মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মুঠোফোনে কৃষিসেবা

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

পৃথিবী এখন অনেক এগিয়েছে। ইন্টারনেট আর মোবাইলের মাধ্যমে পুরো পৃথিবী এখন হাতের মুঠোতে। মুহূর্তেই আমরা চলে যেতে পারি ধরনীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। নিমিষেই সব কিছুকে মোবাইলের মাধ্যমে নিজের ভুবনে নিয়ে আসতে পারি অনায়াসে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে। কৃষি তাহলে পিছিয়ে থাকবে কেন? ওয়েবসাইট, ইমেইল, মোবাইল কল, এসএমএস, আইভিআর, চ্যাটিং, ফোন-ইন প্রোগ্রাম, এআইসিসি, ফিয়াক, সিআইসি, ইউআইএসসিসহ আরও কত মোবাইল এ্যাপস। আর নতুন করে এলো কল সেন্টার। কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস ও প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে চালু হয়েছে কল সেন্টার। জুন ০৪, ২০১৪ ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৪ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করেন। এইদিন কৃষিমন্ত্রীর দূর কথনের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আমাদের কৃষি কল সেন্টারের। নতুন আলোকিত পথের গর্বিত যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের এই এক বিরাট সাফল্যগাথা। কৃষকরা এতদিনে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ পেল বিনাপয়সার। কৃষি তথ্য সেবা প্রযুক্তি জেনে নিতে পারবে ১৬১২৩-এর মাধ্যমে।

আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে যেখানে কৃষিবিষয়ক কোন তথ্য পেত রেডিওর মাধ্যমে। কৃষকরা সন্ধ্যার পর কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান শুনত। পরদিন সেটা যখন জমিতে প্রয়োগ করতে যেত তখন কিছু বিষয় কৃষদের বোধগম্য হতো না। কিন্তু এখন মুঠোফোনের মাধ্যমে তার সমাধান হচ্ছে। কৃষকরা ক্ষেতে বসেই চাষের সমস্যার কথা মুঠোফোনের মাধ্যমে তথ্য প্রদানকারীদের তথ্য নিয়ে তা জমিতে বা ফসল উৎপাদনে প্রয়োগ করতে পারছেন। ফলে ফসল উৎপাদনে আর কোন সমস্যা থাকল না। শুধু তাই নয়, অতীতে কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন মহাজন ফড়িয়াদারদের পাল্লায় পড়ে। এখন আর সেই সুযোগ নেই। মোবাই ফোনের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারছেন শহরের বাজার মূল্য। কোন্ পণ্যের চাহিদা বেশি। সেভাবেই কৃষকরা পাচ্ছেন তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য।

কৃষি খামার ব্যবস্থাপনার বাণিজ্যিকীকরণ, বৈচিত্র্যতা, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব, শস্যবহুমুখীকরণ ও নিবিড় কৃষি, কৃষি ব্যয় কমানো এগুলো বর্তমানের ইস্যু। কৃষি ও কৃষকের ক্রমবর্ধমান জ্ঞানচাহিদা ও কৃষিবিষয়ক দৈনন্দিন সমস্যা মেটানো স্থানীয়ভাবে বংশপরম্পরায় অর্জিত জ্ঞান দিয়ে কৃষিবিষয়ক সমস্যার সমাধান রীতিমতো দুরূহ হয়ে পড়েছে। কৃষিতে আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কৃষির সনাতনী জ্ঞান এখন আর যথেষ্ট নয়। চলমান সময়ে কৃষককে নিজের জ্ঞান-অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অনেকখানি নির্ভর করতে হয় উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানের ওপর, যা তাঁদের তাৎক্ষণিক কার্যকর সমাধান দিচ্ছে। কৃষক তাঁর জমির ফসল, আঙ্গিনার শাক-সবজি, ফল-মূল, পুকুরের মাছ ও গোয়ালঘরের গবাদিপশুকে রক্ষা করবেন। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়. আইলা, সিডর, নার্গিস, মহাসেন বা যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য বা সংঘটিত ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। এক সময় কৃষক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ব্লক সুপারভাইজারদের কাছ থেকেই কৃষিবিষয়ক পরামর্শ নিতেন। কিন্তু এখন তা পাল্টে গেছে সময়ের চাহিদার কারণে ভিন্নরূপে। সে সময়ের ব্লক সুপারভাইজাররা এখন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, যাদের হাতে থাকে মোবাইল, কেউ কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমেও হালনাগাদ থাকেন কৃষিবিষয়ক তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানে। বর্তমানে দেশের প্রায় ২ কোটি কৃষক ও উদ্যোক্তার জন্য কম খরচে উন্নত তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে আইসিটি বিশেষ করে মোবাইল ফোন। কৃষি উৎপাদন, অভিযোজন, ব্যবস্থপনা, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এসব সহায়তার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনভিত্তিক কল সেন্টারগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। দেশে বর্তমানে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। এত কোটি কোটি গ্রাহকের মধ্য থেকে যদি কিছু গ্রাহককে কৃষির তথ্যপ্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে কৃষি ব্যবস্থায় আরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে। শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক উদ্যোগ ও ব্যবসা ক্ষেত্রে কল সেন্টার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি কল সেন্টার একটি ডিজিটাল কৃষি সেবা কার্যক্রম। এ সেন্টারের বিশেষ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে আছে, কৃষকদের জন্য কম সময়ে দ্রুত চাহিদামাফিক কৃষি তথ্য সেবা দেয়া, বৃহত্তর কৃষি ফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পুষ্টি ও আবহাওয়া বিষয়ে তথ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদদের তাৎক্ষণিক সহজ-সরল পরামর্শ এবং সরাসরি সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত বলা এবং কাক্সিক্ষত সেবা নেয়া এবং কৃষকদের জন্য স্থানীয়ভাবে সহজে প্রাপ্য সহযোগী কনটেন্ট করা।

আবু সুফিয়ান কবির

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: