মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চরের চিত্র ॥ শিশুশ্রম আর বাল্যবিয়ে

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

গাইবান্ধার অবহেলিত চরাঞ্চলের শিশুরা চিকিৎসা সুবিধাসহ সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এছাড়া অপুষ্টি ও খাদ্য সংকটের কারণেও তাদের স্বাভাবিক জীবনাচারণ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিশুশ্রম ছাড়াও মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়ের প্রবণতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের একশ’ চারটি চরাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের বেহাল অবস্থা। নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব দুর্গম এলাকায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের দোকান না থাকায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে হঠাৎ করে আক্রান্ত রোগীরা যোগাযোগ সমস্যার কারণে জরুরী চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারাত্মক জটিলতায় পড়ে। এছাড়া দরিদ্র রোগীরা অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় অকালেই ধুঁকে ধুঁকে মরছে।

পরিবারের জ্বালানি সংকট মেটাতে নদীতে ভেসে আসা চরে আটকাপড়া খড়ি কুড়ানো, পানি আনা, চাষাবাদ ও মাছ ধরার কাজে সহায়তা দিয়ে এবং পারিবারিক সীমাহীন দারিদ্র্যের কারণে এখানকার শিশুরা পরিবারের দু’বেলা খাবার যোগাতে শিশুশ্রমে নিয়োজিত হতে বাধ্য হয়। তদুপরি ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যেই চরাঞ্চলের মেয়ে শিশুদের বিয়ে দেয়া হয়। অভিভাবকরা এখনও মনে করেন মেয়েদের বেশি বয়স হলে তাদের বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। এ কারণে শিশু এবং মাতৃ মৃত্যুহারও চরাঞ্চলে বাড়ছে। চরাঞ্চলগুলোতে বাল্যবিবাহ ও বহু বিয়ের প্রবণতা বেশি। জানা গেছে, চরাঞ্চলের শতকরা ৯৮ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এখনও মনে করে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের অবশ্যই বিয়ে দেয়া উচিত। শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে নয়, চরাঞ্চলের পুত্রসন্তানের অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের কম বয়সে বিয়ে দিচ্ছেন এবং তাদের অল্প বয়সী মেয়েদের পুত্রবধূ করে ঘরে তোলার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: