একসময় নাজিরপুর ইউনিয়নের অংশ ছিল। তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যে এর অবস্থান। উপজেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এখানকার মানুষ কৃষিকাজ আর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে তারা বেঁচে আছে। এখন তারা আলোর নিচে থাকে। সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে প্রতিটি ঘর। এ বিদ্যুত ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে ডিস লাইন। রিমোট টিপে ঘরে বসেই হরেক রকম চ্যানেল দেখছেন তারা। রাজনীতির খবরও রাখছেন বড়রা। ২০১৩ সালে ১১টি গ্রাম নিয়ে এ চরে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। নাম রাখা হয় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন। সাইক্লোন সেল্টার, প্রাইমারি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩০ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও সøুইচ গেট নির্মাণ করা হয়। ফলে দিনে দিনে বদলে যায় চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ছেলেরা বাবার সঙ্গে নদীতে মাছ ধরা কিংবা জমিতে কাজ করা আর মেয়েরা মায়ের সঙ্গে গোবর দেয়া, ঘরের কাজ করাসহ অল্প বয়সে অন্যের ঘরের বউ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। তাদের কথা চিন্তা করেই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর সেই স্কুলটি এখন এলাকার চিত্র বদলে দিয়েছে।

আসম ফিরোজ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এক অভাবনীয় দৃশ্য। এ স্কুলটি যে কোন চরে প্রতিষ্ঠিত, তা মনে হয়নি। মনে হয়েছে, শহরের কোন নামী-দামী স্কুল। প্রত্যেক শিক্ষার্র্থীদের গায়ে স্কুলের ইউনিফর্ম। মেয়েদের সবুজ জমিনের শার্টের উপর সাদা স্কার্ফ। আর ছেলেদের লাল-সবুজ শার্ট। সহজ ও সুন্দর ভাষায় কথা বলছে তারা। মনে হয়নি, এরা কেউ চরের মানুষ।

কথা হয়, এ স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে। তার বাবার নাম শামসুল হক ফরাজী। চর কচুয়ায় বাড়ি। স্কুল থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। চরের রাস্তা পাকা হওয়ায় সে বাড়ির সামনে থেকে টমটমে করে স্কুলে আসে। তার মতো আরও অনেক মেয়ে টমটমে করে স্কুলে আসে। ফাাতেমা জানায়, এখানে স্কুলটি না হলে, আরও আগে হয়ত তার বিয়ে হয়ে যেত।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: