আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নজরুলের যত্তো মজার কাণ্ড

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫
  • জাফর ওয়াজেদ

কবি নজরুল একবার সিরাজগঞ্জে সাহিত্যিক আসাদউদৌলা সিরাজীর আমন্ত্রণে বেড়াতে গেছেন। দুপুরে খাবার পাতে সিরাজী নিজেই ইলিশ মাছ ভাজা দিচ্ছেন সবার পাতে। কবি এক টুকরো খাবার পর তাঁর পাতে আরও কয়েক টুকরো ইলিশ দিতে গেলে কবি বাধা দিয়ে বলেন, আরে আরে করছো কী, আমারে অত্তো ইলিশ দেবে না। শেষকালে বিড়ালে কামড়াবে যে। সবাই অবাক। কবি বললেন, ইলিশের গন্ধ মুখে লালা ঝড়ায়। বিড়াল সেই ঘ্রাণে হয় মাতাল। বেশি খেলে যে সারাদেহ হতে গন্ধ ছড়াবে। আর সে গন্ধ পেয়ে বিড়াল তেড়ে আসবে। শুনে হাসির হুল্লোড় বয়ে যায়। খাবার শেষে দই মুখে দিয়ে কবি মুখ কুঁচকান যেন। গৃহকর্তাকে বললেন, কী হে তুমি এই দই তেঁতুল গাছ থেকে পেড়ে নিয়ে এলে নাকি? আবারও হাসির ফোয়ারা।

একবার কবি এলেন ফরিদপুরে। রাতে আরেক কবি জসীম উদ্দীন বসালেন গ্রামে জলসা। গান গাইতে গাইতে চা চাইলেন কবি। কিন্তু চা পাবে কই? চারপাশের গ্রামে কেউ চা দেখেনি। অবশেষে কলকাতায় যাতায়াতকারী এক ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেল শুকনো ঘাস মেশানো চাপাতা। কলকাতা হতে আনা পাতা কমে গেলে ঘাস মেশাতেন। পাতা দেখে কবি খুশি। কিন্তু রাঁধবে কে? গ্রামের বউরা মিলে অবশেষে তাদের সমস্ত রন্ধনবিদ্যা উজার করে চা রাঁধলেন। সে চা খেয়ে কবির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। গ্রাম্য চাষীর বাড়িতে যত রকমের তরকারি রান্না হয়, চায়ের মধ্যে তার সবগুলোর উপকরণ মেশানো। চায়ে লংকার পরিমাণও কম ছিল, তা নয়। এই চায়ের বর্ণনা কবি বহুজনকে বর্ণনা করেছেন পরে।

নজরুল তখন কলকাতায় গ্রামোফোন কোম্পানিতে চাকরি করেন। অফিসে যাবার পথে প্রতিদিন দু’টি কিশোর তার দৃষ্টি কাড়ত। ওরা গলা ধরাধরি করে স্কুল যেত। একজন ছিল মোটা আর বেঁটে, অপরজন ছিল ছিপছিপে লম্বা ও টিনটিনে শুকনো, যেন তালপাতার সেপাই। এদের দেখে বেশ আমোদ জাগত কবির মনে। লিখলেন তাদের নিয়ে ছড়া-“মটকু মাইতি বাঁটকুল রায় / ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যায় /বেঁটেখাটো নিটপিটে পায় /”।

১৯২১ সালে কুমিল্লায় নজরুল ইন্দ্র সেনগুপ্তের বাড়িতে অঞ্জলি নামে ফুটফুটে একটি মেয়েকে দেখতেন পেয়ারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হাত-পা নেড়ে কার সঙ্গে কথা বলছে। কবি ভাবলেন গাছে যে রয়েছে, সে হয়তো তাকে পেয়ারা দিচ্ছে না। গাছের নিচে গিয়ে দেখেন কেউ নেই গাছে। জিজ্ঞেস করেন, কার সঙ্গে কথা বলছো? বল্ল অঞ্জলি, ওই দুষ্টু কাঠবিড়ালির সঙ্গে। প্রতিদিন পেয়ারা খেয়ে পালিয়ে যায় দুষ্টুটা। একটাও খেতে দেয় না। সেই ঘটনা নিয়ে লিখলেন ‘খুকি ও কাঠবিড়ালী’ নামক ছড়া।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: